পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের পাহারায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রামের রাউজানের গহিরায় তার নিজ বাড়ির উঠানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বক্স আলী চৌধুরী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানাজায় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছাড়াও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। জানাজা ও দাফনে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মীও অংশ নেন। জানাজাকে ঘিরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে রোটনের মরদেহবাহী গাড়ি রাউজানের গহিরায় বক্স আলী চৌধুরী বাড়িতে পৌঁছালে বিএনপির নেতারা মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে তারা মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন।
এদিকে গভীর রাত থেকেই গহিরা ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরও যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।
দাফনের কাজে তদারককারী প্রতিবেশী ও গহিরা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জুয়েল চৌধুরী বলেন, ‘রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও মানুষ হিসেবে মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন খুব ভালো ছিলেন। তিনি দেশের বড় মাপের রাজনীতিবিদ ছিলেন। রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্দেশনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জানাজায় অংশ নিয়েছেন।’
উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান কাজল বলেন, ‘শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কাজ করেছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক বিবেচনায় তারা সাবেক ছাত্রলীগ নেতার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেছেন।’
রাউজান উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহাজান সাহিল বলেন, ‘বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। রাউজানের সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতার জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে এ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় আমি পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই।’
পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শাহাদাত মির্জা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমরা ঘরছাড়া ছিলাম। আমাদের কোনও নেতাকর্মীর মৃত্যু হলে রাউজানে দাফন করতে দেওয়া হতো না। এবার মানবিক বিবেচনায় একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতার শেষযাত্রায় পূর্ণ নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে অংশ নিয়েছি আমরা।’
জানাজায় অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আ.স.ম. ইয়াছিন মাহমুদ বলেন, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন জাতীয় রাজনীতির একজন পরিচ্ছন্ন নেতা ছিলেন। সাংগঠনিকভাবে দলের কঠিন সময়ে তিনি রাজপথে কাজ করেছেন। মৃত্যুর আগমুহূর্তেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ‘জানাজায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তিন প্লাটুন পুলিশ ও এক প্লাটুন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় বহু মানুষ অংশ নিলেও কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি বা গ্রেফতার করা হয়নি।’
মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের বড় ভাই নাসিবুল হায়দার চৌধুরী মিল্টন বলেন, ‘জানাজা ও দাফন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোনও ধরনের বাধা বা সমস্যা হয়নি। সবকিছু সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সহযোগিতার জন্য রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
এর আগে গত শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৭টার দিকে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন।
রোটনের স্ত্রী আরেফা সুলতানা জানান, মৃত্যুর ছয়দিন আগে তাকে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। চিকিৎসার জন্য দুই বছরের বেশি সময় ধরে কলকাতায় অবস্থান করছিলেন তিনি।
মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচকে/এসকে
সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রামের রাউজানের গহিরায় তার নিজ বাড়ির উঠানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বক্স আলী চৌধুরী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানাজায় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছাড়াও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। জানাজা ও দাফনে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মীও অংশ নেন। জানাজাকে ঘিরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে রোটনের মরদেহবাহী গাড়ি রাউজানের গহিরায় বক্স আলী চৌধুরী বাড়িতে পৌঁছালে বিএনপির নেতারা মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে তারা মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন।
এদিকে গভীর রাত থেকেই গহিরা ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরও যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।
দাফনের কাজে তদারককারী প্রতিবেশী ও গহিরা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জুয়েল চৌধুরী বলেন, ‘রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও মানুষ হিসেবে মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন খুব ভালো ছিলেন। তিনি দেশের বড় মাপের রাজনীতিবিদ ছিলেন। রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্দেশনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জানাজায় অংশ নিয়েছেন।’
উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান কাজল বলেন, ‘শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কাজ করেছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক বিবেচনায় তারা সাবেক ছাত্রলীগ নেতার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেছেন।’
রাউজান উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহাজান সাহিল বলেন, ‘বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। রাউজানের সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতার জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে এ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় আমি পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই।’
পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শাহাদাত মির্জা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমরা ঘরছাড়া ছিলাম। আমাদের কোনও নেতাকর্মীর মৃত্যু হলে রাউজানে দাফন করতে দেওয়া হতো না। এবার মানবিক বিবেচনায় একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতার শেষযাত্রায় পূর্ণ নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে অংশ নিয়েছি আমরা।’
জানাজায় অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আ.স.ম. ইয়াছিন মাহমুদ বলেন, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন জাতীয় রাজনীতির একজন পরিচ্ছন্ন নেতা ছিলেন। সাংগঠনিকভাবে দলের কঠিন সময়ে তিনি রাজপথে কাজ করেছেন। মৃত্যুর আগমুহূর্তেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ‘জানাজায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তিন প্লাটুন পুলিশ ও এক প্লাটুন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় বহু মানুষ অংশ নিলেও কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি বা গ্রেফতার করা হয়নি।’
মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের বড় ভাই নাসিবুল হায়দার চৌধুরী মিল্টন বলেন, ‘জানাজা ও দাফন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোনও ধরনের বাধা বা সমস্যা হয়নি। সবকিছু সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সহযোগিতার জন্য রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
এর আগে গত শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৭টার দিকে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন।
রোটনের স্ত্রী আরেফা সুলতানা জানান, মৃত্যুর ছয়দিন আগে তাকে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। চিকিৎসার জন্য দুই বছরের বেশি সময় ধরে কলকাতায় অবস্থান করছিলেন তিনি।
মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচকে/এসকে