পদ্মায় ধসে পড়ছে জিও ব্যাগ, হুমকিতে নদী পাড়ের মানুষ

আপলোড সময় : ০৬-০৯-২০২৬ ০৩:০২:২০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৯-২০২৬ ০৩:০২:২০ অপরাহ্ন
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিবাজার এলাকায় নতুন করে পদ্মার নদীর ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে । গত দুই-তিন দিনের ভাঙনে নদীতীরের অন্তত ৫০ মিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে একটি কবরস্থান ও কয়েকটি বসতবাড়ি।

দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পাশের মুন্সিবাজার, মসজিদ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ কয়েকশ পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ভাঙন ঠেকাতে গত দুই বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই এলাকায় অন্তত ২৪ হাজার বস্তা জিও ব্যাগ ফেলেছে। চলতি বছরও ইতোমধ্যে আরও ৬ হাজার বস্তা জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের চাপে এসব জিও ব্যাগের অনেকগুলোই নদীতে ধসে পড়েছে। ফলে ভাঙন প্রতিরোধে এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাউবো ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অপরিকল্পিত ও দায়সারাভাবে জিও ব্যাগ ফেলার কারণে তা টেকসই হচ্ছে না। নদীর তলদেশ থেকে প্রয়োজনীয় গভীরতায় জিও ব্যাগ না ফেলে বর্ষা মৌসুমে নদীর তীর ঘেঁষে উপরিভাগে ব্যাগ ফেলা হয়। এতে স্রোতের টানে নিচের মাটি সরে গেলে উপরিভাগের জিও ব্যাগও নদীতে ধসে যায়।

দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম এলাকার নদীশাসন আন্দোলনের সদস্য সচিব মো. জামাল মুন্সি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে জিও ব্যাগ ফেলায় সেগুলো কোনো কাজে আসছে না। এখন সেগুলো নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে শুষ্ক মৌসুমে নদীর তলদেশ থেকে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের দাবি জানানো হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড তাতে কর্ণপাত করেনি।

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন শুরু হলে জরুরি ভিত্তিতে নদীর তীর ঘেঁষে উপরিভাগে জিও ব্যাগ ফেলা হয়। এতে সাময়িকভাবে কাজ হলেও টেকসই সমাধান হয় না। দ্রুত টেকসই ও মজবুত নদীশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নতুন করে নদীতীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যেসব স্থানে ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল, সেসব ব্যাগের অনেকগুলোই ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনে নতুন করে তিন ফসলি জমি ও স্থানীয় সড়ক বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে মুন্সিবাজার এলাকার মসজিদ, কবরস্থান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজারসহ কয়েকশ পরিবারের বসতভিটা রয়েছে ঝুঁকিতে।

এ সময় স্থানীয় লোকমান সরদার, মোজাম্মেল শেখ, শহিদুল ইসলাম, নাজমুল শেখ, মজিদ সরদার ও আমেনা খাতুনসহ কয়েকজন বলেন, নদীর নিচ থেকে জিও ব্যাগ না ফেলায় স্রোতের টানে ওপরের ব্যাগগুলো ধসে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকের ভিটেমাটি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের আতঙ্কে অনেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন। তারা বলেন, আমরা চাল চাই না, আমরা চাই নদীশাসন। নদীশাসন হলে আমরা ভাঙন থেকে রক্ষা পাব।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমিনুর রহমান বলেন, দেবগ্রামে নদী ভাঙনের স্থানটি তারা পরিদর্শন করা হয়েছে। কবরস্থান ও বসতবাড়ি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। দ্রুতই জিও ব্যাগ অথবা টিউব ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল হুদা বলেন, নদী ভাঙনের বিষয়ে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ভাঙনকবলিত এলাকায় কাজ শুরু করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :