তুরস্কে নূহ (আ.)-এর নৌকার সন্ধানে খনন, রহস্যময় কাঠামোর ইঙ্গিত

আপলোড সময় : ২৭-০৯-২০২৬ ০৫:২২:৩৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-০৯-২০২৬ ০৫:২৩:৪৮ অপরাহ্ন
হযরত নূহ (আ.)-এর নৌকার সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত তুরস্কের দুরুপিনার এলাকায় আবারও শুরু হয়েছে অনুসন্ধান। গবেষকদের দাবি, সাম্প্রতিক রাডার পরীক্ষায় মাটির নিচে অস্বাভাবিক কিছু কাঠামোর অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এখনো সেখানে কাঠের তৈরি কোনো নৌকা পাওয়া যায়নি। এমনকি মাটির নিচে পাওয়া কাঠামোগুলো মানুষের তৈরি কি না, সে বিষয়েও স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি।

মাটির নিচে কী পাওয়া গেছে

তুরস্কের আরারাত পর্বত থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দক্ষিণে দুরুপিনার গঠনটি অবস্থিত। ওপর থেকে দেখতে অনেকটা নৌকার মতো হওয়ায় কয়েক দশক ধরে স্থানটি নূহ (আ.)-এর নৌকার সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ অনুসন্ধানের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে আছে।

সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে রাডার পরীক্ষার মাধ্যমে মাটির নিচে কিছু সোজা রেখা, সমকোণে মিলিত কাঠামো এবং বড় আকারের ফাঁকা জায়গার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। তাদের ধারণা, এগুলো মাটির নিচে থাকা কোনো পথ বা কক্ষের অংশ হতে পারে।

অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত অ্যান্ড্রু জোন্স দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক কাজের মাধ্যমে জায়গাটি মানুষের তৈরি হওয়ার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হয়েছে। তবে তার এ দাবি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

এখনো নৌকার সন্ধান মেলেনি

গবেষকেরা এখন পর্যন্ত কোনো কাঠের নৌকা উদ্ধার করতে পারেননি। মাটির নিচে পাওয়া কাঠামোগুলো মানুষের তৈরি কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। এ কারণে অনুসন্ধান আরও গভীর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ববিদ চেঙ্কার আতিলার নেতৃত্বে একটি দল ইতোমধ্যে ১৫০টি স্থান থেকে প্রায় এক হাজার মাটির নমুনা সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি মাটির গভীরে পৌঁছাতে সেখানে খননকাজও শুরু হয়েছে।

আসছে বিশেষ রোবট

গবেষণার পরবর্তী ধাপে গোফার নামের বিশেষভাবে তৈরি একটি যন্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। মাটির নিচের এমন জায়গায় যন্ত্রটি প্রবেশ করবে, যেখানে মানুষের পক্ষে নিরাপদে যাওয়া সম্ভব নয়।

যন্ত্রটি এসব জায়গার ভিডিও ধারণের পাশাপাশি নমুনাও সংগ্রহ করবে। এর মাধ্যমে মাটির নিচে পাওয়া কাঠামোগুলোর প্রকৃতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার আশা করছেন গবেষকেরা।

কোরআনে নূহ (আ.)-এর নৌকার বর্ণনা

ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, হযরত নূহ (আ.) আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ ও তত্ত্বাবধানে নৌকা তৈরি করেছিলেন। পবিত্র কোরআনের সূরা হুদের ৩৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নূহ (আ.)-কে নৌকা নির্মাণের নির্দেশ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

মহাপ্লাবনের সময় নূহ (আ.)-কে তার পরিবার ও ঈমানদারদের নৌকায় তুলে নিতে বলা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রাণীর জোড়াও নৌকায় তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সূরা হুদের ৪০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর নির্দেশ আসার পর নূহ (আ.)-কে বিভিন্ন শ্রেণির প্রাণী থেকে দুইটি করে এবং তার পরিবার ও ঈমানদারদের নৌকায় তুলে নিতে বলা হয়। সেখানে আরও উল্লেখ রয়েছে, নূহ (আ.)-এর সঙ্গে ঈমান এনেছিল খুব অল্পসংখ্যক মানুষ।

ইসলামি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এখানে এমন প্রাণীদের বোঝানো হয়েছে, যেগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় এবং পানির মধ্যে বেঁচে থাকতে পারে না। যেমন—গরু, ছাগল, ঘোড়া, গাধা, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন পশু-পাখি।

নৌকায় কতজন ছিলেন

কোরআন বা নির্ভরযোগ্য হাদিসে নূহ (আ.)-এর নৌকায় থাকা ঈমানদারদের সঠিক সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। তবে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি মত অনুযায়ী, নৌকায় ৪০ জন পুরুষ ও ৪০ জন নারীসহ মোট ৮০ জন ছিলেন।

বর্ণনা অনুযায়ী, মহাপ্লাবনের পর তারা ইরাকের মুসেল নগরীর একটি এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। ওই স্থানটি সামানুন বা আশি নামে পরিচিত হয়ে যায় বলে উল্লেখ রয়েছে।

নূহ (আ.)-এর এক পুত্র ঈমান না আনায় প্লাবনে ধ্বংস হয়েছিল বলেও কোরআনে বর্ণনা রয়েছে। তার স্ত্রী সম্পর্কেও ইসলামি ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলা হয়েছে, তিনি ঈমান আনেননি এবং কাফিরদের সমর্থন করতেন।

কোথায় থেমেছিল নূহ (আ.)-এর নৌকা

পবিত্র কোরআনের সূরা হুদের ৪৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মহাপ্লাবনের পর পানি কমে গেলে নৌকাটি জুদি পাহাড়ে গিয়ে থেমেছিল।

ইসলামি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জুদি পাহাড় ইরাকের মুসেল নগরীর উত্তরে, আর্মেনিয়া সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত। এটি একটি পর্বতমালার অংশ। অন্য একটি অংশের নাম আরারাত পর্বত বলে উল্লেখ করা হয়।

এ কারণে নূহ (আ.)-এর নৌকার সম্ভাব্য অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আরারাত ও এর আশপাশের এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে ইসলামি বর্ণনায় নৌকাটি জুদি পাহাড়ে থামার কথা বলা হয়েছে- এটি গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৫৯ সাল থেকেই রহস্য

দুরুপিনার গঠনটি প্রথম ১৯৫৯ সালে আকাশ থেকে তোলা ছবিতে শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই নূহ (আ.)-এর নৌকা অনুসন্ধানকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে।

গঠনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬০ মিটার। হযরত নূহ (আ.)-এর নৌকার সম্ভাব্য দৈর্ঘ্য সম্পর্কে ধর্মীয় বর্ণনায় যে হিসাব পাওয়া যায়, তার সঙ্গে দুরুপিনারের আকারের কিছুটা মিল থাকায় স্থানটি নিয়ে আগ্রহ আরও বেড়েছে।

তবে নতুন অনুসন্ধানে মাটির নিচে অস্বাভাবিক কাঠামোর ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, এটিই হযরত নূহ (আ.)-এর নৌকা- এমন বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :