চারদিকে ব্রহ্মপুত্রের বিপুল জলরাশি। মাঝে জেগে থাকা দ্বীপচর।
সেই চরজুড়ে এখন শরতের সাজ। ওপরে নীল আকাশে সাদা মেঘের ছুটে যাওয়া। নিচে সাদা মেঘের মতো কাশফুল। বাতাসে দুলতে থাকা ফুল আর সাদা মেঘের মুগ্ধতা মিলেমিশে একাকার।
কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্রের চরে চরে শরতের এমন উৎসব চলছে এখনও।
ভারতের আসাম রাজ্যের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। এরপর কয়েকটি চ্যানেলে বিভক্ত হয়ে প্রবাহিত হয়ে মিশে গেছে গাইবান্ধার যমুনায়। বয়ে যাওয়া এই জলরাশির মাঝেই জেগে রয়েছে বেশ কিছু দ্বীপচর।
এসব চরে এখন শরতের শুভ্রতা, আমন্ত্রণ জানাচ্ছে ভ্রমণ ও বিনোদন পিপাসুদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর, নুনখাওয়া; সদর উপজেলার যাত্রাপুর; উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা; বেগমগঞ্জ চিলমারী উপজেলার অষ্টমীর চর; নয়ারহাট ও রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারীসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের অন্তত অর্ধশত চর সেজেছে কাশফুলে।
এর মধ্যে ভারতীয় সীমান্তবর্তী নারায়ণপুর, চিড়াখাওয়া, গোয়াইলপুরী, পোড়ারচর, অষ্ট্রআশির চর, জাহাজের আলগা, ঘুঘুমারি অন্যতম। চিলমারীর শাখাহাতি, কড়াই বরিশাল ও মনতলাসহ বেশ কয়েকটি চরে দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে কাশফুলের সাদা সৌন্দর্য। এতে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা।
চিলমারী, জোড়গাছ, যাত্রাপুর, আয়নালের ঘাট, মোঘলবাসা, ফকিরের চর থেকে নৌকা নিয়ে এসব দ্বীপচরে যাচ্ছেন অনেকেই।
সম্প্রতি যাত্রাপুর ঘাট থেকে শ্যালো নৌকায় প্রায় এক ঘন্টার পথ পেরিয়ে চিড়াখাওয়া চরে গিয়ে দেখা যায়, ভারতীয় সীমান্তবর্তী এ চরের ভেতর দিয়ে নদের একটি ক্ষীণ ধারা বয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর পর ঢেউ খেলিয়ে হেলে দুলে চলে যাচ্ছে ডিঙি নৌকা। নালার দুই পাশে ঘন কাশবন, ছেয়ে গেছে ফুলে ফুলে।
এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য স্থানীয়দের কাছে অতি সাধারণ মনে হলেও শহর ও দূর গ্রামের অনেকের কাছেই বাড়তি আমোদের উৎস।
কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে আসা স্কুলশিক্ষক মোছা. বদরুন্নাহারের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের পাশেই কাশফুলের এমন মনকাড়া সৌন্দর্য দেখে মন জুড়িয়ে যায়।’ মাঝিয়ালির চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এরশাদুল হক হক বলেন, ‘প্রতিবছর এইসময় কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে শহর থেকে অনেকেই ছুটে আসে। সময় ও খরচ বেশি পড়লেও সৌন্দর্যবোধ এসব বাধা মানে না।’
রাজারহাট উপজেলার জয়কুমর গ্রাম থেকে আসা যুবক সোহাগ হোসেন বলেন, ‘শুনেছিলাম ব্রহ্মপুত্রের চরে কাশফুল দারুণ সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। এখানে এসে যা দেখলাম, এক কথায় অপূর্ব।’
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র লিটন মিয়ার কথা হলো, ‘ব্রহ্মপুত্রের চরের কাশফুল, জীবন যাপনের বৈচিত্র্য, নানা প্রজাতির পাখি দেখতে অনেকে ছুটে এলেও পর্যটকদের খাবারের কোনো ব্যবস্থা নেই। এদিকে কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া জরুরি।’
চিড়া খাওয়া এলাকার বাসিন্দা শাহজামাল মিয়ার ভাষ্য, ‘যাত্রাপুর ঘাট থেকে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় ছোট নৌকা রিজার্ভ করে অনেকেই কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে আসছে। প্রাকৃতিকভাবে বালু মাটিতে জন্মানো কাশফুল চরের মানুষের কাছে অনেক মূল্যবান। শরৎকালে এর সৌন্দর্য বাড়তি আনন্দ জোগায়।’
শাহজামাল জানান, আর কিছুদিন পর দক্ষিণের জেলাগুলো থেকে পাইকাররা এসে কাশের আঁটি নৌকা ভরে নিয়ে যাবেন। সেখানে পানের বরজে ব্যবহার করা হবে এই কাশ। পরিত্যক্ত জমিতে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা কাশ চরের মানুষের জীবনযাপনে প্রয়োজন মেটায়। তাই বছরের পর বছর এই গাছের মুড়া সংরক্ষণ করে যাচ্ছে চরবাসী।
লেখক নাহিদ নলেজের অভিমত, ব্রহ্মপুত্রের ফসল, পৈরালীসহ নানা বিরল প্রজাতির মাছ, অতিথি পাখি, গরু-মহিষের বাথানসহ অনেক কিছুই পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে। শুধু প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ।
তিনি বলেন, বড় চরগুলো ব্রহ্মপুত্রেই অবস্থিত। এখানে আদিগন্ত বিস্তৃত কাশবন না দেখলে শরৎকে জানা হয় না। তাই সবার আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে এই কাশবন।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মীর্জা নাসির উদ্দিন বলেন, কাশফুলের আদি নিবাস রুমানিয়া। পরে ভারত ও বাংলাদেশে আসে। ব্রহ্মপুত্রের চরে কোনো পরিচর্যা ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবেই বেড়ে ওঠা কাশফুল পর্যটকদের সহজেই আকৃষ্ট করে।
অধ্যক্ষ নাসিরের মতে, চরে সৌন্দর্য নিয়ে প্রচার-প্রচারণা ছাড়াও পর্যটকদের নিরাপত্তা, আবাসন, যাতায়াত ও স্থানীয়দের অতিথি পরায়নতার ওপর এর পর্যটন সম্ভাবনা নির্ভর করছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
সেই চরজুড়ে এখন শরতের সাজ। ওপরে নীল আকাশে সাদা মেঘের ছুটে যাওয়া। নিচে সাদা মেঘের মতো কাশফুল। বাতাসে দুলতে থাকা ফুল আর সাদা মেঘের মুগ্ধতা মিলেমিশে একাকার।
কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্রের চরে চরে শরতের এমন উৎসব চলছে এখনও।
ভারতের আসাম রাজ্যের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। এরপর কয়েকটি চ্যানেলে বিভক্ত হয়ে প্রবাহিত হয়ে মিশে গেছে গাইবান্ধার যমুনায়। বয়ে যাওয়া এই জলরাশির মাঝেই জেগে রয়েছে বেশ কিছু দ্বীপচর।
এসব চরে এখন শরতের শুভ্রতা, আমন্ত্রণ জানাচ্ছে ভ্রমণ ও বিনোদন পিপাসুদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর, নুনখাওয়া; সদর উপজেলার যাত্রাপুর; উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা; বেগমগঞ্জ চিলমারী উপজেলার অষ্টমীর চর; নয়ারহাট ও রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারীসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের অন্তত অর্ধশত চর সেজেছে কাশফুলে।
এর মধ্যে ভারতীয় সীমান্তবর্তী নারায়ণপুর, চিড়াখাওয়া, গোয়াইলপুরী, পোড়ারচর, অষ্ট্রআশির চর, জাহাজের আলগা, ঘুঘুমারি অন্যতম। চিলমারীর শাখাহাতি, কড়াই বরিশাল ও মনতলাসহ বেশ কয়েকটি চরে দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে কাশফুলের সাদা সৌন্দর্য। এতে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা।
চিলমারী, জোড়গাছ, যাত্রাপুর, আয়নালের ঘাট, মোঘলবাসা, ফকিরের চর থেকে নৌকা নিয়ে এসব দ্বীপচরে যাচ্ছেন অনেকেই।
সম্প্রতি যাত্রাপুর ঘাট থেকে শ্যালো নৌকায় প্রায় এক ঘন্টার পথ পেরিয়ে চিড়াখাওয়া চরে গিয়ে দেখা যায়, ভারতীয় সীমান্তবর্তী এ চরের ভেতর দিয়ে নদের একটি ক্ষীণ ধারা বয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর পর ঢেউ খেলিয়ে হেলে দুলে চলে যাচ্ছে ডিঙি নৌকা। নালার দুই পাশে ঘন কাশবন, ছেয়ে গেছে ফুলে ফুলে।
এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য স্থানীয়দের কাছে অতি সাধারণ মনে হলেও শহর ও দূর গ্রামের অনেকের কাছেই বাড়তি আমোদের উৎস।
কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে আসা স্কুলশিক্ষক মোছা. বদরুন্নাহারের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের পাশেই কাশফুলের এমন মনকাড়া সৌন্দর্য দেখে মন জুড়িয়ে যায়।’ মাঝিয়ালির চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এরশাদুল হক হক বলেন, ‘প্রতিবছর এইসময় কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে শহর থেকে অনেকেই ছুটে আসে। সময় ও খরচ বেশি পড়লেও সৌন্দর্যবোধ এসব বাধা মানে না।’
রাজারহাট উপজেলার জয়কুমর গ্রাম থেকে আসা যুবক সোহাগ হোসেন বলেন, ‘শুনেছিলাম ব্রহ্মপুত্রের চরে কাশফুল দারুণ সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। এখানে এসে যা দেখলাম, এক কথায় অপূর্ব।’
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র লিটন মিয়ার কথা হলো, ‘ব্রহ্মপুত্রের চরের কাশফুল, জীবন যাপনের বৈচিত্র্য, নানা প্রজাতির পাখি দেখতে অনেকে ছুটে এলেও পর্যটকদের খাবারের কোনো ব্যবস্থা নেই। এদিকে কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া জরুরি।’
চিড়া খাওয়া এলাকার বাসিন্দা শাহজামাল মিয়ার ভাষ্য, ‘যাত্রাপুর ঘাট থেকে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় ছোট নৌকা রিজার্ভ করে অনেকেই কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে আসছে। প্রাকৃতিকভাবে বালু মাটিতে জন্মানো কাশফুল চরের মানুষের কাছে অনেক মূল্যবান। শরৎকালে এর সৌন্দর্য বাড়তি আনন্দ জোগায়।’
শাহজামাল জানান, আর কিছুদিন পর দক্ষিণের জেলাগুলো থেকে পাইকাররা এসে কাশের আঁটি নৌকা ভরে নিয়ে যাবেন। সেখানে পানের বরজে ব্যবহার করা হবে এই কাশ। পরিত্যক্ত জমিতে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা কাশ চরের মানুষের জীবনযাপনে প্রয়োজন মেটায়। তাই বছরের পর বছর এই গাছের মুড়া সংরক্ষণ করে যাচ্ছে চরবাসী।
লেখক নাহিদ নলেজের অভিমত, ব্রহ্মপুত্রের ফসল, পৈরালীসহ নানা বিরল প্রজাতির মাছ, অতিথি পাখি, গরু-মহিষের বাথানসহ অনেক কিছুই পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে। শুধু প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ।
তিনি বলেন, বড় চরগুলো ব্রহ্মপুত্রেই অবস্থিত। এখানে আদিগন্ত বিস্তৃত কাশবন না দেখলে শরৎকে জানা হয় না। তাই সবার আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে এই কাশবন।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মীর্জা নাসির উদ্দিন বলেন, কাশফুলের আদি নিবাস রুমানিয়া। পরে ভারত ও বাংলাদেশে আসে। ব্রহ্মপুত্রের চরে কোনো পরিচর্যা ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবেই বেড়ে ওঠা কাশফুল পর্যটকদের সহজেই আকৃষ্ট করে।
অধ্যক্ষ নাসিরের মতে, চরে সৌন্দর্য নিয়ে প্রচার-প্রচারণা ছাড়াও পর্যটকদের নিরাপত্তা, আবাসন, যাতায়াত ও স্থানীয়দের অতিথি পরায়নতার ওপর এর পর্যটন সম্ভাবনা নির্ভর করছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন