একটি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রথমে ধারণা করেছিল পুলিশ। তবে তদন্ত এগোতে থাকলে সামনে আসে পাঁচ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধ, বয়সে বড়দের সঙ্গে অপ্রতিমের ‘অসম বন্ধুত্ব’ এবং টিকটক ভিডিও তৈরির প্রলোভনের মতো নানা তথ্য।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তাঁদের ভাষ্য, অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও ক্ষোভও হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। ফোনটি কেড়ে নিতে বাধা দিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়।
এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবার করা হত্যা মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। তুহিন ছাড়া গ্রেপ্তার অন্য দুজন কিশোর। এ ছাড়া আরেক তরুণের সম্পৃক্ততা যাচাই করছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অপ্রতিমের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সম্পর্ককে ‘অসম বন্ধুত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া অপ্রতিমের সঙ্গে যাঁদের ওঠাবসা ছিল, তাঁরা তার সহপাঠী ছিলেন না, বরং বয়সে বড়। তদন্তে তাঁদের একসঙ্গে তোলা ছবি, ভিডিও এবং টিকটকের জন্য তৈরি বিভিন্ন ভিডিওর তথ্যও পাওয়া গেছে।
আইফোন দিয়ে টিকটক বানানোর প্রলোভন
ঘটনার দিন শুক্রবার অপ্রতিমকে বাসা থেকে বের করে আনতে মুঠোফোনের খুদে বার্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, সেদিন অপ্রতিমের ফোনে বারবার বার্তা পাঠাচ্ছিলেন তুহিন। তাঁকে বাসা থেকে বের হতে বলছিলেন। একপর্যায়ে অপ্রতিমের দামি আইফোন দিয়ে টিকটকের ভিডিও তৈরি ও ছবি তোলার কথা বলা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত এতে রাজি হয় অপ্রতিম। শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় সে। পরিবারের পক্ষ থেকেও আগে জানানো হয়েছিল, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলবে বলে মায়ের ফোনটি নিয়ে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি।
পুলিশ সূত্র জানায়, বেলা ৩টা থেকে ৩টা ১০ মিনিটের মধ্যে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমের দেখা হয়। এরপর বিভিন্ন এলাকার অন্তত চারটি সিসিটিভি ক্যামেরায় তাদের চলাচলের দৃশ্য ধরা পড়ে। ফুটেজে অপ্রতিম ও তুহিনকে পাশাপাশি হাঁটতে ও কথা বলতে দেখা যায়। তাঁদের আচরণ ছিল স্বাভাবিক। একটি ফুটেজে তাঁদের পেছনে আরও দুজনকে যেতে দেখা যায়। অন্য একটি ফুটেজে চারজনকেই একসঙ্গে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকার একটি সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে একজনকে দেখা যায়। ওই ফুটেজ সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে।
দেড় কিলোমিটার ভেতরে নির্জন জঙ্গল
লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, মূল সড়ক থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরে কাঁচা রাস্তা দিয়ে সেখানে যেতে হয়। পুলিশ সূত্র জানায়, একটি সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিম ও তুহিনকে হেঁটে পাহাড়ের দিকে যেতে দেখা গেছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, পরে সেখানে তাঁদের সঙ্গে আরও দুই কিশোর যোগ দেয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল পাঁচটা থেকে ছয়টার মধ্যে অপ্রতিমের কাছ থেকে ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সে বাধা দিলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তুহিন প্রথমে বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। পরে অন্যরাও তাকে আঘাত করে। অপ্রতিমের মৃত্যু হলে তার ফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিয়াম নামের আরেক তরুণ ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার সময় আশপাশে থেকে পাহারা দেওয়ার মতো কোনো ভূমিকা তিনি পালন করেছিলেন কি না, তা যাচাই করছে পুলিশ। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ জানতে পেরেছে, এলাকাটি বেশ নির্জন। ফলে বাইরে থেকে সহজে সেখানে কী ঘটছে, তা বোঝার সুযোগ কম।
অপ্রতিমের মরদেহে মাথায় গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি আরও কিছু ক্ষত পাওয়া যায়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এর কিছু ক্ষত মৃত্যুর পর তৈরি হয়ে থাকতে পারে। রাতে শিয়াল মরদেহ টানাটানি করেছিল। এ বিষয়ে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক তথ্য পর্যালোচনা করছে পুলিশ।
পাঁচ হাজার টাকা নিয়েও বিরোধ
আইফোনের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের মুঠোফোনের যন্ত্রাংশ বিক্রির প্রতিষ্ঠান ইয়েসটেকে কাজ করত গ্রেপ্তার হওয়া এক কিশোর। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই কিশোরকে পাঁচ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল অপ্রতিম। সম্প্রতি সে টাকা ফেরত চাইছিল।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ নিয়ে অপ্রতিমের ওপর বিরক্ত ছিল ওই কিশোর। অপ্রতিম বেঁচে না থাকলে টাকা ফেরত দিতে হবে না, এমন চিন্তাও তার মধ্যে ছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।
একটি ফোনকল থেকে খুলতে থাকে জট
তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দেওয়া সময়রেখা অনুযায়ী, শনিবার সকাল নয়টার দিকে তুহিনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তখনো জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তারা জানতেন না যে অপ্রতিম মারা গেছে। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর তাঁদের কাছে পৌঁছায়।
তদন্তকারীদের ভাষ্য, শুরুতে তুহিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শনিবার রাত আটটার দিকে তিনি ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তবে তখনো অন্যদের নাম বলতে চাইছিলেন না। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার ভাষ্য, অন্যদের নাম প্রকাশ না করতে তিনি ‘ওয়াদাবদ্ধ’ ছিলেন।
তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর মুঠোফোনে বারবার কল আসছিল। ফোন করছিল অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ওই কিশোর। বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে এলে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশ সূত্র জানায়, আটকের সময়ও তার গায়ে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা টি-শার্ট ছিল। ওই কিশোরকে আটকের খবর পাওয়ার পর তুহিন আরেক কিশোরের নাম জানান। এরপর তাকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ।
ঘটনার আগে থেকেই নিজেদের অবস্থান আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোর মুঠোফোন ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা রাখত। ঘটনার দিন সে নিজের ফোন সঙ্গে নেয়নি। পরিবর্তে পরিবারের অন্য একজনের ফোন নিয়ে বের হয়েছিল।
তদন্তকারীদের ধারণা, পরে মুঠোফোনের অবস্থান যাচাই করা হলে যাতে ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতি শনাক্ত না হয়, সে জন্যই এমনটি করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য আলামত আরও পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে ওই কিশোরের বাবাকে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর অনুপস্থিতির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পুলিশ।
তুহিনের বাড়িতে পাওয়া যায় আইফোন
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর অপ্রতিমের আইফোনটি নিয়ে চলে যান তুহিন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ফোনটি পরে তুহিনের বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়। শনিবার রাত আটটার দিকে সদর দক্ষিণ মডেল থানার সানন্দার বাড়িতে পুলিশ গেলে তুহিনের মা শিরিনা আক্তার বিছানার তোশকের নিচ থেকে ফোনটি বের করে দেন।
তুহিনের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যার আগেই তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন। তখন ছোট ভাই তুষারকে ফোনটি সাবধানে লুকিয়ে রাখতে বলেন।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, তুহিন বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় বয়সে কম কয়েকজনকে নিয়ে চলাফেরা করতেন এবং একটি দল গড়ে তুলেছিলেন। একসময় অপ্রতিমকেও সেই দলে যুক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ।
কীভাবে গড়ে উঠেছিল ‘অসম বন্ধুত্ব’
অপ্রতিম ছিল বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সে ছিল শান্ত, মিশুক ও পড়াশোনায় ভালো। স্কুলে তাকে কোনো ঝামেলায় জড়াতে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী জাহান।
অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, তুহিন বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় বয়সে কম কয়েকজনকে নিয়ে চলাফেরা করতেন এবং একটি দল তৈরি করেছিলেন। একসময় অপ্রতিমকেও সেই দলে ভেড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগে কোনো পুলিশ রেকর্ড নেই বলেও জানান তিনি।
সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অনেকটা কিশোর অপরাধীর মতো। তারা অনেকটা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো। তাদের সঙ্গে এই ছেলের (অপ্রতিম) সম্পর্ক ছিল, ওঠাবসা ছিল, বন্ধুত্ব ছিল। তাদের বয়স নিহত শিশুটির চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বেশি।
পুলিশের কাছে অপ্রতিম ও ওই ব্যক্তিদের একসঙ্গে চলাফেরা, ছবি তোলা এবং টিকটক ভিডিও তৈরির তথ্য রয়েছে। বয়স ও সামাজিক অবস্থানের এই ব্যবধানের সম্পর্ককেই তদন্তকারীরা ‘অসম বন্ধুত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি কুমিল্লার গণ্ডি ছাড়িয়ে সারা দেশে আলোচনায় আসে। তার মা নাহিদা বেগম ফেসবুকে ছেলের সন্ধান চেয়েছিলেন। নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে বের করতে কাজ করা সংগঠন ‘মুন অ্যালার্ট’ থেকেও অপ্রতিমের ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে অসংখ্য মানুষ ছবিটি শেয়ার করে তাকে খুঁজে পেতে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
শনিবার লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে উদ্বেগ রূপ নেয় শোক ও ক্ষোভে। অভিভাবক, শিক্ষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি শেয়ার করেন। অনেকে সন্তানের নিরাপত্তা, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া এবং সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তার মা নাহিদা বেগম বলেছিলেন, ‘তোরা আইফোন নিয়ে যেতি, কিন্তু আমার ছেলেকে খুন করলি কেন?’
সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজায় শত শত মানুষ অংশ নেন। পরে গন্ধমতী ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ছেলেকে শেষবিদায় দেওয়ার সময় বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আর কাউকে যেন আমার মতো সন্তান হারাতে না হয়।’
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তাঁদের ভাষ্য, অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও ক্ষোভও হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। ফোনটি কেড়ে নিতে বাধা দিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়।
এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবার করা হত্যা মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। তুহিন ছাড়া গ্রেপ্তার অন্য দুজন কিশোর। এ ছাড়া আরেক তরুণের সম্পৃক্ততা যাচাই করছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অপ্রতিমের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সম্পর্ককে ‘অসম বন্ধুত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া অপ্রতিমের সঙ্গে যাঁদের ওঠাবসা ছিল, তাঁরা তার সহপাঠী ছিলেন না, বরং বয়সে বড়। তদন্তে তাঁদের একসঙ্গে তোলা ছবি, ভিডিও এবং টিকটকের জন্য তৈরি বিভিন্ন ভিডিওর তথ্যও পাওয়া গেছে।
আইফোন দিয়ে টিকটক বানানোর প্রলোভন
ঘটনার দিন শুক্রবার অপ্রতিমকে বাসা থেকে বের করে আনতে মুঠোফোনের খুদে বার্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, সেদিন অপ্রতিমের ফোনে বারবার বার্তা পাঠাচ্ছিলেন তুহিন। তাঁকে বাসা থেকে বের হতে বলছিলেন। একপর্যায়ে অপ্রতিমের দামি আইফোন দিয়ে টিকটকের ভিডিও তৈরি ও ছবি তোলার কথা বলা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত এতে রাজি হয় অপ্রতিম। শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় সে। পরিবারের পক্ষ থেকেও আগে জানানো হয়েছিল, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলবে বলে মায়ের ফোনটি নিয়ে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি।
পুলিশ সূত্র জানায়, বেলা ৩টা থেকে ৩টা ১০ মিনিটের মধ্যে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমের দেখা হয়। এরপর বিভিন্ন এলাকার অন্তত চারটি সিসিটিভি ক্যামেরায় তাদের চলাচলের দৃশ্য ধরা পড়ে। ফুটেজে অপ্রতিম ও তুহিনকে পাশাপাশি হাঁটতে ও কথা বলতে দেখা যায়। তাঁদের আচরণ ছিল স্বাভাবিক। একটি ফুটেজে তাঁদের পেছনে আরও দুজনকে যেতে দেখা যায়। অন্য একটি ফুটেজে চারজনকেই একসঙ্গে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকার একটি সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে একজনকে দেখা যায়। ওই ফুটেজ সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে।
দেড় কিলোমিটার ভেতরে নির্জন জঙ্গল
লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, মূল সড়ক থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরে কাঁচা রাস্তা দিয়ে সেখানে যেতে হয়। পুলিশ সূত্র জানায়, একটি সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিম ও তুহিনকে হেঁটে পাহাড়ের দিকে যেতে দেখা গেছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, পরে সেখানে তাঁদের সঙ্গে আরও দুই কিশোর যোগ দেয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল পাঁচটা থেকে ছয়টার মধ্যে অপ্রতিমের কাছ থেকে ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সে বাধা দিলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তুহিন প্রথমে বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। পরে অন্যরাও তাকে আঘাত করে। অপ্রতিমের মৃত্যু হলে তার ফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিয়াম নামের আরেক তরুণ ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার সময় আশপাশে থেকে পাহারা দেওয়ার মতো কোনো ভূমিকা তিনি পালন করেছিলেন কি না, তা যাচাই করছে পুলিশ। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ জানতে পেরেছে, এলাকাটি বেশ নির্জন। ফলে বাইরে থেকে সহজে সেখানে কী ঘটছে, তা বোঝার সুযোগ কম।
অপ্রতিমের মরদেহে মাথায় গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি আরও কিছু ক্ষত পাওয়া যায়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এর কিছু ক্ষত মৃত্যুর পর তৈরি হয়ে থাকতে পারে। রাতে শিয়াল মরদেহ টানাটানি করেছিল। এ বিষয়ে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক তথ্য পর্যালোচনা করছে পুলিশ।
পাঁচ হাজার টাকা নিয়েও বিরোধ
আইফোনের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের মুঠোফোনের যন্ত্রাংশ বিক্রির প্রতিষ্ঠান ইয়েসটেকে কাজ করত গ্রেপ্তার হওয়া এক কিশোর। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই কিশোরকে পাঁচ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল অপ্রতিম। সম্প্রতি সে টাকা ফেরত চাইছিল।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ নিয়ে অপ্রতিমের ওপর বিরক্ত ছিল ওই কিশোর। অপ্রতিম বেঁচে না থাকলে টাকা ফেরত দিতে হবে না, এমন চিন্তাও তার মধ্যে ছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।
একটি ফোনকল থেকে খুলতে থাকে জট
তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দেওয়া সময়রেখা অনুযায়ী, শনিবার সকাল নয়টার দিকে তুহিনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তখনো জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তারা জানতেন না যে অপ্রতিম মারা গেছে। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর তাঁদের কাছে পৌঁছায়।
তদন্তকারীদের ভাষ্য, শুরুতে তুহিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শনিবার রাত আটটার দিকে তিনি ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তবে তখনো অন্যদের নাম বলতে চাইছিলেন না। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার ভাষ্য, অন্যদের নাম প্রকাশ না করতে তিনি ‘ওয়াদাবদ্ধ’ ছিলেন।
তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর মুঠোফোনে বারবার কল আসছিল। ফোন করছিল অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ওই কিশোর। বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে এলে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশ সূত্র জানায়, আটকের সময়ও তার গায়ে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা টি-শার্ট ছিল। ওই কিশোরকে আটকের খবর পাওয়ার পর তুহিন আরেক কিশোরের নাম জানান। এরপর তাকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ।
ঘটনার আগে থেকেই নিজেদের অবস্থান আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোর মুঠোফোন ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা রাখত। ঘটনার দিন সে নিজের ফোন সঙ্গে নেয়নি। পরিবর্তে পরিবারের অন্য একজনের ফোন নিয়ে বের হয়েছিল।
তদন্তকারীদের ধারণা, পরে মুঠোফোনের অবস্থান যাচাই করা হলে যাতে ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতি শনাক্ত না হয়, সে জন্যই এমনটি করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য আলামত আরও পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে ওই কিশোরের বাবাকে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর অনুপস্থিতির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পুলিশ।
তুহিনের বাড়িতে পাওয়া যায় আইফোন
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর অপ্রতিমের আইফোনটি নিয়ে চলে যান তুহিন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ফোনটি পরে তুহিনের বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়। শনিবার রাত আটটার দিকে সদর দক্ষিণ মডেল থানার সানন্দার বাড়িতে পুলিশ গেলে তুহিনের মা শিরিনা আক্তার বিছানার তোশকের নিচ থেকে ফোনটি বের করে দেন।
তুহিনের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যার আগেই তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন। তখন ছোট ভাই তুষারকে ফোনটি সাবধানে লুকিয়ে রাখতে বলেন।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, তুহিন বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় বয়সে কম কয়েকজনকে নিয়ে চলাফেরা করতেন এবং একটি দল গড়ে তুলেছিলেন। একসময় অপ্রতিমকেও সেই দলে যুক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ।
কীভাবে গড়ে উঠেছিল ‘অসম বন্ধুত্ব’
অপ্রতিম ছিল বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সে ছিল শান্ত, মিশুক ও পড়াশোনায় ভালো। স্কুলে তাকে কোনো ঝামেলায় জড়াতে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী জাহান।
অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, তুহিন বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় বয়সে কম কয়েকজনকে নিয়ে চলাফেরা করতেন এবং একটি দল তৈরি করেছিলেন। একসময় অপ্রতিমকেও সেই দলে ভেড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগে কোনো পুলিশ রেকর্ড নেই বলেও জানান তিনি।
সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অনেকটা কিশোর অপরাধীর মতো। তারা অনেকটা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো। তাদের সঙ্গে এই ছেলের (অপ্রতিম) সম্পর্ক ছিল, ওঠাবসা ছিল, বন্ধুত্ব ছিল। তাদের বয়স নিহত শিশুটির চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বেশি।
পুলিশের কাছে অপ্রতিম ও ওই ব্যক্তিদের একসঙ্গে চলাফেরা, ছবি তোলা এবং টিকটক ভিডিও তৈরির তথ্য রয়েছে। বয়স ও সামাজিক অবস্থানের এই ব্যবধানের সম্পর্ককেই তদন্তকারীরা ‘অসম বন্ধুত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি কুমিল্লার গণ্ডি ছাড়িয়ে সারা দেশে আলোচনায় আসে। তার মা নাহিদা বেগম ফেসবুকে ছেলের সন্ধান চেয়েছিলেন। নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে বের করতে কাজ করা সংগঠন ‘মুন অ্যালার্ট’ থেকেও অপ্রতিমের ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে অসংখ্য মানুষ ছবিটি শেয়ার করে তাকে খুঁজে পেতে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
শনিবার লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে উদ্বেগ রূপ নেয় শোক ও ক্ষোভে। অভিভাবক, শিক্ষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি শেয়ার করেন। অনেকে সন্তানের নিরাপত্তা, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া এবং সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তার মা নাহিদা বেগম বলেছিলেন, ‘তোরা আইফোন নিয়ে যেতি, কিন্তু আমার ছেলেকে খুন করলি কেন?’
সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজায় শত শত মানুষ অংশ নেন। পরে গন্ধমতী ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ছেলেকে শেষবিদায় দেওয়ার সময় বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আর কাউকে যেন আমার মতো সন্তান হারাতে না হয়।’
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে