মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

আপলোড সময় : ২৭-১০-২০২৬ ০২:৪২:৫২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-১০-২০২৬ ০২:৪২:৫২ অপরাহ্ন
ডেমোক্রেটিক পার্টির তৈরি একটি প্রতিবেদনে মডেল ও সাবেক মিস সুইজারল্যান্ড বিয়াট্রিস কেউল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন। 

২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কিছুদিন আগে কেউল অভিযোগ করেছিলেন, ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প তাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন।

এখন তিনি দাবি করেছেন, ওই ঘটনার সময় ট্রাম্প তাকে ধর্ষণও করেছিলেন। দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (২৬ আক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপেস্টাইনের অপরাধের সঙ্গে ট্রাম্পের কথিত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের তদন্তের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

তবে হোয়াইট হাউস প্রতিবেদনটিতে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে। 

হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেন, এসব অভিযোগ ডেমোক্র্যাটদের একটি মরিয়া প্রচেষ্টা। তার দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাফল্যের কারণে রিপাবলিকানদের প্রতি মানুষের সমর্থন বাড়ছে। সেই অগ্রগতি থেকে মার্কিন জনগণের মনোযোগ সরাতেই ডেমোক্র্যাটরা এসব অভিযোগ তুলছে।

ডেমোক্র্যাটিক কমিটির কর্মীদের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরে সাক্ষাৎকারে বিয়াট্রিস কেউল জানান, ২৪ বছর বয়সে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। সে সময় হোটেলটির মালিক ছিলেন ট্রাম্প।

বিয়াট্রিস কেউলের দাবি অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ভিসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার এবং নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে (এনওয়াইইউ) ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্প তাকে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার খেয়াল রাখব।’

বিয়াট্রিস কেউলের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথন শেষ হওয়ার পরপরই জেফরি এপেস্টাইন তার কাছে আসেন।

এপেস্টাইন নিজেকে ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে ভালো বন্ধু’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং তাকে মার-এ-লাগোতে একটি পার্টিতে আমন্ত্রণ জানান। কেউলের ভাষ্য অনুযায়ী, এপেস্টাইন তাকে বলেছিলেন, ‘আমরা ডনের (ট্রাম্পের) সঙ্গে অনেক পার্টির আয়োজন করি।’ 

ট্রাম্পের দাবি, এপেস্টাইনের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠার অনেক আগেই তিনি তার সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিন্ন করেছিলেন। ট্রাম্প এপেস্টাইনকে বারবার ‘অদ্ভুত লোক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, তিনি এপেস্টাইনকে নিজের মার-এ-লাগো ক্লাব থেকেও বের করে দিয়েছিলেন।

ডেমোক্র্যাটদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন প্রতিনিধি বিয়াট্রিস কেউলকে প্লাজা হোটেলের ওপরের তলায় ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, প্লাজা হোটেলের কক্ষে প্রবেশের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প পেছন থেকে বিয়াট্রিস কেউলকে জাপটে ধরে ধর্ষণ করেন। এ সময় তার পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তপাত ও কালশিটে পড়ে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, কেউল কথিত ধর্ষণের ঘটনাটিকে ‘নিষ্ঠুর’ বলে বর্ণনা করেছেন।

কেউলের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার পর ট্রাম্প তাকে বিছানার কিনারায় বসান এবং ভিসা ও নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে (এনওয়াইইউ) ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আবারও দেন। পাশাপাশি, তাকে বিষয়টি গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ। এ সময় ট্রাম্প তাকে বলেছিলেন, ‘অনুষ্ঠান চলতেই থাকবে।’

২০২৪ সালের অক্টোবরে করা প্রাথমিক অভিযোগে বিয়াট্রিস কেউল দাবি করেন, ১৯৯৩ সালে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন। ওই সময় দ্য ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেউল বলেন, ‘তিনি আমার ঠোঁটে ও ঘাড়ে চুমু খেয়েছিলেন। তিনি আমার পোশাক খুলে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। আমার শরীরের যেখানে পেরেছেন, সেখানে জড়িয়ে ধরেছেন ও স্পর্শ করেছেন।’

সংবাদপত্রটি আরো জানিয়েছে, তার এক দীর্ঘদিনের বন্ধু বলেছেন, মিস কেউল ২০ বছর আগে তাকে ট্রাম্পের যৌন হয়রানির ঘটনাটি প্রথম বলেছিলেন এবং এত বছরেও ঘটনাটি সম্পর্কে তার বর্ণনায় কোনো পরিবর্তন আসেনি।

এর আগে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের তৎকালীন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট এসব অভিযোগকে ‘ভুয়া’ বলে অভিহিত করেছিলেন। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেছেন, জেফরি এপস্টাইন-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ থেকে ট্রাম্প ‘সম্পূর্ণভাবে অব্যাহতি পেয়েছেন’।

মুখপাত্র আরো বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐতিহাসিক সাফল্যের কারণে রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থন বাড়ছে। সেই অগ্রগতি থেকে মার্কিন জনগণের মনোযোগ সরানোর জন্য ডেমোক্র্যাটরা মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। এই প্রতিবেদন তারই একটি উদাহরণ।’

সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরো চার নারীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, যারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প, জেফরি এপস্টাইন ও তাদের সহযোগীরা প্লাজা হোটেলে আয়োজিত সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাটিকে তরুণী ও কিশোরীদের যৌন শোষণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের শীর্ষ প্রতিনিধি জেমি রাসকিন বলেন, ‘পাঁচজন নারী সরাসরি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এপস্টাইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবস্থায় বা এপস্টাইনের উপস্থিতিতে ধর্ষণ কিংবা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। অন্য নারীরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এপস্টাইন বা ম্যাক্সওয়েল তাঁদের ট্রাম্পের কাছে পাচার করার চেষ্টা করেছিলেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রেসিডেন্টকে রক্ষা করতে ট্রাম্পের বিচার বিভাগ এসব অপরাধের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে।’

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :