যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাজ্যটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামের সংক্রমণে সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি প্রাদুর্ভাবে দেশটিতে মোট চারজনের মৃত্যু হলো। চারটি মৃত্যুর সবগুলোই ঘটেছে পেনসিলভেনিয়ায়। এর ফলে ১৯৯২ সালের পর রাজ্যটিতে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে হামের মৃত্যুর হিসাব ও রিপোর্টিং পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার কারণে মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) তাদের জাতীয় পরিসংখ্যানে এই মৃত্যুগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করছে না। এর আগে ২০০৫ সালে হামে আক্রান্ত হয়ে তিনজন মারা গিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পেনসিলভেনিয়ার স্বাস্থ্য সচিব ডা. ডেবরা বোগেন এক বিবৃতিতে বলেন, “যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন, সেই শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমার সমবেদনা জানাই। গত তিন দশকেরও বেশি সময়েরও মধ্যে পেনসিলভেনিয়া এখন সবচেয়ে খারাপ হামের প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হয়েছে।” পেনসিলভেনিয়া প্রায় ৭০০ জন হামে আক্রান্ত বলে জানানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, “পেনসিলভেনিয়া জুড়ে আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে এই প্রাদুর্ভাব রোধ করতে এবং আরও মৃত্যু ঠেকানোর জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর অর্থ হলো- মানুষের কাছে হাম সম্পর্কে সঠিক তথ্য এবং এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যা কয়েক দশক ধরে হামের প্রাদুর্ভাবকে দূরে রেখেছিল।”
নিউমোনিয়া এবং স্নায়বিক জটিলতার মতো হাম-সম্পর্কিত জটিলতার কারণে প্রতি এক হাজার জনের মধ্যে এক থেকে তিনজন মারা যান। মঙ্গলবার হামসম্পর্কিত সর্বশেষ যে মৃত্যুর খবর ঘোষণা করা হয়, তিনি মিফলিন কাউন্টির ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ। তিনি এনসেফালাইটিস-এ আক্রান্ত হয়েছিলেন, যা ভাইরাসটির একটি বিরল ও মারাত্মক স্নায়বিক জটিলতা। এই রোগে আক্রান্ত প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পেনসিলভেনিয়ার ল্যাঙ্কাস্টার ও মিফলিন কাউন্টির কৃষিপ্রধান এলাকাগুলো এই রাজ্যব্যাপী প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এছাড়া উটাহ, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যেও হামের অনেক রোগী শনাক্ত হয়েছে।
চলতি ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হামের মোট রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা এর চেয়েও বেশি। এমএমআর টিকা ৯৭ শতাংশ ক্ষেত্রে হাম প্রতিরোধে কার্যকর হলেও শিশুদের টিকাদানের হার ক্রমান্বয়ে কমছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিকা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বার্তা প্রচারের কারণেই অভিভাবকদের মধ্যে এই অনীহা তৈরি হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র- যিনি দায়িত্ব নেওয়ার পূর্বে একটি টিকাবিরোধী সংগঠনের নেতৃত্ব দিতেন- তিনি ফেডারেল টিকানীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন এবং এমএমআর টিকা সম্পর্কে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে আসছেন।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাম নির্মূল করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের কারণে সেই স্বীকৃতি ধরে রাখা নিয়ে এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে টিকা নিয়ে প্রতিরোধযোগ্য শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ এখনও এই হাম।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে হামের মৃত্যুর হিসাব ও রিপোর্টিং পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার কারণে মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) তাদের জাতীয় পরিসংখ্যানে এই মৃত্যুগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করছে না। এর আগে ২০০৫ সালে হামে আক্রান্ত হয়ে তিনজন মারা গিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পেনসিলভেনিয়ার স্বাস্থ্য সচিব ডা. ডেবরা বোগেন এক বিবৃতিতে বলেন, “যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন, সেই শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমার সমবেদনা জানাই। গত তিন দশকেরও বেশি সময়েরও মধ্যে পেনসিলভেনিয়া এখন সবচেয়ে খারাপ হামের প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হয়েছে।” পেনসিলভেনিয়া প্রায় ৭০০ জন হামে আক্রান্ত বলে জানানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, “পেনসিলভেনিয়া জুড়ে আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে এই প্রাদুর্ভাব রোধ করতে এবং আরও মৃত্যু ঠেকানোর জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর অর্থ হলো- মানুষের কাছে হাম সম্পর্কে সঠিক তথ্য এবং এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যা কয়েক দশক ধরে হামের প্রাদুর্ভাবকে দূরে রেখেছিল।”
নিউমোনিয়া এবং স্নায়বিক জটিলতার মতো হাম-সম্পর্কিত জটিলতার কারণে প্রতি এক হাজার জনের মধ্যে এক থেকে তিনজন মারা যান। মঙ্গলবার হামসম্পর্কিত সর্বশেষ যে মৃত্যুর খবর ঘোষণা করা হয়, তিনি মিফলিন কাউন্টির ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ। তিনি এনসেফালাইটিস-এ আক্রান্ত হয়েছিলেন, যা ভাইরাসটির একটি বিরল ও মারাত্মক স্নায়বিক জটিলতা। এই রোগে আক্রান্ত প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পেনসিলভেনিয়ার ল্যাঙ্কাস্টার ও মিফলিন কাউন্টির কৃষিপ্রধান এলাকাগুলো এই রাজ্যব্যাপী প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এছাড়া উটাহ, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যেও হামের অনেক রোগী শনাক্ত হয়েছে।
চলতি ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হামের মোট রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা এর চেয়েও বেশি। এমএমআর টিকা ৯৭ শতাংশ ক্ষেত্রে হাম প্রতিরোধে কার্যকর হলেও শিশুদের টিকাদানের হার ক্রমান্বয়ে কমছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিকা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বার্তা প্রচারের কারণেই অভিভাবকদের মধ্যে এই অনীহা তৈরি হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র- যিনি দায়িত্ব নেওয়ার পূর্বে একটি টিকাবিরোধী সংগঠনের নেতৃত্ব দিতেন- তিনি ফেডারেল টিকানীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন এবং এমএমআর টিকা সম্পর্কে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে আসছেন।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাম নির্মূল করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের কারণে সেই স্বীকৃতি ধরে রাখা নিয়ে এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে টিকা নিয়ে প্রতিরোধযোগ্য শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ এখনও এই হাম।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন