কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মুক্তির দাবিতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষার্থীদের অবরোধের ২৮ ঘণ্টা পেরিয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর তিনটায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ ১৪ শিক্ষক অবরুদ্ধ ছিলেন।
কলেজের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কলেজে যান সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাঈদা পারভীন।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সাঈদা পারভীন তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে আলোচনায় তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান হয়নি।
পরে শিক্ষার্থীদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
দুপুর ৩টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা কলেজের ফটকেই অবস্থান করছিলেন। প্রশাসনিক ভবনে থাকা ১৪ শিক্ষকও এখন পর্যন্ত অবরুদ্ধ রয়েছেন। রবিবার সকাল ১১টার দিকে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
তবে ভেতরে থাকা শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের খাবার নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা কোনো বাধা দিচ্ছেন না।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দেওয়া হবে না। নতুন কাউকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেবেন না তারা।
এরকম পরিস্থিতির মধ্যে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সাহিদ ইকবাল সিলেটে এসে পৌঁছেছেন। সোমবার তার দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল।
তবে তিনি এখনো কলেজে যাননি।
মো. সাহিদ ইকবাল বলেন, ‘আমি সিলেটেই আছি। পরিস্থিতি অনুকূল হলে কলেজে গিয়ে দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করতে চাই।’ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকেও তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সাহিদ ইকবাল এর আগেও সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে যোগ দেন। রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ তাকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়। একই আদেশে অধ্যক্ষের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয়।
তবে মো. আসাদুজ্জামানের অপসারণ বা বদলি শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল না। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়। তারা সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন।
এ কারণে অধ্যক্ষ বদলের সিদ্ধান্তেও আন্দোলন থেকে সরে আসেননি শিক্ষার্থীরা। তাদের বক্তব্য, একজন অধ্যক্ষের জায়গায় আরেকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হলে কলেজের প্রশাসনিক কাঠামোর কোনো পরিবর্তন হয় না। নতুন অধ্যক্ষ সাহিদ ইকবাল এর আগেও এই কলেজে কর্মরত ছিলেন। ফলে এ সিদ্ধান্তকে তারা তাদের দাবির কোনো সমাধান হিসেবে দেখছেন না।
মূলত অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই সিলেটসহ দেশের সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে বের করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। সে সময় অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, আন্দোলনের পর বিষয়টি পর্যালোচনায় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি করা হয়েছিল। ওই কমিটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোকে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বা আইআইটি ধরনের কাঠামোয় নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। পরে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরও এ বিষয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সেই প্রক্রিয়া আর এগোয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
এর মধ্যে সম্প্রতি কলেজের একটি বিভাগে একজন শিক্ষককে উচ্চতর পদে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ ঘিরে আবার অসন্তোষ দেখা দেয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার অধীনে নিয়োগ পাওয়া কিছু শিক্ষকের একাডেমিক পটভূমি এবং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যায়ে তাঁদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের আপত্তি রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পদায়ন নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
শিক্ষার্থীরা সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি ইনস্টিটিউট হিসেবে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
অবরোধের কারণে কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
কলেজের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কলেজে যান সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাঈদা পারভীন।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সাঈদা পারভীন তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে আলোচনায় তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান হয়নি।
পরে শিক্ষার্থীদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
দুপুর ৩টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা কলেজের ফটকেই অবস্থান করছিলেন। প্রশাসনিক ভবনে থাকা ১৪ শিক্ষকও এখন পর্যন্ত অবরুদ্ধ রয়েছেন। রবিবার সকাল ১১টার দিকে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
তবে ভেতরে থাকা শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের খাবার নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা কোনো বাধা দিচ্ছেন না।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দেওয়া হবে না। নতুন কাউকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেবেন না তারা।
এরকম পরিস্থিতির মধ্যে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সাহিদ ইকবাল সিলেটে এসে পৌঁছেছেন। সোমবার তার দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল।
তবে তিনি এখনো কলেজে যাননি।
মো. সাহিদ ইকবাল বলেন, ‘আমি সিলেটেই আছি। পরিস্থিতি অনুকূল হলে কলেজে গিয়ে দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করতে চাই।’ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকেও তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সাহিদ ইকবাল এর আগেও সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে যোগ দেন। রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ তাকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়। একই আদেশে অধ্যক্ষের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয়।
তবে মো. আসাদুজ্জামানের অপসারণ বা বদলি শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল না। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়। তারা সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন।
এ কারণে অধ্যক্ষ বদলের সিদ্ধান্তেও আন্দোলন থেকে সরে আসেননি শিক্ষার্থীরা। তাদের বক্তব্য, একজন অধ্যক্ষের জায়গায় আরেকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হলে কলেজের প্রশাসনিক কাঠামোর কোনো পরিবর্তন হয় না। নতুন অধ্যক্ষ সাহিদ ইকবাল এর আগেও এই কলেজে কর্মরত ছিলেন। ফলে এ সিদ্ধান্তকে তারা তাদের দাবির কোনো সমাধান হিসেবে দেখছেন না।
মূলত অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই সিলেটসহ দেশের সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে বের করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। সে সময় অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, আন্দোলনের পর বিষয়টি পর্যালোচনায় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি করা হয়েছিল। ওই কমিটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোকে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বা আইআইটি ধরনের কাঠামোয় নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। পরে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরও এ বিষয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সেই প্রক্রিয়া আর এগোয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
এর মধ্যে সম্প্রতি কলেজের একটি বিভাগে একজন শিক্ষককে উচ্চতর পদে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ ঘিরে আবার অসন্তোষ দেখা দেয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার অধীনে নিয়োগ পাওয়া কিছু শিক্ষকের একাডেমিক পটভূমি এবং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যায়ে তাঁদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের আপত্তি রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পদায়ন নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
শিক্ষার্থীরা সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি ইনস্টিটিউট হিসেবে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
অবরোধের কারণে কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন