ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগারওয়ালার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
স্বর্ণ ও হীরা কেনার বৈধ উৎসের কাগজপত্র না থাকা এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ আদেশ দেন।
এদিন দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে আদালতের হাজতখানা থেকে দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে বের করে পুলিশি পাহারায় এজলাসে নেওয়া হয়। লিফট নষ্ট থাকায় তাঁকে হেঁটে ষষ্ঠ তলায় উঠতে হয়। এজলাসে পৌঁছানোর পর কিছু সময় তাঁকে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। বিকেল ৩টা ১৩ মিনিটে বিচারক এজলাসে আসেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পক্ষে রিমান্ড আবেদনের বিষয়ে আদালতে বক্তব্য দেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন। তিনি আদালতকে বলেন, দিলীপ কুমার আগারওয়ালার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহের তথ্য রয়েছে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আনোয়ার কবির রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁদের আমদানি করা স্বর্ণ ও হীরা বৈধভাবে দেশে আনা হয়েছে। ২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমদানির সব কাস্টমস সনদ তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি। শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে চোরাকারবারি বলা যায় না বলে যুক্তি দেন এই আইনজীবী।
তিনি আরও বলেন, কোনো বিষয়ে তথ্য জানার প্রয়োজন হলে দিলীপ কুমার আগারওয়ালা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করবেন। এ সময় আসামির বয়স ও সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে তাঁর অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরে মানবিক দিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আবেদন জানান আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
সিআইডির রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, দিলীপ কুমার আগারওয়ালার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে স্বর্ণ ও হীরা কেনার উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন ওঠে। বিভিন্ন সময়ে আমদানি, স্থানীয় বাজার থেকে কেনা এবং বিনিময়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা এসব পণ্যের বৈধ উৎসের নথি অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করা হয়নি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, এসব লেনদেনে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও হীরা কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। সিআইডির অভিযোগ, এসব পণ্য অবৈধ চোরাকারবারের মাধ্যমে অর্জন করা হয়েছে কি না এবং এসব লেনদেনের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সংস্থাটি।
এ ঘটনায় সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখ বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর করা মামলাটি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৮(৪) ধারায় করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। সিআইডির অনুরোধে তাঁকে গ্রেপ্তারের পর সংস্থাটির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে সিআইডি তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগেও দিলীপ কুমার আগারওয়ালার বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই র্যাব তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
সিআইডির আবেদনের ভিত্তিতে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ গ্রেপ্তার
স্বর্ণ ও হীরা কেনার বৈধ উৎসের কাগজপত্র না থাকা এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ আদেশ দেন।
এদিন দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে আদালতের হাজতখানা থেকে দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে বের করে পুলিশি পাহারায় এজলাসে নেওয়া হয়। লিফট নষ্ট থাকায় তাঁকে হেঁটে ষষ্ঠ তলায় উঠতে হয়। এজলাসে পৌঁছানোর পর কিছু সময় তাঁকে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। বিকেল ৩টা ১৩ মিনিটে বিচারক এজলাসে আসেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পক্ষে রিমান্ড আবেদনের বিষয়ে আদালতে বক্তব্য দেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন। তিনি আদালতকে বলেন, দিলীপ কুমার আগারওয়ালার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহের তথ্য রয়েছে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আনোয়ার কবির রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁদের আমদানি করা স্বর্ণ ও হীরা বৈধভাবে দেশে আনা হয়েছে। ২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমদানির সব কাস্টমস সনদ তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি। শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে চোরাকারবারি বলা যায় না বলে যুক্তি দেন এই আইনজীবী।
তিনি আরও বলেন, কোনো বিষয়ে তথ্য জানার প্রয়োজন হলে দিলীপ কুমার আগারওয়ালা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করবেন। এ সময় আসামির বয়স ও সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে তাঁর অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরে মানবিক দিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আবেদন জানান আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
সিআইডির রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, দিলীপ কুমার আগারওয়ালার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে স্বর্ণ ও হীরা কেনার উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন ওঠে। বিভিন্ন সময়ে আমদানি, স্থানীয় বাজার থেকে কেনা এবং বিনিময়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা এসব পণ্যের বৈধ উৎসের নথি অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করা হয়নি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, এসব লেনদেনে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও হীরা কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। সিআইডির অভিযোগ, এসব পণ্য অবৈধ চোরাকারবারের মাধ্যমে অর্জন করা হয়েছে কি না এবং এসব লেনদেনের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সংস্থাটি।
এ ঘটনায় সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখ বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর করা মামলাটি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৮(৪) ধারায় করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। সিআইডির অনুরোধে তাঁকে গ্রেপ্তারের পর সংস্থাটির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে সিআইডি তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগেও দিলীপ কুমার আগারওয়ালার বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই র্যাব তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
সিআইডির আবেদনের ভিত্তিতে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ গ্রেপ্তার