জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির

আপলোড সময় : ২৬-১০-২০২৬ ০৪:১৪:৫২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৬-১০-২০২৬ ০৪:৪৯:২৮ অপরাহ্ন
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর সারা দেশে র‍্যালি করবে বিএনপি। এদিন সকাল ৬টায় সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে পতাকা উত্তোলন এবং বেলা ১১টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন দলের নেতারা। এ ছাড়া আলোচনা সভা, পোস্টার প্রকাশ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করবে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির যৌথসভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কর্মসূচির কথা জানান দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। 

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ দিনের চেতনা হচ্ছে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার চেতনা।

তার ভাষ্য, ১৯৭৫ সালের আগে দেশে রাজনৈতিক সংঘাত ও নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব সংঘটিত হয়। ৭ নভেম্বরের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন।

১৯৭১ সালে কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে জিয়াউর রহমান জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ৭ নভেম্বরের পর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে আসে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর চারটি সংবাদপত্র রেখে অন্যগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এতে বহু সাংবাদিক বেকার হয়ে পড়েন। পরে সংবাদপত্র ও রাজনৈতিক দলগুলো আবার কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পায়।

দেশে গণতন্ত্রের পথচলা বিভিন্ন সময় বাধাগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী শেখ হাসিনার শাসনামলের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, ওই সময় রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করে বিরোধী মত দমনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা দমন করা সম্ভব হয়নি।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা জুলাই আন্দোলনকে প্রভাবিত করেছে। তাঁর ভাষ্য, ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে অংশ নেন। এর মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্রের পথ আবারও উন্মুক্ত হয়।

রিজভী বলেন, ভবিষ্যতে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে ৭ নভেম্বরের চেতনা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করবে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সব মতের অধিকার রক্ষায় এ দিনের তাৎপর্য গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মসূচি সম্পর্কে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে কর্মসূচির খসড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় ঢাকাসহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করা হবে। এরপর ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও র‍্যালি আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

এদিন বেলা ১১টায় জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন দলের নেতারা। এ ছাড়া বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন পোস্টার প্রকাশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করবে। ছাত্রদল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করবে।

আলোচনা সভার সম্ভাব্য তারিখ ৬ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে রিজভী বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যানের সম্মতি পাওয়া গেলে ওই দিন সভা হবে। অন্যথায় তিনি যে তারিখ নির্ধারণ করবেন, সেদিনই সভা হবে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :