চার দিনেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি মাটির সেই আগুন

আপলোড সময় : ৩০-১০-২০২৬ ১১:৩৯:২৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ৩০-১০-২০২৬ ১১:৩৯:২৪ পূর্বাহ্ন
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের স্থান থেকে নির্গত গ্যাসে লাগা আগুন চার দিনেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে আগুনের সূত্রপাত হলেও শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত তা জ্বলতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

আগুন দেখতে প্রতিদিনই ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। এতে সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষের চলাচল ও জমায়েত নিয়ন্ত্রণে রাখছে প্রশাসন।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) জানিয়েছে, ভূগর্ভস্থ গ্যাসের আধার থেকে উচ্চচাপে গ্যাস বেরিয়ে আসছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গ্যাসের প্রকৃতি ও উৎস নিশ্চিত হতে নমুনা বিশ্লেষণ প্রয়োজন। আগুন ও গ্যাস নির্গমনের কারণে এখনো গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাত দিন সময় নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ দল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসিন্দা আব্দুল্লাহ প্রায় ১৫ দিন আগে ওই স্থানে নলকূপ খননের কাজ শুরু করেন। মঙ্গলবার ভোরে হঠাৎ খননস্থল থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে। পরে বৈদ্যুতিক তার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর থেকে অব্যাহতভাবে গ্যাস নির্গমন ও আগুন জ্বলছে।

ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাপেক্সের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। পরদিন বুধবার বাপেক্সের ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের দলনেতা এস এম নাফিকুন আরহামের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ দল আবারও ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় আশপাশের পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি মাটি, পাথর ও পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

এস এম নাফিকুন আরহাম জানান, প্রায় এক হাজার ফুট গভীরতা পর্যন্ত খনন করা হয়েছিল। তবে খননের সময় গ্যাসের উপস্থিতি বোঝা যায়নি। মঙ্গলবার ভোর থেকে গ্যাসের অস্তিত্ব অনুভূত হওয়ার পর তা আগুনের শিখা আকারে জ্বলতে শুরু করে। শুধু নলকূপের স্থান নয়, আশপাশের বিভিন্ন জায়গা দিয়েও গ্যাস বের হচ্ছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

গ্যাসের উপাদান সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসে সাধারণত মিথেনের পাশাপাশি ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন ও পেন্টেনের মতো হাইড্রোকার্বন থাকতে পারে। তবে ইনানীর গ্যাসের সঠিক উপাদান পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। আগুনের রং ও ধোঁয়ার ধরন দেখে উচ্চতর হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এটি নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানান বাপেক্সের এই কর্মকর্তা।

আগুন নেভানোর বিষয়ে এস এম নাফিকুন আরহাম বলেন, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাস জ্বলতে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাস নির্গমন অব্যাহত থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ‘রিলিফ ওয়েল’ খনন করে ভূগর্ভে সিমেন্ট পাম্পের মাধ্যমে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

তিনি আরও জানান, আগামী সাত দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল। এরপর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :