​সীমিত সম্পদে সর্বোচ্চ উন্নয়নের তাগিদ এলজিআরডি মন্ত্রীর

আপলোড সময় : ১৯-০৯-২০২৬ ০৫:৫৮:১৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-০৯-২০২৬ ০৫:৫৮:১৭ অপরাহ্ন
জনগণের সম্পদের অপচয় রোধ করে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

তিনি বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সম্পদের কাস্টোডিয়ান। তাই প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে দায়িত্বশীলতা, সঠিক পরিকল্পনা এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনে অধিদপ্তরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

মন্ত্রী বলেন, শুধু কাগজে-কলমে পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই হবে না, পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সম্পদ সীমিত। তাই প্রয়োজন ও সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় করে কম ব্যয়ে সর্বোচ্চ ফল অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনগণের সেবা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে এলজিইডি দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন ধারার সূচনা করে। এর ফলে বাংলাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামোর চিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমানে নেওয়া উন্নয়ন পরিকল্পনার সুফল আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে দেশের মানুষ পাবে বলে তিনি আশা করেন। বাংলাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনপদের উন্নয়নের চাবিকাঠি এলজিইডির কর্মকর্তাদের হাতে উল্লেখ করে তিনি তৃণমূলের মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে ইটের ব্যবহার কমিয়ে ইউনি ব্লক ও সিসি ব্লকের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ৬ থেকে ৯ ফুট প্রশস্ত ছোট সড়কে ইটের পরিবর্তে ইউনি ব্লক ও সিসি ব্লক ব্যবহার করা যেতে পারে। আর ভারী যানবাহন চলাচলের সড়কে প্রয়োজন অনুযায়ী আরসিসি বা কার্পেটিং এবং দেশীয় পাথর ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। নদীতীরবর্তী ও বন্যাপ্রবণ সড়কে মাটি ক্ষয়রোধে ‘বিন্যা ঘাস’ ব্যবহারেরও নির্দেশনা দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও হাটবাজারসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি।

মীর শাহে আলম বলেন, সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব। এতে একদিকে বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে, অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ও বাড়বে। এ কারণে কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দপ্তরে সোলার প্যানেল স্থাপনে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডির চলমান প্রকল্পগুলোর প্রকল্প পরিচালক এবং উপজেলা প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :