নরসিংদী হাসপাতালে বারান্দাই যেন নতুন ওয়ার্ড

১০০শয্যার হাসপাতালে ৩০০ রোগী!

আপলোড সময় : ২৯-০৯-২০২৬ ১২:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-০৯-২০২৬ ০২:২২:০৭ অপরাহ্ন
হাসপাতালের নাম জেলা হাসপাতাল, শয্যা আছে ১০০টি। অথচ রোগী ভর্তি ৩০১ জন। ফলে হাসপাতালের ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে কারো ঠাঁই হয়েছে বারান্দায়, কারো বিছানা পড়েছে চলাচলের পথে। কোথাও স্ট্রেচারে, কোথাও মেঝেতে, আবার কোথাও গাদাগাদি করে চলছে চিকিৎসা। নরসিংদী জেলা হাসপাতালে এখন যেন শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যাই বেশি।

এরই মধ্যে হাসপাতালটি ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। কিন্তু নতুন শয্যার সঙ্গে প্রয়োজনীয় জনবল ও লজিস্টিক সুবিধা পুরোপুরি না আসায় কাগজে-কলমে বাড়লেও বাস্তবে বাড়েনি রোগীদের চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ। ফলে ১০০ শয্যার পুরোনো সক্ষমতার ওপরই চলছে তিন শতাধিক রোগীর চাপ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, শুধু ওয়ার্ডেই নয়, হাসপাতালের বারান্দা ও বিভিন্ন চলাচলের স্থানেও রোগীদের চিকিৎসা চলছে। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে এসব জায়গায় থাকতে হচ্ছে। রোগীর স্বজনদেরও রাত-দিন কাটাতে হচ্ছে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মধ্যে।

একজন রোগীর স্বজন আলেয়া বেগম বলেন, জেলা হাসপাতালে সাধারণত ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়। কিন্তু বর্তমানে রোগীর চাপ এত বেশি যে রোগী দেখানোর মতো জায়গাটুকুও পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্যও তাদের নেই। তার মতে, ২৫০ শয্যার কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হলে পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হতে পারে।

রহিমা নামে এক নারীও কয়েক দিন ধরে মায়ের সঙ্গে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। শয্যা না পাওয়ায় বারান্দাতেই থেকে মায়ের চিকিৎসা করাতে হচ্ছে তাকে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডেঙ্গুর বাড়তি চাপ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, গত দুই মাস ধরে নরসিংদীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। জুলাই ও আগস্টের তুলনায় চলতি সেপ্টেম্বরে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির হার বেড়েছে। চলতি মাসেই এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন শতাধিক ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত সাত দিনে ভর্তি হয়েছেন ১১১ জন। তাদের মধ্যে ১২ জন গণমাধ্যমকর্মী।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সময় টেলিভিশনের চিত্র সাংবাদিক সৈয়দ ইমরান হোসেন। তিনিও জানিয়েছেন, রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে চিকিৎসাসেবা নিতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ এন এম মিজানুর রহমান জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ৩০১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত। প্রয়োজনীয় জনবল ও লজিস্টিক সুবিধা পাওয়া গেলে ২৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ সেবা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।

১০০ শয্যার হাসপাতাল যখন ৩০১ রোগীর ভার বহন করছে, তখন প্রশ্ন উঠছে- কাগজে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল, বাস্তবে সেই সুবিধা কবে পাবেন নরসিংদীর মানুষ?
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :