মূল্যস্ফীতি নিয়ে এডিবির অশনি সংকেত

আপলোড সময় : ২৩-০৯-২০২৬ ০৩:১৮:০৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৯-২০২৬ ০৩:১৮:০৭ অপরাহ্ন
২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মাঝারি মাত্রায় ঘুরে দাঁড়াবে। এই সময় ৪ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। তবে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ শতাংশ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এডিবির সর্বশেষ ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক সেপ্টেম্বর ২০২৬’ বা এশিয়ার উন্নয়নবিষয়ক পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ২০২৪–২৫ অর্থবছরের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এডিবি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিছুটা মন্থর হয়ে পড়েছিল, যদিও এর প্রভাব সীমিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রবৃদ্ধির এই ইতিবাচক পূর্বাভাসের পেছনে রয়েছে ভোগ ও বিনিয়োগের শক্তিশালী অবস্থান; কারণ ২০২৬ সালের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে এসেছে।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, তবে এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াটি এখনো বাহ্যিক অভিঘাত ও অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিস্থাপক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে এই সংস্কারগুলো অপরিহার্য।

তিনি যোগ করেন, এই সংস্কারগুলোকে জনগণের জন্য দৃশ্যমান ফলাফলে রূপান্তর করতে বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদানে এডিবি প্রস্তুত রয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১০ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি আনুমানিক ৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বেড়ে ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ের আধিক্য, জাহাজ চলাচলে সম্ভাব্য বিঘ্ন, খাদ্যপণ্যের দামে ‘এল নিনো’-র বিলম্বিত প্রভাব এবং ধীরে ধীরে শিথিল হতে থাকা মুদ্রানীতির কারণে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

রপ্তানির তুলনায় আমদানির প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আনুমানিক ০ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির ০ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। জোরালো রেমিট্যান্স ও পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাহ্যিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে; তবে এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখা নির্ভর করবে পর্যাপ্ত আর্থিক প্রবাহ, বিনিময় হারের নমনীয়তা এবং বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সেবা ও কৃষিখাত প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে উচ্চ ঋণ গ্রহণের ব্যয়, ঋণ প্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা, জ্বালানি সংকট, দুর্বল বৈদেশিক চাহিদা এবং অন্যান্য কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের কারণে শিল্প ও বিনিয়োগ খাত সীমিত পরিসরে থাকতে পারে। রেমিট্যান্স-নির্ভর বেসরকারি ভোগ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও উচ্চ মূল্যস্ফীতি পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিতে থাকবে।

এই অর্থনৈতিক পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য নিম্নমুখী ঝুঁকিও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, তেলের উচ্চমূল্য, বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচলে আরও বিঘ্ন, কঠোর বাণিজ্য বিধিনিষেধ, প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে প্রবৃদ্ধির ধীরগতি, বিনিময় হারের ওপর অব্যাহত চাপ, ব্যাংকখাতে বাড়তি সংকট, রাজস্ব সংস্কারে বিলম্ব, প্রত্যাশার চেয়ে কম উন্নয়ন ব্যয় এবং জলবায়ু-জনিত অভিঘাত প্রবৃদ্ধিকে দুর্বল করতে এবং মূল্যস্ফীতিকে উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে।

এডিবি একটি শীর্ষস্থানীয় বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক, যা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিস্থাপক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করে। জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য ও অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার পাশাপাশি, এডিবি উদ্ভাবনী আর্থিক সরঞ্জাম ও কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, মানসম্মত অবকাঠামো নির্মাণ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংকটির মালিকানায় রয়েছে ৬৯টি সদস্য দেশ, যার মধ্যে ৫০টিই এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
  
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :