​অতিরিক্ত ভেপিংয়ের কারণে আমার কণ্ঠস্বর বদলে গেছে: সেলেনা

আপলোড সময় : ২১-১০-২০২৬ ০৩:৪৯:২৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-১০-২০২৬ ০৩:৪৯:২৬ অপরাহ্ন
গায়কী ও অভিনয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত মার্কিন তারকা সেলেনা গোমেজ সম্প্রতি এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে নিজের ভেপিং বা ই-সিগারেট টানার অভ্যাস ও এর ফলে তার কণ্ঠস্বরে আসা পরিবর্তন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। 

৩৪ বছর বয়সি এই তারকা স্বীকার করেছেন যে, অতিরিক্ত ভেপিংয়ের কারণে তার কণ্ঠস্বর বদলে গেছে এবং নিকোটিনের নেশা ছাড়ানো কতটা কঠিন, তা তিনি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। 

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ওই ভিডিও বার্তায় সেলেনা বলেন, ‘আমি আমার কণ্ঠস্বর আগের মতো আর বদলাতে পারব না। আমি প্রচুর নিকোটিন ভেপ করেছি।’ 

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে অন্যদের সতর্ক করে তিনি যোগ করেন, ‘নিকোটিনের নেশা ছাড়া ভীষণ কঠিন। যারা এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বা যারা নতুন ভেপিং শুরু করার কথা ভাবছেন, তাদের বলব—এটি একেবারেই বোকামি এবং এর কোনো মূল্য নেই।’ 

হাসতে হাসতে তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি খুবই বোকামি ছিল এবং এর জন্যই আমার কণ্ঠস্বর বদলে গেছে। তাই আপনাদের যদি আমার কণ্ঠ শুনতে ভালো না লাগে, তবে তা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই।’ 

উল্লেখ্য, সেলেনার কণ্ঠস্বর পরিবর্তন নিয়ে ভক্তদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। অনেকেই খেয়াল করেছেন যে তার কণ্ঠ আগের চেয়ে বেশ কিছুটা গম্ভীর বা ভারী হয়েছে।

এর আগে গত ডিসেম্বরে এক ইনস্টাগ্রাম প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানিয়েছিলেন, অটোইমিউন রোগ ‘লুপাস’-এর কারণে প্রায়ই তার কণ্ঠনালীতে সমস্যা হয়। চিকিৎসকদের মতে, লুপাসের কারণে স্বরযন্ত্রের চারপাশে প্রদাহ হতে পারে, যার ফলে কণ্ঠস্বর বসে যাওয়া, কর্কশ বা ঘড়ঘড়ে হয়ে যাওয়া—এমনকি ঠান্ডা লাগার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। 

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন আসাও স্বাভাবিক, তবুও অনেক ভক্ত ইউটিউবে তার পুরনো ও নতুন কথা বলার স্টাইল নিয়ে বিভিন্ন তুলনামূলক ভিডিও তৈরি করে আলোচনা করেছেন। 

তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ওই ভিডিওতে সেলেনা জানিয়েছেন যে তিনি সফলভাবে নিকোটিন ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই আনন্দিত যে আমি এটি বন্ধ করতে পেরেছি এবং আশা করি আমি এটি ধরে রাখতে পারব।’ 

সেলেনার এই স্বীকারোক্তির পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ২০১৫ সালে নিজের লুপাসের কথা প্রথম প্রকাশ করা এই তারকা ২০১৭ সালে বন্ধু ফ্রানসিয়া রাইসার কাছ থেকে কিডনি প্রতিস্থাপন করিয়েছিলেন, যা তার রোগটিকে কিছুদিন নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল। তবে পরবর্তীতে তার স্বাস্থ্য নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়।

সেলেনার ভেপিংয়ের কথা জানার পর সামাজিক মাধ্যমে কিছু অনুরাগী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একজন লেখেন, ‘ফ্রানসিয়া তাকে নিজের কিডনি দান করল আর সে ধূমপান চালিয়ে গেল... ওহ ওয়াও!’ অন্য একজন লেখেন, ‘কারো কাছ থেকে কিডনি পাওয়ার মতো এমন উদার উপহার পাওয়ার পরও নিজেই নিজেকে নিকোটিন আসক্তিতে ঠেলে দেওয়াটা সত্যিই পাগলামি।’ 

তবে এর বিপরীতে বড় একটি অংশ সেলেনার সততার প্রশংসায় মুখর হয়েছেন। ‘ম্যাকবি’ নামের এক ভক্ত এক্সে লিখেছেন, ‘নিকোটিন আসক্তি নিয়ে সেলেনা গোমেজের এই সততা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে কিছু বদভ্যাস মানুষ যতটা মনে করে, তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়।’ আরেক ভক্ত লিখেছেন, ‘নিজের ভুল স্বীকার করে ভালো পথে আসার চেষ্টা করার জন্য সেলেনার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।’  

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :