হাইতিতে এ বছর গ্যাং সহিংসতায় হতাহত ৫৭০০ : জাতিসংঘ

আপলোড সময় : ০৪-১০-২০২৬ ০১:০৯:০৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-১০-২০২৬ ০১:০৯:০৪ অপরাহ্ন
২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাইতিতে গ্যাংয়ের হামলা এবং তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে ৫ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

বিবিসি জানায়, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক জানিয়েছেন, এ সময় ২৩০ জনের বেশি মানুষ অপহৃত হয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় ১ হাজার নারী ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তবে তুর্ক বলেছেন, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে ‘অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে’।

হাইতিতে কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন গ্যাং বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষমতা ধরে রেখেছে। দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক গ্যাং সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পেছনে ২০২১ সালের ৭ জুলাই প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইজকে হত্যার ঘটনাটি বড় ভূমিকা রেখেছে।

শুক্রবার ক্যারিবীয় দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে তুর্ক বলেন, নিহত ও আহতদের অর্ধেকের বেশি নিরাপত্তা বাহিনীর গ্যাংবিরোধী অভিযানের সময় হতাহত হয়েছে। এ সময় শত শত মানুষ ‘বিপথগামী গুলি ও বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোনের’ আঘাতে হতাহত হয়েছে।

মোইজের শাসনামলেও হাইতিতে গ্যাং সহিংসতা ব্যাপক ছিল। তবে তাকে হত্যার পর দেশটিতে যে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়, তা কাজে লাগিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরো বেশি এলাকা দখল করে এবং নিজেদের প্রভাব বাড়ায়।

তুর্ক বলেন, গ্যাংগুলো ‘ক্রমাগত নিজেদের কৌশল বদলাচ্ছে এবং বিস্তৃত হচ্ছে’। জাতিসংঘের সংগ্রহ করা তথ্য থেকে দেখা গেছে, তারা ‘নতুন এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনপথ দখলের কৌশল নিয়েছে, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করছে’।

তুর্ক জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের চালানো বিচারবহির্ভূত হত্যার সংখ্যা কমেছে। তবে গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা মানুষ এখনো তাৎক্ষণিকভাবে হত্যার বড় ঝুঁকিতে রয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার আরো বলেন, গ্যাংগুলোতে শিশুদের নিয়োগের হার ‘প্রায় তিন গুণ বেড়েছে’।

কারণ অনেক অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছে গ্যাংয়ে যোগ দেওয়া ‘বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হতে পারে’। তুর্ক বলেন, ‘কোনো শিশুকেই নিজের জীবন আর প্রতিবেশীদের নিরাপত্তার মধ্যে একটি বেছে নিতে বাধ্য করা উচিত নয়।’ 

২০১৬ সালের পর প্রথমবারের মতো আগামী ১৩ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ও আইনসভা নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে হাইতি। তবে দেশটির বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তুর্ক বলেন, ‘এ বছর একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি হবে, তা কল্পনা করাও কঠিন।’

গ্যাং সহিংসতা বাড়তে থাকায় ২০২৫ সাল থেকে হাইতিতে একটি বহুজাতিক পুলিশ বাহিনী কাজ করছে। সংঘাতকবলিত দেশটিতে গ্যাং সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করাই তাদের লক্ষ্য। তবে গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে প্রবেশ করতেই এই বাহিনীকে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :