শুরুতেই লোকসানের শঙ্কায় আগাম পেঁয়াজ চাষি

আপলোড সময় : ৩০-১০-২০২৬ ০৩:৪৫:২৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩০-১০-২০২৬ ০৩:৪৫:২৬ অপরাহ্ন
 রকারি দাম এক হাজার ৫০ টাকা, অথচ কিনতে হচ্ছে এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায়। তাতেও মিলছে না প্রয়োজনমতো সার।
 
পেঁয়াজ বীজ, শ্রমিকের মজুরি, সেচ ও জ্বালানির বাড়তি খরচে এমনিতেই চাপে ফরিদপুরের পেঁয়াজচাষিরা। এর মধ্যে সার নিয়ে ভোগান্তিতে মৌসুমের শুরুতেই দেখা দিয়েছে উৎপাদন ও মুনাফায় অনিশ্চয়তা।

কৃষকদের অভিযোগ, বেশি দাম দিয়েও চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। তবে জেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুস সোবহান বাবু বলছেন, জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই।

কৃষকের অভিযোগ আর ব্যবসায়ী নেতার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাড়তি দাম দিয়েও সার পেতে ভোগান্তি কেন। 

ফরিদপুর সদরের অম্বিকাপুর, চর মাধবদীয়া, গোলডাঙ্গীচর, সালথা, মধুখালী ও বোয়ালমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন মুড়িকাটা পেঁয়াজ (আগাম পেঁয়াজ)-এর আবাদ নিয়ে ব্যস্ত কৃষক। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর জমি প্রস্তুত, গুটি রোপণ ও সার প্রয়োগের কাজ চলছে। 

কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময় প্রয়োজনীয় সার না পেলে আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আবার বেশি দামে সার কিনলে শুরুতেই উৎপাদন খরচ বাড়ে।

প্রান্তিক কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫০ কেজির ডিএপি সারের সরকারি নির্ধারিত দাম এক  হাজার ৫০ টাকা, কিন্তু কোথাও কোথাও বস্তাপ্রতি এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। সে হিসেবে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকা। 

অন্যদিকে, প্রতিমণ পেঁয়াজের গুটি কিনতে ব্যয় হচ্ছে দুই হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে জমি প্রস্তুত, রোপণ, সেচ, শ্রমিকের মজুরি ও পরিচর্যা খরচ।

বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামের কৃষক মাফি মোল্লা বলেন, ডিলারের কাছে সার আনতে গেলে বলা হচ্ছে, ‘সার নেই, ডিও করা হয়েছে; পরে আসবে’। প্রয়োজনের সময় সার না পেলে চাষাবাদ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। 
 
একই উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের মালিখালী গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, সার কিছুটা পাওয়া গেলেও বেশি দাম দিতে হচ্ছে। এক হাজার ৫০ টাকার সারের বস্তা কিনতে হচ্ছে এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৭০০ টাকায়।

ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর মাঠের কৃষক রহিম মোল্লা, আবুল কালাম ও জাকির শেখসহ একাধিক চাষিদের ভাষ্য, উৎপাদনের উপকরণের দাম বাড়লেও পেঁয়াজ বিক্রির সময় ন্যায্য দাম পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। ফলন কম হলে কিংবা বাজারে দাম পড়ে গেলে বাড়তি বিনিয়োগের অর্থ তোলা কঠিন হবে।

চর মাধবদীয়ার কৃষক তুহিন মণ্ডল, আজমল ব্যাপারী ও হোসেন শেখেরও একই উদ্বেগ। তাদের দাবি, মৌসুমের শুরুতেই ন্যায্য মূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জ্বালানির সহজলভ্যতা, কৃষি উপকরণের বাজার তদারকি এবং উৎপাদন খরচ বিবেচনায় পেঁয়াজের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা জরুরি।

কৃষকদের অভিযোগের বিপরীতে ফরিদপুর জেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুস সোবহান বাবু বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে দাবি করেন, জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই। সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করেই সার কেনাবেচা করা হয়। 

তিনি বলেন, গ্রামপর্যায়ে কোনো কোনো সময় দামের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি থাকতে পারে। তবে যারা  নতুন ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের  অনেকেই ব্যবসায়ী না হওয়ায় ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। 

কৃষকদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে এই বক্তব্যের পার্থক্য থাকায় সারের সরবরাহ ও মূল্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলায় পর্যাপ্ত সার থাকলে কৃষক  প্রয়োজনের সময় তা পাচ্ছেন কিনা, সরকারি দরের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে কিনা এবং ডিলারদের বরাদ্দ অনুযায়ী সার বিক্রি হচ্ছে কিনা, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

ফরিদপুর কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাড. মানিক মজুমদার বলেন, সরকার বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দিলেও কৃষক প্রয়োজনের সময় সার, ‘কীটনাশক ও অন্যান্য উপকরণ না পেলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’ সারের বাজার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে কৃষকদের ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহে কর্মকর্তাদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।

ফরিদপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, শীতকালীন বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়াতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ সময় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকে। তাই ফরিদপুর ও পাবনার আগাম পেঁয়াজ চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। এ পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হলে বাজারে দামের ওপরও প্রভাব পড়ে।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহাদুজ্জামানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার ৮৮৫ হেক্টর। 

তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উৎপাদনের উপকরণ সরবরাহ, চাষিদের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে জৈব সার ব্যবহারে তাদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :