ভুট্টার খোসায় বদলে যাচ্ছে নারীর ভাগ্য

আপলোড সময় : ০৬-০৯-২০২৬ ০৩:২২:১২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৯-২০২৬ ০৩:২২:১২ অপরাহ্ন
বর্জ্য ভেবে একদিন ফেলে দেওয়া হতো যে ভুট্টার খোসা, আজ তা হস্তশিল্পের গুরুত্বপূণ কাঁচামাল। সৃজনশীলতা ও উদ্যোগের মাধ্যমে এই খোসাই এখন সম্ভাবনার নতুন উপকরণ। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে রংপুরের মিঠাপুকুরের প্রান্তিক নারীদের জীবনে রচিত হয়েছে আর্থিক পরিবর্তনের নতুন গল্প। 

ভুট্টার খোসা দিয়ে তৈরি হচ্ছে ফুলদানি, কাপড় রাখার ঝুড়ি, ট্রে, কিচেন বাস্কেট, হ্যান্ডব্যাগ, কলমদানি, ক্যাট বাস্কেট, টব, ফ্রুট বাস্কেট, লন্ড্রি বাস্কেট, সিলিন্ডার বাস্কেট, টেবিল ম্যাট, টিস্যু বক্স ও জুয়েলারি বক্সসহ দুই শতাধিক ধরনের পণ্য।

সম্প্রতি মিঠাপুকুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বলদীপুকুর ও এর আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ। বাড়ির কাজের অবসরে ভুট্টার খোসা দিয়ে এসব পণ্য তৈরি করছেন তারা। এতে কেউ সংসারের খরচ চালাচ্ছেন, কেউ সন্তানের পড়াশোনার ব্যয় মেটাচ্ছেন। 

দক্ষিণ মমিনপুর এলাকার রিনা মিনজি বলেন, আমরা সাধারণত রাতে এই কাজ করি। দিনের বেলায় স্বামী-সন্তান ও পরিবারের কাজ করি। রাতে অবসরে নিজের ঘরে বসে কাজ করি।

এই কাজ থেকে যে টাকা পাই, তা দিয়ে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালাই। পাশাপাশি সংসারের খরচও মেটাতে পারি। 

একই এলাকার বুল্লি টপ্পো পায়রাবন্দ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘আগে পড়াশোনার খরচের জন্য পরিবারের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন এই কাজ করে নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই চালাতে পারি। পরিবারের কাছ থেকে আর টাকা নিতে হয় না।’

বলদীপুকুর এলাকার হাওয়া বেগম বলেন, ‘আমার সংসারে আমি আর আমার মেয়ে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই কাজ শিখেছি। এখন আমরা নিজেরাই স্বাবলম্বী। এই কাজ করে যে আয় করি, তা দিয়ে সংসারের খরচ চালাই।’

শুধু নারীরাই নন, এ উদ্যোগে বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় কৃষকদেরও। আগে ভুট্টা তোলার পর খোসা ফেলে দিতেন তারা। এখন সেই খোসা বিক্রি করে তারা করছেন বাড়তি আয়।

উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান নিউট্রিসাইকেল বায়োসলিউশনের উদ্যোক্তা শিরিন আক্তার শিলা বলেন, ফেলে দেওয়া ভুট্টার খোসাকে সম্পদে পরিণত করার ভাবনা থেকেই এ উদ্যোগ। কৃষিবর্জ্য ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরি করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, শুরুতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক সহযোগিতায় উদ্যোগটির যাত্রা শুরু হয়। ধীরে ধীরে উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে পণ্য তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে।

আরেক উদ্যোক্তা নূর ইসলাম নাইম বলেন, ‘প্রতিদিন মানুষ একটি ক্রেডিট কার্ডের সমপরিমাণ মাইক্রো প্লাস্টিক খেয়ে থাকে। তাই পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরির ভাবনা থেকে এই উদ্যোগ।’ 

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ উদ্যোগকে আরো বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এতে একদিকে কৃষিবর্জ্যের পরিমাণ কমবে, অন্যদিকে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি আরো  কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

উদ্যোক্তাদের মতে, ভুট্টার খোসা থেকে তৈরি এসব পণ্য পরিবেশবান্ধব হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বাড়ছে। সঠিক প্রশিক্ষণ, পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে এ উদ্যোগ গ্রামীণ নারীদের আরো বেশি স্বাবলম্বী করবে, পাশাপাশি কৃষিবর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো কাজ। উদ্যোক্তাদের জন্য সব সময় সহযোগিতা থাকবে। উদ্যোক্তাদের কাজ পরিদর্শন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :