​রুশ ড্রোন হামলা: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

আপলোড সময় : ১৪-০৯-২০২৬ ০৩:১৮:০১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-০৯-২০২৬ ০৩:২০:২২ অপরাহ্ন
ইউক্রেন–পোল্যান্ড সীমান্তের অদূরে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলার ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ইউরোপের কয়েকজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। হামলার কয়েক মিনিট আগেই তারা একই রেলপথ দিয়ে অন্য একটি ট্রেনে ওই এলাকা অতিক্রম করেন। হামলায় একটি ট্রেনের ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইউক্রেনের ইয়াহোদিন এলাকায় এ হামলা চালানো হয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থা উকরজালিজনিৎসিয়া জানিয়েছে, রুশ বাহিনী জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করে ট্রেনটিতে আঘাত হানে। হামলার আগে ট্রেনের সব যাত্রীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

কিয়েভে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলন শেষে বরিস জনসন, যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ওই রেলপথ ধরে ফিরছিলেন। তবে হামলার শিকার ট্রেনটিতে তারা ছিলেন না। তাদের বহনকারী কূটনৈতিক ট্রেনটি সময়সূচির পরিবর্তন এবং রুশ হামলার আশঙ্কায় নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেশন ছেড়ে যায়। ফলে তারা হামলার সময় ওই এলাকার কাছাকাছি থাকলেও আক্রান্ত ট্রেনটিতে ছিলেন না।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোন আঘাত হানার প্রায় ১৫ মিনিট আগে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর ড্রোনটি ট্রেনটির ইঞ্জিনে আঘাত করে।

হামলার সময় ইয়াহোদিন স্টেশনে অবস্থানরত আরেকটি ট্রেনে সাবেক সিআইএ পরিচালক ডেভিড পেট্রাউসও ছিলেন বলে জানিয়েছে উকরজালিজনিৎসিয়া।

ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার স্থানটি পোলিশ সীমান্ত থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে। অন্যদিকে রাশিয়া দাবি করেছে, পশ্চিম ইউক্রেনের রেল অবকাঠামো লক্ষ্য করেই তারা হামলা চালিয়েছে।

তবে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থার দাবি, বরিস জনসন ও ইউরোপীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বহনকারী ট্রেনকে লক্ষ্য করেই হামলাটি পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে।

কিয়েভ সম্মেলনে অংশ নেওয়া সুইডেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্টও ঘটনার সময়কার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ট্রেন থামার পর যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। কয়েক মিনিট পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা জানিয়ে তাদের একই ট্রেনে যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। পরে ট্রেনটি নিরাপদে পোল্যান্ড সীমান্তের দোরোহুস্ক স্টেশনে পৌঁছায়।

কিছু প্রতিবেদনে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, বিল্ট ও বরিস জনসন একই ট্রেনে ছিলেন। তবে জনসন নিজে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নিশ্চিত করেননি।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বরিস জনসন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে কটাক্ষ করে বলেন, পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে ইউক্রেনের একটি দাঁড়িয়ে থাকা লোকোমোটিভ ধ্বংস করার পেছনে কী ধরনের ‘বিকৃত যুক্তি’ কাজ করেছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

তিনি এই হামলাকে ইউক্রেনে প্রতিদিন চালানো রুশ হামলারই আরেকটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনের মিত্রদের দ্রুত আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানান।

রুশ হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে তার মিত্রদের কাছে আরও বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে হামলার ক্ষেত্রে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি জেটচালিত ড্রোনের ব্যবহারও বেড়েছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিকা ঘটনাটিকে ‘বর্বর’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তার মতে, এ ধরনের হামলার মধ্য দিয়ে রাশিয়ার কর্মকাণ্ড সরাসরি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। এ ঘটনায় মস্কোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক। তিনি বলেন, রাশিয়ার সামরিক উসকানি এখন আর কেবল কথার পর্যায়ে নেই; তা বাস্তব রূপ নিচ্ছে এবং পোল্যান্ডের সীমান্তের অত্যন্ত কাছে চলে আসছে।

২০২২ সালে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের আকাশপথ বন্ধ রয়েছে। ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যাতায়াতে রেলব্যবস্থাই গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ইউক্রেনের রেলপথ, ট্রেন, রেল ডিপো এবং সীমান্তসংলগ্ন পারাপারকেন্দ্রগুলোতে হামলা আরও বাড়িয়েছে। ফলে যুদ্ধের মধ্যেও দেশটির বিশাল রেল নেটওয়ার্ক এখন ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে।

সূত্র: বিবিসি

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :