শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় আইসিসি

আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ১১:৩০:০৭ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ১১:৩১:৩৯ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আদালতটির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এ ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন। নিষেধাজ্ঞার আওতা আগের তুলনায় বিস্তৃত হওয়ায় আইসিসিকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানও মার্কিন পদক্ষেপের মুখে পড়তে পারে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিচার করার সুযোগ আইসিসিকে দেওয়া হবে না। আদালটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেন নিষিদ্ধ করা এবং এর সম্পদ ব্যবহারের পথ বন্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রুবিও আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইসিসি তার কার্যক্রমের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যে হুমকি তৈরি করছে, তা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় আদালটির অস্তিত্ব শেষ করে দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে পারে ওয়াশিংটন।

তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় আইসিসির কার্যক্রম থেমে যাবে না বলে জানিয়েছেন আদালতটির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীম খান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, এ পদক্ষেপের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক আইনের শাসন ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করা। তা সত্ত্বেও আদালতের মামলা, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করে। আদালটির কার্যক্রম নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধিতা দীর্ঘদিনের। এর আগে আইসিসির প্রসিকিউটর ও বিচারকদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এবারের পদক্ষেপের পরিধি আরও বিস্তৃত। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মার্কিন কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক সম্পর্ক সীমিত বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে ব্যাংকিং, বিমা, সফটওয়্যার ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সেবা পেতে আইসিসিকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা নিয়ে ওয়াশিংটনের ক্ষোভ

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কঠোর সমালোচনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আদালতের তদন্তের বিরোধিতা করেছিল ওয়াশিংটন। পরে সেই তদন্ত বন্ধ করে দেয় আইসিসি।

বর্তমানে আদালটির সদস্যদেশ ১২৫টি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশ এর সদস্য হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও আইসিসির সদস্য নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় আইসিসিও আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। আদালটির কর্মকর্তারা মাইক্রোসফটের সফটওয়্যারের পরিবর্তে উন্মুক্ত সফটওয়্যার ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যবিমার বিকল্প ব্যবস্থাও গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

আইসিসির রেজিস্ট্রার ওসভালদো জাভালা গিল ইউরোপীয় ইউনিয়নকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বহির্দেশীয় প্রভাব মোকাবিলায় একটি প্রতিরোধমূলক আইনি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট জটিলতা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নোবেল কমিটির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার প্রসঙ্গ

দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজীবী নাভি পিল্লাই শুক্রবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নোবেল কমিটি বলেছে, পিল্লাইকে পুরস্কার দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিচারক ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো যে রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে রয়েছে, সে বিষয়ে বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা অপরিহার্য।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও কিছু লেনদেনে ছাড়

নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় চারটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে। এর ফলে আইসিসির টেলিযোগাযোগ ও সফটওয়্যার-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কিছু লেনদেন চালু রাখা যাবে। এ ছাড়া পেনশন পরিশোধ এবং আদালতের হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু লেনদেনের ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়েছে।

রুবিও জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা এমনভাবে কার্যকর করা হয়েছে, যাতে আইসিসি ও এর সদস্যদেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি নিরসনের উদ্যোগ নিতে পারে। তবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আইসিসির কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। পরে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন সেগুলো তুলে নেয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই আইসিসির বিরুদ্ধে আবারও নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে ওয়াশিংটন। এবার সরাসরি আদালত ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :