রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতভর চরম উত্তেজনা বিরাজ করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ, আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ এবং রেলস্টেশন কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। এমন পরিস্থিতিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে মারধরের ঘটনাটি ঘটে।
আহত শিক্ষার্থীর নাম আইয়ুব আলী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বরখাস্ত হওয়া আরএনবি সদস্যরা হলেন— মো. আরিফ হোসেন (স্টাফ নম্বর সি-৯৮৯), মো. রোকন উদ্দীন (সি-৮৮৩), মো. শফিকুল ইসলাম (সি-১৩২১) এবং মো. শাহাদত হোসেন (সি-৬০০)।
রোববার রাজশাহী রেলওয়ের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশাবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে তাঁদের সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের কমান্ড্যান্ট (সদর)-এর কাছে নিয়মিত হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আইয়ুব আলী তাঁর চাচাকে এগিয়ে আনতে স্টেশনে যান। এ সময় ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হলে আইয়ুব এর প্রতিবাদ জানান। এর জের ধরে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন স্টেশন বাজার এলাকায় রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর রাত পৌনে ১২টার দিকে একদল শিক্ষার্থী রেলস্টেশন কার্যালয়ে প্রবেশ করে জানালার কাঁচ ও চেয়ার ভাঙচুর করেন, যা রাত পৌনে ১টা পর্যন্ত চলে।
এরপর ‘মার্চ টু রাজশাহী রেলস্টেশন’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে স্টেশনের দিকে রওনা দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
এ বিষয়ে আইয়ুবের সহপাঠী মোহাম্মদ মিজান বলেন, রেলস্টেশনে রাবির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে রেলওয়ের কর্মচারীদের বাকবিতণ্ডা হচ্ছিল। পরে আইয়ুব তাদের পক্ষে কথা বললে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
এদিকে এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “জড়িতদের অনতিবিলম্বে আটক করতে হবে। ট্রেন থামিয়ে প্রতিটি ট্রেন থেকে দুজন করে ট্রেন স্টাফ তুলব আমি। আমার ব্যাপারে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর এত প্রতিহিংসা কিসের, তা দেখতে চাই।
শিক্ষার্থীদের অবরোধ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে রাত ১১টা ২০ মিনিটের ঢাকাগামী আন্তনগর ‘ধূমকেতু এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি বলে জানা গেছে।
মারধরের ঘটনার বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাপরিচালক আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ভায়োলেন্সের ঘটনা কাম্য নয়। আমরা এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠাচ্ছি। একই সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই অব্যাহতি দেওয়া হবে।’
শিক্ষার্থীদের অবরোধ ও রাকসুর জিএসের হুঁশিয়ারির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া স্বাভাবিক। তবে আমরা আইনগতভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
শিক্ষার্থী মারধরের প্রাথমিক পদক্ষেপে চার আরএনবি সদস্যকে বরখাস্ত করা হলেও, পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত ও পূর্ণাঙ্গ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে মারধরের ঘটনাটি ঘটে।
আহত শিক্ষার্থীর নাম আইয়ুব আলী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বরখাস্ত হওয়া আরএনবি সদস্যরা হলেন— মো. আরিফ হোসেন (স্টাফ নম্বর সি-৯৮৯), মো. রোকন উদ্দীন (সি-৮৮৩), মো. শফিকুল ইসলাম (সি-১৩২১) এবং মো. শাহাদত হোসেন (সি-৬০০)।
রোববার রাজশাহী রেলওয়ের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশাবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে তাঁদের সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের কমান্ড্যান্ট (সদর)-এর কাছে নিয়মিত হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আইয়ুব আলী তাঁর চাচাকে এগিয়ে আনতে স্টেশনে যান। এ সময় ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হলে আইয়ুব এর প্রতিবাদ জানান। এর জের ধরে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন স্টেশন বাজার এলাকায় রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর রাত পৌনে ১২টার দিকে একদল শিক্ষার্থী রেলস্টেশন কার্যালয়ে প্রবেশ করে জানালার কাঁচ ও চেয়ার ভাঙচুর করেন, যা রাত পৌনে ১টা পর্যন্ত চলে।
এরপর ‘মার্চ টু রাজশাহী রেলস্টেশন’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে স্টেশনের দিকে রওনা দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
এ বিষয়ে আইয়ুবের সহপাঠী মোহাম্মদ মিজান বলেন, রেলস্টেশনে রাবির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে রেলওয়ের কর্মচারীদের বাকবিতণ্ডা হচ্ছিল। পরে আইয়ুব তাদের পক্ষে কথা বললে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
এদিকে এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “জড়িতদের অনতিবিলম্বে আটক করতে হবে। ট্রেন থামিয়ে প্রতিটি ট্রেন থেকে দুজন করে ট্রেন স্টাফ তুলব আমি। আমার ব্যাপারে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর এত প্রতিহিংসা কিসের, তা দেখতে চাই।
শিক্ষার্থীদের অবরোধ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে রাত ১১টা ২০ মিনিটের ঢাকাগামী আন্তনগর ‘ধূমকেতু এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি বলে জানা গেছে।
মারধরের ঘটনার বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাপরিচালক আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ভায়োলেন্সের ঘটনা কাম্য নয়। আমরা এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠাচ্ছি। একই সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই অব্যাহতি দেওয়া হবে।’
শিক্ষার্থীদের অবরোধ ও রাকসুর জিএসের হুঁশিয়ারির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া স্বাভাবিক। তবে আমরা আইনগতভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
শিক্ষার্থী মারধরের প্রাথমিক পদক্ষেপে চার আরএনবি সদস্যকে বরখাস্ত করা হলেও, পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত ও পূর্ণাঙ্গ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে