পর্যটকদের দ্বীপে যাতায়াত নিয়ে অনিশ্চয়তা

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে নতুন বাধা

আপলোড সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০৩:৫৬:২১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০৩:৫৬:২১ অপরাহ্ন
পহেলা নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণের সুযোগ চালু হয়েছে। তবে এখনো কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি পায়নি। কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথের ৭টি জাহাজ রুট পারমিট চেয়ে আবেদন করলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় সেগুলোর কোনোটিকে অনুমোদন দেয়নি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। ফলে ভ্রমণের সুযোগ চালু হওয়ার পরও পর্যটকদের দ্বীপে যাতায়াত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলের জন্য ৭টি পর্যটকবাহী জাহাজের মালিকপক্ষ রুট পারমিট ও সময়সূচি অনুমোদনের আবেদন করেছে। তবে আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সনদ ও নথিপত্র জমা না দেওয়ায় অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে সোমবার (২ নভেম্বর) জাহাজ মালিকদের চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলেছে সংস্থাটি।

বিআইডব্লিউটিএর নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক সালমা আক্তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া ও এমভি টেকনাফের মালিকপক্ষ গত ৬ ও ৭ অক্টোবর রুট পারমিট ও সময়সূচি অনুমোদনের জন্য আবেদন করে। এসব জাহাজের অনুকূলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মতিপত্র পাওয়া গেছে। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলের অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে এমভি কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন, এমভি কেয়ারি সিন্দাবাদ, এলসিটি কাজল ও এমভি বে-কুইজার-১-এর মালিকপক্ষ গত ২৬ ও ২৭ অক্টোবর আবেদন করে। এসব জাহাজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাছে নীতিগত সম্মতি চেয়ে চিঠি পাঠানোও সম্ভব হয়নি। ফলে সাতটি জাহাজের কোনোটিরই রুট পারমিট ও সময়সূচি অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।

চিঠিতে জাহাজ মালিকদের হালনাগাদ সার্ভে সার্টিফিকেট, রুট পারমিট ফি জমার প্রমাণ, কনজারভেন্সি ছাড়পত্র, ভয়েজ লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় সব নথি জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র চট্টগ্রাম বিভাগ ও কক্সবাজার নদীবন্দরের উপপরিচালক নয়ন শীল জানান, কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক পরিবহনের জন্য জাহাজগুলোকে বিআইডব্লিউটিএর রুট পারমিট নিতে হয়।

এদিকে টেকনাফের পৌর জামায়াতের সাবেক মেয়র মো. ইসমাইল বলেন, টেকনাফ রুট ছাড়া সেন্টমার্টিন ভ্রমণ একেবারেই অপূর্ণ। কক্সবাজার থেকে জাহাজ চালানোয় পর্যটকদের সময় লাগছে তিনগুণ, খরচ হচ্ছে দ্বিগুণ, সেইসঙ্গে ভোগান্তি বেড়েছে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী জানান, পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নির্ধারিত শর্তগুলো পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার পরই জাহাজ চলাচলের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন ভ্রমণে সরকারের জারি করা শর্তের কোনো ব্যত্যয় যাতে না ঘটে, সে লক্ষ্যে ট্যুরিজম বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :