চলচ্চিত্রপাড়ায় গুঞ্জন উঠেছে যে, অভিনেতা রিয়াজ আহমেদ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে চুপিসারে দেশত্যাগ করেছেন। তবে এ বিষয়ে নায়ক এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিমানবন্দরের একটি সূত্র জানিয়েছে, আমরা এমন কিছু টের পাইনি। ল্যান্ডপোর্ট দিয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের জানার কথা না।
এর আগে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান রিয়াজ। এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল। তবে দেশের তৎকালীন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং গোয়েন্দা সংস্থার কড়া নজরদারির কারণে ইমিগ্রেশন পুলিশ বিমানবন্দর থেকেই তাকে আটকে দেয় এবং ফেরত পাঠায়। সেই ঘটনার পর থেকেই মূলত তার দেশত্যাগের চেষ্টার খবর বারবার নতুন করে ডালপালা মেলতে শুরু করে।
জুলাই বিপ্লবের সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিপক্ষে রাজপথে এবং বিতর্কিত ‘আলো আসবেই’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে রিয়াজের সক্রিয় অবস্থানের কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। সম্প্রতি জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট দুটি হত্যা মামলায় আগাম জামিন চেয়ে পাননি রিয়াজ। গত ৩ সেপ্টেম্বর আদালত তার জামিন আবেদনটি খারিজ করে দেন।
দীর্ঘদিন রিয়াজকে কোনো জনসম্মুখে বা এফডিসিতে দেখা যায়নি। এই দীর্ঘ অনুপস্থিতিই জন্ম দিয়েছে নানা গুঞ্জনের, যার সর্বশেষ সংযোজন ছিল তার ‘মৃত্যুর গুজব’।
শেখ হাসিনার পতনের আগ পর্যন্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশ সক্রিয় ছিলেন রিয়াজ। দলের বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা ছাড়াও বিটিভি ও এফডিসির একাধিক কর্মসূচিতে তাকে সামনের সারিতে দেখা যেত।
গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। সেদিন থেকেই তার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কোনো দায়িত্বশীল নেতাই বলতে পারছেন না রিয়াজ এখন কোথায় আছেন।
রিয়াজের নিখোঁজ থাকা নিয়ে চলচ্চিত্রপাড়ায় ডালপালা মেলেছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সবচেয়ে জোরালো গুঞ্জনটি হলো, তিনি গোপনে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার অনেকের মতে, তিনি দেশ ছাড়েননি; আইনি জটিলতা বা জনরোষের ভয়ে দেশেরই কোনো নিরাপদ আস্তানায় গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে কোনো পক্ষ থেকেই রিয়াজের বর্তমান অবস্থানের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি।
দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার সুযোগ নিয়ে মাঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রিয়াজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কিছু ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ থেকে দাবি করা হয় যে, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় চিত্রনায়ক রিয়াজ মারা গেছেন। সে সময় খবরটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হলে ভক্ত ও সহশিল্পীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করে।
বিষয়টি নিয়ে নীরবতা ভাঙতে বাধ্য হয় রিয়াজের পরিবার। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে রিয়াজের স্ত্রী একে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ‘ভিত্তিহীন গুজব’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, এ ধরনের খবর একেবারেই সত্য নয়। তিনি যেখানেই আছেন, ভালো আছেন। সে সময় পরিবার থেকে মৃত্যুর খবর অস্বীকার করা হলেও, রিয়াজ বর্তমানে ঠিক কোন দেশে বা কোথায় অবস্থান করছেন, সে ব্যাপারে তার স্ত্রীও স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ‘বাংলার নায়ক’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে পা রাখেন রিয়াজ। এরপর ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’, ‘হৃদয়ের আয়না’ কিংবা হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের জনপ্রিয় চরিত্র ‘শুভ্র’ হয়ে তিনি দর্শকদের মন জয় করেন। সবশেষ ২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অপারেশন সুন্দরবন’ সিনেমায় দেখা গেছে তাকে।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিমানবন্দরের একটি সূত্র জানিয়েছে, আমরা এমন কিছু টের পাইনি। ল্যান্ডপোর্ট দিয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের জানার কথা না।
এর আগে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান রিয়াজ। এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল। তবে দেশের তৎকালীন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং গোয়েন্দা সংস্থার কড়া নজরদারির কারণে ইমিগ্রেশন পুলিশ বিমানবন্দর থেকেই তাকে আটকে দেয় এবং ফেরত পাঠায়। সেই ঘটনার পর থেকেই মূলত তার দেশত্যাগের চেষ্টার খবর বারবার নতুন করে ডালপালা মেলতে শুরু করে।
জুলাই বিপ্লবের সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিপক্ষে রাজপথে এবং বিতর্কিত ‘আলো আসবেই’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে রিয়াজের সক্রিয় অবস্থানের কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। সম্প্রতি জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট দুটি হত্যা মামলায় আগাম জামিন চেয়ে পাননি রিয়াজ। গত ৩ সেপ্টেম্বর আদালত তার জামিন আবেদনটি খারিজ করে দেন।
দীর্ঘদিন রিয়াজকে কোনো জনসম্মুখে বা এফডিসিতে দেখা যায়নি। এই দীর্ঘ অনুপস্থিতিই জন্ম দিয়েছে নানা গুঞ্জনের, যার সর্বশেষ সংযোজন ছিল তার ‘মৃত্যুর গুজব’।
শেখ হাসিনার পতনের আগ পর্যন্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশ সক্রিয় ছিলেন রিয়াজ। দলের বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা ছাড়াও বিটিভি ও এফডিসির একাধিক কর্মসূচিতে তাকে সামনের সারিতে দেখা যেত।
গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। সেদিন থেকেই তার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কোনো দায়িত্বশীল নেতাই বলতে পারছেন না রিয়াজ এখন কোথায় আছেন।
রিয়াজের নিখোঁজ থাকা নিয়ে চলচ্চিত্রপাড়ায় ডালপালা মেলেছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সবচেয়ে জোরালো গুঞ্জনটি হলো, তিনি গোপনে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার অনেকের মতে, তিনি দেশ ছাড়েননি; আইনি জটিলতা বা জনরোষের ভয়ে দেশেরই কোনো নিরাপদ আস্তানায় গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে কোনো পক্ষ থেকেই রিয়াজের বর্তমান অবস্থানের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি।
দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার সুযোগ নিয়ে মাঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রিয়াজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কিছু ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ থেকে দাবি করা হয় যে, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় চিত্রনায়ক রিয়াজ মারা গেছেন। সে সময় খবরটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হলে ভক্ত ও সহশিল্পীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করে।
বিষয়টি নিয়ে নীরবতা ভাঙতে বাধ্য হয় রিয়াজের পরিবার। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে রিয়াজের স্ত্রী একে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ‘ভিত্তিহীন গুজব’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, এ ধরনের খবর একেবারেই সত্য নয়। তিনি যেখানেই আছেন, ভালো আছেন। সে সময় পরিবার থেকে মৃত্যুর খবর অস্বীকার করা হলেও, রিয়াজ বর্তমানে ঠিক কোন দেশে বা কোথায় অবস্থান করছেন, সে ব্যাপারে তার স্ত্রীও স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ‘বাংলার নায়ক’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে পা রাখেন রিয়াজ। এরপর ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’, ‘হৃদয়ের আয়না’ কিংবা হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের জনপ্রিয় চরিত্র ‘শুভ্র’ হয়ে তিনি দর্শকদের মন জয় করেন। সবশেষ ২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অপারেশন সুন্দরবন’ সিনেমায় দেখা গেছে তাকে।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে