জামালপুরে দুই সেতু নির্মাণে ধীরগতি, বাড়ছে দুর্ভোগ

আপলোড সময় : ২৯-০৯-২০২৬ ০২:৩৫:২৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-০৯-২০২৬ ০২:৩৫:২৫ অপরাহ্ন
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় দুটি সেতুর নির্মাণকাজ চলছে ধীরগতিতে। দীর্ঘদিন ভাঙা অবস্থায় থাকার পর ২০২৪ সালে নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত একটি সেতুর ৩৮ শতাংশ ও অন্যটির ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে সেতু না থাকায় স্থানীয়দের বিকল্প পথে ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগী, শিক্ষার্থী ও কৃষিপণ্য পরিবহনকারীরা।

জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের খায়েরপাড়া-আমিত্তি সড়কের কাটাখালী নদীর ওপর ২৮০ মিটার দীর্ঘ সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ৪৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ পেয়েছে মেসার্স ফারহান এন্টারপ্রাইজ। এ পর্যন্ত কাজ হয়েছে ৩৮ শতাংশ।

অন্যদিকে, একই ইউনিয়নের পাঠানপাড়া এলাকায় গলাডুবা নদীর ওপর গোদারবাজার-পূর্ব ছবিলাপুর সড়কে ২৮০ মিটার দীর্ঘ সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ১০ মার্চ। ৪৭ কোটি ৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ পেয়েছে মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ। ২০২৭ সালের ৯ মার্চ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ৪০ শতাংশ কাজ হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, খায়েরপাড়া গ্রামের কাটাখালী নদীর ওপরের সেতুটি প্রায় ১২ বছর আগে বন্যায় ভেঙে যায়। এরপর থেকে আমিত্তি, সগুনা ও গুণারীতলাসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন। 

এদিকে পাঠানপাড়া গ্রামের গলাডুবা নদীর ওপরের সেতুটির মাঝের অংশ ২০১৭ সালের বন্যায় ভেঙে যায়। ফলে পূর্ব ছবিলাপুর, চর ও বীর ঘোষেরপাড়ার বাসিন্দাদের বিকল্প পথে প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতু দুটির নির্মাণকাজ পেয়েছিল কার্যক্রম স্থগিত আওয়ামী লীগ নেতাদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কাজ প্রায় এক বছর বন্ধ ছিল। পরে কাজ শুরু হলেও গতি বাড়েনি। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

আমিত্তি এলাকার বাসিন্দা বাচ্চা মিয়া, আজমত আলী ও মামুন মিয়া বলেন, “১২ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা কষ্ট করছি। সেতুর কাজ শুরু হওয়ায় আশায় ছিলাম দ্রুত দুর্ভোগ কমবে। কিন্তু প্রায় তিন বছরেও অর্ধেক কাজ শেষ হয়নি। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে ঘুরে যেতে হয়।”

পূর্ব ছবিলাপুর এলাকার বাসিন্দা শামসুল উদ্দিন ও মজনু মিয়া বলেন, “তিন গ্রামের শিক্ষার্থীসহ মানুষকে প্রতিদিন প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। নয় বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে আছি। সেতুর কাজের যে গতি, তাতে নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে কি না, তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।”

দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে সেতু দুটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশা, সেতু চালু হলে কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ কমবে।

এদিকে সেতু নির্মাণের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধীরগতিতে নির্মাণ কাজের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ ব্যাপারে জামালপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মাদ রমজান আলী বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। দুটি সেতুর কাজই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, ২০২৭ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে।”
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :