কৃষ্ণসাগরে তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা, ২৩ ভারতীয় নাবিক উদ্ধার

আপলোড সময় : ০৭-১০-২০২৬ ১০:৫৮:০৮ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৭-১০-২০২৬ ১০:৫৮:০৮ পূর্বাহ্ন
কৃষ্ণসাগরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের চালানো এই হামলায় জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং পরে সেখান থেকে ২৩ জন ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় ১১ ভারতীয়সহ ১২ জন ক্রু আহত হয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলের কাছে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যাওয়া ওই তেলবাহী জাহাজটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী। জাহাজটিতে ২৩ জন ক্রু ছিলেন এবং তারা সবাই ভারতীয় নাগরিক। রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগুনের তীব্রতার কারণে এখন পর্যন্ত দমকলকর্মীরা তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। তবে জাহাজের ২৩ ক্রুকেই উদ্ধার করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজটিতে ‘নৌ ড্রোন’ দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে কৃষ্ণসাগরের পানিতে অপরিশোধিত তেল জ্বলছে। আগুনের তীব্রতা কমলে দমকলকর্মীরা আবারও তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করবেন।

সংবাদমাধ্যম বলছে, ড্রোন হামলার এই ঘটনাটি ঘটেছে রাশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন শহর সোচির কাছে। শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে সমুদ্রের ওপর উজ্জ্বল কমলা রঙের আগুন এবং সোচির কাছে আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে সোচির মেয়র জানান, উপকূল ও সৈকতে মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

এর এক দিন আগে রোমানিয়ার উপকূলের কাছে আরেকটি জাহাজে হামলার পর সেটিতে আগুন ধরে ডুবে যায়। ওই ঘটনায় একজন নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন। ইউক্রেন জানিয়েছে, ওই হামলাটিও ড্রোন দিয়ে চালানো হয়েছিল। এতে এক ভারতীয় ক্রু সদস্য আহত হন।

২০২২ সালে সংঘাত শুরুর পর থেকেই কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করে রাশিয়া ও ইউক্রেন ব্যাপক হামলা চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রোমানিয়ার উপকূলের কাছে ইউক্রেনীয় পণ্যবাহী শস্যবাহী জাহাজেও হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

অন্যদিকে ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার তেল অবকাঠামোয় তাদের হামলা মস্কোর রাতভর চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার উপযুক্ত জবাব।

মূলত সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই পক্ষই হামলা আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। রাশিয়া কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে হামলা শুরু করেছে। পাশাপাশি দিনের বেলায় ড্রোন দিয়ে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলেও হামলা চালাচ্ছে। এটি রাশিয়ার নতুন সামরিক কৌশল, যার ফলে কিয়েভে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়েছে।

এর আগে দক্ষিণ রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতে ইউক্রেনের হামলার পর সমুদ্রে তেলের আস্তরণ ছড়িয়ে পড়া, সৈকত বন্ধ করে দেয়া এবং আকাশ থেকে বিষাক্ত কালো বৃষ্টি পড়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে পানামার পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এতে ১১ ভারতীয়সহ ১২ জন ক্রু আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় ওমানের উপকূলের কাছে এমটি অন পিস নামের জাহাজটিতে হামলার ঘটনা ঘটে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এতে ১২ জন ক্রু আহত হন। জাহাজটির ১৯ জন ক্রুর মধ্যে ১৭ জনই ছিলেন ভারতীয়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওমানের কর্তৃপক্ষের সহায়তায় আহত ক্রু সদস্যদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তাদের ওমানের খাসাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘অঞ্চলটিতে চলাচলরত জাহাজের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা এসব হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি।’

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে এখন পর্যন্ত নিহত ১৭ ভারতীয়র মধ্যে ১১ জনই নাবিক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাত শুরু হয়। অন্যদিকে কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় এরই মধ্যে পাঁচ ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :