বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে যখন ঐতিহ্যবাহী ইলিশের উৎপাদন দিন দিন কমছে, ঠিক তখনই ভারতের গুজরাট রাজ্যের নর্মদা নদীতে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে।
পরিবেশগত পরিবর্তন এবং অনকূল বর্ষার কারণে নদীটির মোহনা এখন ইলিশের চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। মূলত জীবনচক্রের বড় অংশ সমুদ্রে কাটানো এই পরিযায়ী মাছ প্রজনন মৌসুমে নদী ও সাগরের মিশ্র পানির খোঁজে নর্মদার নিম্ন অববাহিকার দিকে ঝুঁকছে।
কামধেনু বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব ফিশারিজ সায়েন্সের সহকারী অধ্যাপক আর বি ভালা ও এ এম পারমার এ বিষয়ে জানান, নর্মদার ভরুচ এলাকার নোনা ও মিঠা পানির চমৎকার মিশ্রণ ইলিশের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে এবং এই ধরনের পরিবর্তনই ইলিশের গতিপথ বদলে দিচ্ছে।
ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বজুড়ে উৎপাদিত মোট ইলিশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় এবং দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে এর অবদান প্রায় ১২ শতাংশ। তবে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৫ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদনের পর থেকে দেশে ইলিশের প্রাপ্তি প্রতি বছরই কমছে। সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ৫ লাখ টনেরও নিচে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফারাক্কা ব্যারাজ, নদীতে নানা নির্মাণকাজ, গভীরতা হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তন ও দূষণের কারণেই গঙ্গা-হুগলি-পদ্মা নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও ইলিশের প্রজনন পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে গুজরাটে ইলিশের উৎপাদন গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজ্যটিতে ইলিশ উৎপাদন বেড়ে ১৪ হাজার ৫৮৭ দশমিক ৭২ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে, যার সিংহভাগই এসেছে অভ্যন্তরীণ জলসীমা ও ভরুচ অঞ্চল থেকে।
উৎপাদনের এই জোয়ারে নর্মদা তীরের ২৫ হাজারের বেশি মৎস্যজীবী পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। ভাদভুত গ্রামের জেলে ধবল মাচ্ছি বলেন, "বর্ষার চার মাসের ইলিশ মৌসুম আমাদের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ সময়। হানসোট, দাহেজ ও ভাদভুত এলাকায় এবার ভালো ইলিশ ধরা পড়ছে।"
এছাড়া নর্মদায় এত বেশি ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনা তারা আগে দেখেননি উল্লেখ করে ভরুচের জেলে রমেশ মাচ্ছি জানান, নর্মদায় নজিরবিহীন মাছ পাওয়ায় স্থানীয় পরিবারগুলোর আর্থিক স্বস্তি এসেছে।
গুজরাটে ইলিশের স্থানীয় চাহিদা কম থাকায় সিংহভাগ মাছই পাঠানো হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বাজারে। ইতোমধ্যে কেবল ভরুচ জেলা থেকেই প্রায় ২৫০ টন ইলিশ কলকাতার বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে। ইলিশের এই প্রবাসমন কেবল মৎস্য শিকারের বিষয় নয়, বরং এটি নদী, পরিবেশ ও পরিযায়ী মাছের আচরণের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনেরও এক বার্তা দিচ্ছে।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
পরিবেশগত পরিবর্তন এবং অনকূল বর্ষার কারণে নদীটির মোহনা এখন ইলিশের চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। মূলত জীবনচক্রের বড় অংশ সমুদ্রে কাটানো এই পরিযায়ী মাছ প্রজনন মৌসুমে নদী ও সাগরের মিশ্র পানির খোঁজে নর্মদার নিম্ন অববাহিকার দিকে ঝুঁকছে।
কামধেনু বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব ফিশারিজ সায়েন্সের সহকারী অধ্যাপক আর বি ভালা ও এ এম পারমার এ বিষয়ে জানান, নর্মদার ভরুচ এলাকার নোনা ও মিঠা পানির চমৎকার মিশ্রণ ইলিশের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে এবং এই ধরনের পরিবর্তনই ইলিশের গতিপথ বদলে দিচ্ছে।
ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বজুড়ে উৎপাদিত মোট ইলিশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় এবং দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে এর অবদান প্রায় ১২ শতাংশ। তবে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৫ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদনের পর থেকে দেশে ইলিশের প্রাপ্তি প্রতি বছরই কমছে। সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ৫ লাখ টনেরও নিচে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফারাক্কা ব্যারাজ, নদীতে নানা নির্মাণকাজ, গভীরতা হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তন ও দূষণের কারণেই গঙ্গা-হুগলি-পদ্মা নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও ইলিশের প্রজনন পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে গুজরাটে ইলিশের উৎপাদন গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজ্যটিতে ইলিশ উৎপাদন বেড়ে ১৪ হাজার ৫৮৭ দশমিক ৭২ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে, যার সিংহভাগই এসেছে অভ্যন্তরীণ জলসীমা ও ভরুচ অঞ্চল থেকে।
উৎপাদনের এই জোয়ারে নর্মদা তীরের ২৫ হাজারের বেশি মৎস্যজীবী পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। ভাদভুত গ্রামের জেলে ধবল মাচ্ছি বলেন, "বর্ষার চার মাসের ইলিশ মৌসুম আমাদের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ সময়। হানসোট, দাহেজ ও ভাদভুত এলাকায় এবার ভালো ইলিশ ধরা পড়ছে।"
এছাড়া নর্মদায় এত বেশি ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনা তারা আগে দেখেননি উল্লেখ করে ভরুচের জেলে রমেশ মাচ্ছি জানান, নর্মদায় নজিরবিহীন মাছ পাওয়ায় স্থানীয় পরিবারগুলোর আর্থিক স্বস্তি এসেছে।
গুজরাটে ইলিশের স্থানীয় চাহিদা কম থাকায় সিংহভাগ মাছই পাঠানো হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বাজারে। ইতোমধ্যে কেবল ভরুচ জেলা থেকেই প্রায় ২৫০ টন ইলিশ কলকাতার বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে। ইলিশের এই প্রবাসমন কেবল মৎস্য শিকারের বিষয় নয়, বরং এটি নদী, পরিবেশ ও পরিযায়ী মাছের আচরণের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনেরও এক বার্তা দিচ্ছে।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে