দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর পাকিস্তান ও চীনের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ‘যৌথ সীমান্ত কমিশন’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চালুকৃত এই পদক্ষেপকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তিগত সমন্বয় বৃদ্ধিতে নতুন এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যৌথ এই কমিশনের উদ্বোধনী বৈঠক ইসলামাবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমানা ও মহাসমুদ্রবিষয়ক বিভাগের উপ-মহাপরিচালক লি ইয়া এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চীন অনুবিভাগের মহাপরিচালক বিলাল মাহমুদ চৌধুরী নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের প্রতিনিধিত্ব করেন।
‘পাকিস্তান-চীন যৌথ সীমান্ত কমিশন’ চালু হওয়াকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানায়, এটি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ সীমান্ত জরিপ, বাণিজ্য প্রবাহ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
মূলত ২০১৩ সালে চীনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লি খছিয়াংয়ের পাকিস্তান সফরের সময় স্বাক্ষরিত ‘সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চুক্তি’র ৪৫ অনুচ্ছেদের আলোকেই এই যৌথ কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশনের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার নিয়মিত পরিদর্শন, সীমানা পিলারের রক্ষণাবেক্ষণ, যৌথ জরিপ, সীমান্ত সুবিধা পরিচালনা এবং সীমান্তে অপ্রীতিকর ঘটনা সমাধানের জন্য এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) ও খুনজেরাব পাস দিয়ে বাণিজ্য ও যাতায়াত আরও সুসংহত হবে।
এই কমিশনটি চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তির অধীনে গঠিত ‘যৌথ সীমানা নির্ধারণ কমিশন’ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ১৯৬৩ সালের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চেন ই-র স্বাক্ষরিত চুক্তির অধীনে গঠিত কমিশনটির কাজ ছিল সীমানা চিহ্নিতকরণ ও মানচিত্র তৈরি করা, যা প্রটোকল স্বাক্ষরের পর শেষ হয়ে যায়।
অন্যদিকে ২০১৩ সালের চুক্তি ও বর্তমান যৌথ কমিশনটি ইতোমধ্যেই নির্ধারিত সীমান্ত স্থায়ীভাবে তদারকি ও পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে গঠিত। এর বিধান অনুযায়ী, সীমান্ত পিলার নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে মূল সীমানা অক্ষুণ্ণ রেখে নতুন স্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কমিশন।
এদিকে পাকিস্তান ও চীনের এই যৌথ উদ্যোগকে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানান, ‘আমরা এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেখেছি। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট ও অপরিবর্তিত। পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই। তাই আইনি ভিত্তিহীন এই যৌথ কমিশনকে আমরা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছি।’
ভারত আপত্তি জানালেও দুই দেশ সীমান্ত সংক্রান্ত এই প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমেই এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সূত্র: ডন
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যৌথ এই কমিশনের উদ্বোধনী বৈঠক ইসলামাবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমানা ও মহাসমুদ্রবিষয়ক বিভাগের উপ-মহাপরিচালক লি ইয়া এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চীন অনুবিভাগের মহাপরিচালক বিলাল মাহমুদ চৌধুরী নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের প্রতিনিধিত্ব করেন।
‘পাকিস্তান-চীন যৌথ সীমান্ত কমিশন’ চালু হওয়াকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানায়, এটি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ সীমান্ত জরিপ, বাণিজ্য প্রবাহ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
মূলত ২০১৩ সালে চীনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লি খছিয়াংয়ের পাকিস্তান সফরের সময় স্বাক্ষরিত ‘সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চুক্তি’র ৪৫ অনুচ্ছেদের আলোকেই এই যৌথ কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশনের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার নিয়মিত পরিদর্শন, সীমানা পিলারের রক্ষণাবেক্ষণ, যৌথ জরিপ, সীমান্ত সুবিধা পরিচালনা এবং সীমান্তে অপ্রীতিকর ঘটনা সমাধানের জন্য এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) ও খুনজেরাব পাস দিয়ে বাণিজ্য ও যাতায়াত আরও সুসংহত হবে।
এই কমিশনটি চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তির অধীনে গঠিত ‘যৌথ সীমানা নির্ধারণ কমিশন’ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ১৯৬৩ সালের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চেন ই-র স্বাক্ষরিত চুক্তির অধীনে গঠিত কমিশনটির কাজ ছিল সীমানা চিহ্নিতকরণ ও মানচিত্র তৈরি করা, যা প্রটোকল স্বাক্ষরের পর শেষ হয়ে যায়।
অন্যদিকে ২০১৩ সালের চুক্তি ও বর্তমান যৌথ কমিশনটি ইতোমধ্যেই নির্ধারিত সীমান্ত স্থায়ীভাবে তদারকি ও পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে গঠিত। এর বিধান অনুযায়ী, সীমান্ত পিলার নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে মূল সীমানা অক্ষুণ্ণ রেখে নতুন স্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কমিশন।
এদিকে পাকিস্তান ও চীনের এই যৌথ উদ্যোগকে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানান, ‘আমরা এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেখেছি। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট ও অপরিবর্তিত। পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই। তাই আইনি ভিত্তিহীন এই যৌথ কমিশনকে আমরা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছি।’
ভারত আপত্তি জানালেও দুই দেশ সীমান্ত সংক্রান্ত এই প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমেই এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সূত্র: ডন
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে