​৪,৩০০ বছরের পুরোনো সমাধি আবিষ্কার

আপলোড সময় : ০৯-০৯-২০২৬ ০৬:৫২:৫০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-০৯-২০২৬ ০৬:৫২:৫০ অপরাহ্ন
মরুভূমির বালুর নিচ থেকে যেন উঁকি দিচ্ছে প্রাচীন মিশরের এক হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়। দীর্ঘ ৪,৩০০ বছর পর কায়রোর দক্ষিণে অবস্থিত সাক্কারার সুবিশাল সমাধিক্ষেত্রে নতুন এক সমাধির সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা।

এটি কোনো সাধারণ মানুষের সমাধি নয়, বরং প্রাচীন মিশরের পঞ্চম রাজবংশের ফারাও জেদকারে ইসেসির আমলের একজন প্রভাবশালী বিচারক ইউনমেনের। সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনা, তাদের অসন্তোষ দূর করা এবং সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই ছিল তার প্রধান কাজ।

মিশরের প্রত্নতত্ত্ববিষয়ক সর্বোচ্চ পরিষদ এবং স্পেনের বার্সেলোনার অটোনোমাস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যৌথ দলের দীর্ঘ অনুসন্ধানে সাক্কারার মারিয়েত এলাকায় এই ঐতিহাসিক আবিষ্কারটি সম্ভব হয়েছে। ইউনমেনের এই দায়িত্ব প্রাচীন মিশরের ‘মা'আত’ দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল।

এই দর্শনের মূল কথাই হলো- সত্য, ন্যায়বিচার, ভারসাম্য ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যা তৎকালীন রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।

সমাধির ভেতরে প্রবেশ করে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা এক বিস্ময়কর পারিবারিক মেলবন্ধনেরও দেখা পেয়েছেন। সেখানে অত্যন্ত সুসজ্জিত দুটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কক্ষ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি কক্ষ বিচারক ইউনমেনের নিজের, আর অন্যটি পরম শ্রদ্ধায় উৎসর্গ করা হয়েছে তার বাবা ইটির প্রতি।

ইটি ছিলেন তৎকালীন একজন জ্যেষ্ঠ লিপিকার, যিনি কৃষিজমি ও দেব-দেবীর উপঢৌকনের তদারকির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতেন।

সমাধির দেয়ালগুলো যেন প্রাচীন মিশরের দৈনন্দিন জীবনের এক জীবন্ত ক্যানভাস। সেখানে খোদাই করা চিত্রগুলোতে কৃষকদের মাঠে কাজ করার দৃশ্য, সেবকদের উপঢৌকন বহন করা এবং পরকালীন জীবনের নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, চার সহস্রাব্দেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সমাধির ভেতরের চিত্র ও অলংকরণের মূল রং আজও চমৎকারভাবে অক্ষত রয়ে গেছে। এই রঙিন শিল্পকর্মগুলো গবেষকদের প্রাচীন মিশরীয়দের উন্নত শিল্পবোধ সম্পর্কে এক নতুন ধারণা দিচ্ছে।

যে ফারাও জেদকারে ইসেসির শাসনামলে ইউনমেন কাজ করতেন, খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দের সেই সময়কালটি ছিল প্রাচীন মিশরীয় রাষ্ট্রের প্রশাসনিক সংস্কারের এক সোনালি যুগ। সাক্কারা একসময় প্রাচীন রাজধানী মেমফিসের মূল সমাধিক্ষেত্র ছিল, যা আজও জোসারের বিখ্যাত ‘স্টেপ পিরামিড’-এর মতো অসংখ্য রহস্য বুকে ধারণ করে আছে।

মিশরীয় কর্তৃপক্ষের আশা, প্রাচীন শিল্পের এই নতুন আবিষ্কারগুলো শুধু তাদের সমৃদ্ধ অতীতকেই সংরক্ষণ করবে না, বরং বিশ্বজুড়ে ইতিহাসপ্রেমী পর্যটকদের কাছে মিশরের আকর্ষণ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :