​কাঁচা পাট নয়, মূল্য সংযোজিত পণ্য রপ্তানিতে জোর সরকারের

আপলোড সময় : ০৩-১০-২০২৬ ০২:২৬:৪৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-১০-২০২৬ ০২:২৬:৪৬ অপরাহ্ন
দেশে উৎপাদিত পাটকে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজিত পণ্যে রূপান্তরের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশ-বিদেশে বহুমুখী পাটপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের (জেডিপিসি) প্রাঙ্গণে ছয় দিনব্যাপী ‘বহুমুখী পাটপণ্য মেলা’ ও নতুন বিক্রয়কেন্দ্র ‘জেডিপিসি এক্সপ্রেস’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, রেশম, তাঁত ও পাটপণ্য তৈরি পোশাকের বাইরের দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় খাত। এসব খাতের বিকাশে পণ্যের প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করতে জেডিপিসিতে স্থায়ী শোরুম চালু করা হয়েছে। মেলা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেশীয় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের কাছে এসব পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোই সরকারের লক্ষ্য।

পাটপণ্যের বৈচিত্র্য ও রপ্তানি সম্প্রসারণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জেডিপিসি ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। কাঁচা পাট রপ্তানিতে মূল্য সংযোজন না থাকলেও পর্যায়ক্রমে পাটকে স্লাইভার, প্যাকেজিং, ব্লেন্ডেড ফাইবারসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপান্তরের মাধ্যমে এর মূল্য কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব।

তিনি বলেন, গত বছর বাজারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতি টন কাঁচা পাটের দাম ছিল প্রায় দেড় লাখ টাকা বা প্রায় ১ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার। একই পরিমাণ পাট প্যাকেজিং পণ্যে রূপান্তর করা হলে এর মূল্য প্রায় ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলারে উন্নীত হতে পারে। আর পাটের সঙ্গে তুলা বা অন্যান্য তন্তু মিশিয়ে উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরি করা গেলে প্রতি টনে প্রায় ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্য অর্জনের সুযোগ রয়েছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশে উৎপাদিত পাটের সর্বোচ্চ অংশকে মূল্য সংযোজিত পণ্যে রূপান্তর করাই সরকারের লক্ষ্য। কোন খাতে কী ধরনের পণ্যে কত পরিমাণ পাট ব্যবহার করা সম্ভব, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পাট থেকে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্ব আয় সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, মেলার মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রচার বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং পলিথিনের ব্যবহার থেকে মানুষকে নিরুৎসাহিত করাই অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে জিআই পণ্য, বহুমুখী পাটপণ্য, রাজশাহী সিল্ক ও তাঁতপণ্যকে মানুষের কাছে আরও পরিচিত করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সোনালি আঁশ’ পাট একসময় দেশের গর্ব ও মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। সময়ের সঙ্গে সেই ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে গেছে। পাটের উৎপাদন ও বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দেশ-বিদেশে বাজার সৃষ্টি এবং পণ্যকে আরও বেশি মূল্য সংযোজিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এ ধরনের মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, জেডিপিসিতে চালু হওয়া ‘জেডিপিসি এক্সপ্রেস’ স্থায়ী বিক্রয় ও প্রদর্শন কেন্দ্র হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এখানে বহুমুখী পাটপণ্যের পাশাপাশি তাঁত ও রেশমের বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হবে। ভবিষ্যতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ আরও বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের শোরুম স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনেও দেশীয় পণ্যের শোরুম বা প্রদর্শনকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। উদ্যোক্তা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতায় দেশীয় পণ্যকে বিশ্ববাজারে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।
জেডিপিসি প্রাঙ্গণে আয়োজিত ছয় দিনব্যাপী বহুমুখী পাটপণ্য মেলা চলবে ৩ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। আর ‘জেডিপিসি এক্সপ্রেস’ সপ্তাহের সাত দিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, জেডিপিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহিদ হোসেনসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচকে/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :