শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট, বর্ষায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন এবং ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের এসব সংকট মোকাবেলায় বড় সম্ভাবনা তৈরি করছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদ-নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধার, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হিসাবে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় সাত হাজার ১২৭ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যাবে। মাছের উৎপাদন বাড়বে প্রায় আড়াই লাখ টন।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন, পদ্মা ব্যারাজের কাজ এগিয়ে নিতে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজের উদ্বোধন করবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে কাজ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। পানি ভবনে এ প্রকল্পের জন্য আলাদা অফিস করা হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর পাংশার হাবাসপুর এবং ২৫ অক্টোবর পাবনার সুজানগরের সাতবাড়িয়া কাঞ্চনপার্ক এলাকায় প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন তারা।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের চার বিভাগের ১৯ জেলার ১২০টি উপজেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন।
কৃষি ও অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
একসময় প্রাণবন্ত ছিল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদীগুলো। তবে ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় এ অঞ্চলের নদীব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব পড়ে। হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতী ও বড়ালসহ অনেক নদী নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে।
নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় পলি জমা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দেয়। সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা বাড়ায় পানির স্তরও নিচে নামছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, নৌ-যোগাযোগ ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য। এ পরিস্থিতিতে কয়েক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা প্রভাবিত হচ্ছে।
এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।
গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। পুরো অর্থায়ন করা হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। চলতি বছরের জুলাইয়ে কাজ শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকল্পের ব্যয় আরো বাড়তে পারে।
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় নির্মিত হবে প্রকল্পের মূল অবকাঠামো। পদ্মা নদীর ওপর প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারস্লুইস, দুটি ফিশ পাস, নৌ-লক, গাইড বাঁধ ও অ্যাপ্রোচ বাঁধ। প্রায় দুই হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জি-কে) সেচ প্রকল্প এবং প্রস্তাবিত উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্পেও পানি সরবরাহ বাড়বে।
প্রকল্পের আওতায় খুলনা বিভাগের ১০টি, ঢাকা বিভাগের তিনটি, রাজশাহী বিভাগের পাঁচটি এবং বরিশাল বিভাগের একটি জেলা রয়েছে। এসব অঞ্চলের নদ-নদীতে পানিপ্রবাহ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে লবণাক্ততা কমানো এবং সুন্দরবনে মিঠাপানির সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
এ ছাড়া যশোরের ভবদহসহ বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভূগর্ভস্থ পানির পুনঃসঞ্চয়ন এবং আর্সেনিক দূষণ কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বুয়েটের বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাশফিকুস সালেহীন বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে সুপেয় পানির সংকট বাড়ছে। ভবিষ্যতে সুন্দরবনসহ এ অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য আরো ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ অবস্থায় মিঠাপানির সরবরাহ ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে পদ্মা ব্যারাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত হবে এবং পানি ও মাটির লবণাক্ততা কমবে। তবে নির্মাণের ক্ষেত্রে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পলি জমা, নদীভাঙন এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
অন্যদিকে সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী ও পদ্মা ব্যারাজ-দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, ফারাক্কার প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, নৌ-যোগাযোগ, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সংকট মোকাবেলায় পদ্মা ব্যারাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথম এ ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এ বিষয়ে উদ্যোগ নেন। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।
পাউবোর হিসাবে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে সাত হাজার ১২৭ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তবে প্রকল্পের সুফল পেতে পানি সংরক্ষণের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হিসাবে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় সাত হাজার ১২৭ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যাবে। মাছের উৎপাদন বাড়বে প্রায় আড়াই লাখ টন।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন, পদ্মা ব্যারাজের কাজ এগিয়ে নিতে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজের উদ্বোধন করবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে কাজ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। পানি ভবনে এ প্রকল্পের জন্য আলাদা অফিস করা হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর পাংশার হাবাসপুর এবং ২৫ অক্টোবর পাবনার সুজানগরের সাতবাড়িয়া কাঞ্চনপার্ক এলাকায় প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন তারা।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের চার বিভাগের ১৯ জেলার ১২০টি উপজেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন।
কৃষি ও অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
একসময় প্রাণবন্ত ছিল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদীগুলো। তবে ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় এ অঞ্চলের নদীব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব পড়ে। হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতী ও বড়ালসহ অনেক নদী নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে।
নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় পলি জমা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দেয়। সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা বাড়ায় পানির স্তরও নিচে নামছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, নৌ-যোগাযোগ ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য। এ পরিস্থিতিতে কয়েক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা প্রভাবিত হচ্ছে।
এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।
গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। পুরো অর্থায়ন করা হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। চলতি বছরের জুলাইয়ে কাজ শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকল্পের ব্যয় আরো বাড়তে পারে।
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় নির্মিত হবে প্রকল্পের মূল অবকাঠামো। পদ্মা নদীর ওপর প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারস্লুইস, দুটি ফিশ পাস, নৌ-লক, গাইড বাঁধ ও অ্যাপ্রোচ বাঁধ। প্রায় দুই হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জি-কে) সেচ প্রকল্প এবং প্রস্তাবিত উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্পেও পানি সরবরাহ বাড়বে।
প্রকল্পের আওতায় খুলনা বিভাগের ১০টি, ঢাকা বিভাগের তিনটি, রাজশাহী বিভাগের পাঁচটি এবং বরিশাল বিভাগের একটি জেলা রয়েছে। এসব অঞ্চলের নদ-নদীতে পানিপ্রবাহ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে লবণাক্ততা কমানো এবং সুন্দরবনে মিঠাপানির সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
এ ছাড়া যশোরের ভবদহসহ বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভূগর্ভস্থ পানির পুনঃসঞ্চয়ন এবং আর্সেনিক দূষণ কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বুয়েটের বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাশফিকুস সালেহীন বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে সুপেয় পানির সংকট বাড়ছে। ভবিষ্যতে সুন্দরবনসহ এ অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য আরো ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ অবস্থায় মিঠাপানির সরবরাহ ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে পদ্মা ব্যারাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত হবে এবং পানি ও মাটির লবণাক্ততা কমবে। তবে নির্মাণের ক্ষেত্রে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পলি জমা, নদীভাঙন এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
অন্যদিকে সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী ও পদ্মা ব্যারাজ-দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, ফারাক্কার প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, নৌ-যোগাযোগ, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সংকট মোকাবেলায় পদ্মা ব্যারাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথম এ ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এ বিষয়ে উদ্যোগ নেন। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।
পাউবোর হিসাবে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে সাত হাজার ১২৭ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তবে প্রকল্পের সুফল পেতে পানি সংরক্ষণের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন