কাপাসিয়ায় রক মেলনে নতুন স্বপ্ন কৃষকের

আপলোড সময় : ২৬-০৯-২০২৬ ০৩:২৮:৫৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৬-০৯-২০২৬ ০৩:২৮:৫৯ অপরাহ্ন
গাছ জুড়ে ঝুলছে তরমুজের মতো দেখতে সারি সারি ফল। কোনোটি সবুজ, কোনোটি হলুদ। কাছে গেলে বোঝা যায়, এগুলো তরমুজ নয়, মরু অঞ্চলের পরিচিত ফল সাম্মাম বা রক মেলন। গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নতুন এই ফলের চাষ করে সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি উদ্যোক্তা মো. কামরুজ্জামান খান। এরই মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছেন তিনি। পুরো বাগান থেকে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন।

কামরুজ্জামান খান উপজেলার সূর্যনারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। তরগাঁও ইউনিয়নের উত্তর খামার এলাকায় বর্গা নেওয়া প্রায় সাড়ে ৮ বিঘা জমিতে এবার আধুনিক পদ্ধতিতে রক মেলনের আবাদ করেছেন তিনি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে মালচিং ফিল্ম ব্যবহার করে চাষাবাদ করছেন। বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের এ জমির জন্য প্রতি বিঘায় বছরে ১৫ হাজার টাকা করে বর্গা দিতে হচ্ছে।

সরেজমিন উত্তর খামার এলাকার বাগানে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে ছড়িয়ে আছে রক মেলনের গাছ। গাছের নিচে বিছানো হয়েছে মালচিং ফিল্ম। কোথাও শ্রমিকরা গাছের পরিচর্যা করছেন, কোথাও ফলধারী লতা মাচায় তুলে দিচ্ছেন। আগাছা পরিষ্কারসহ নানা কাজে ব্যস্ত তারা।

কামরুজ্জামান খান জানিয়েছেন, নতুন এ ফল চাষে শুরুতে ঝুঁকি থাকলেও ফলন ও বাজারদর তাকে আশাবাদী করেছে। এরই মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছেন। পুরো বাগানের ফল বিক্রি শেষ হলে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে উৎপাদন ব্যয়, ফলন ও বাজারদরের ওপর চূড়ান্ত লাভ নির্ভর করবে।

তিনি আরও জানান, চলতি মাসে পাইকারদের কাছে প্রতি কেজি রক মেলন ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তবে উৎপাদন বাড়লে দাম কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বাগানের শ্রমিক রতন মিয়া মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতনে কাজ করছেন। তিনি জানালেন, গাছে পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার, ফলের পরিচর্যা ও মাচায় লতা তুলে দেওয়াসহ বিভিন্ন কাজ করতে হয়। কাজের চাপ বাড়লে অতিরিক্ত শ্রমিকও নেওয়া হয়।

কৃষক ও শ্রমিকের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বাগানে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এর সঙ্গে জমির বর্গা, শ্রমিকের মজুরি, বীজ, সার, সেচ, মালচিং ফিল্ম, মাচা তৈরি ও অন্যান্য পরিচর্যার খরচ যোগ হলে মোট উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়বে।

কাপাসিয়ায় নতুন এ ফলের চাষ ঘিরে আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তারা কামরুজ্জামানের বাগানে এসে বিনিয়োগের পরিমাণ, ফলন পেতে সময়, জমির ধরন ও বাজারদর সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন।

কাপাসিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সাম্মাম উৎপাদনে সাধারণত ৭৫ থেকে ৯০ দিন সময় লাগে। নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা করা গেলে প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রকৃত আয় ফলন, বাজারদর ও উৎপাদন ব্যয়ের ওপর নির্ভর করবে।

কাপাসিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কার্যালয়ের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাকিল আহম্মেদ জানিয়েছেন, রক মেলনে বেটা-ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি ছাড়াও পটাশিয়াম, ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে। পুষ্টিগুণের কারণে ফলটির বাজারে চাহিদা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, কাপাসিয়ার তরগাঁও, টোক, বারিষাব ও সনমানিয়া এলাকার পুরনো ব্রহ্মপুত্র ও শীতলক্ষ্যা নদীর অববাহিকার দোআঁশ মাটি রক মেলন চাষের জন্য উপযোগী। তবে ভালো ফলনের জন্য নিয়মিত পরিচর্যা, সেচ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক সময়ে ফল সংগ্রহ জরুরি।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :