পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না কৃষক

কুড়িগ্রামে সোনালি আঁশের বিবর্ণ রূপ

আপলোড সময় : ০৬-০৯-২০২৬ ০২:৪৮:১১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৯-২০২৬ ০২:৪৮:১১ অপরাহ্ন
কুড়িগ্রামে পাটের ফলন হয়েছে ভালো। মাঠ জুড়ে কাটা পাটের স্তূপ। কিন্তু সেই পাট জাগ দেওয়ার মতো পানি নেই। শ্রাবণ-ভাদ্র মাসেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় শুকিয়ে গেছে অনেক নিচু জমি, কমেছে বিল-ঝিলের পানি। বাধ্য হয়ে অল্প পানির বদ্ধ জলাশয়ে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পাট জাগ দিচ্ছেন কৃষকরা। এতে আঁশের স্বাভাবিক রঙ ও মান নষ্ট হচ্ছে। বাজারে চাহিদা থাকলেও মান খারাপ হওয়ায় দাম কম বলছেন পাইকাররা।

তবে নদীতীরবর্তী এলাকার চিত্র কিছুটা ভিন্ন। প্রবহমান পানির সুবিধা থাকায় এসব এলাকার কৃষকরা নদীতে পাট জাগ দিতে পারছেন। এতে আঁশের রঙ ও মান তুলনামূলক ভালো হচ্ছে এবং বাজারে দামও মিলছে ভালো। অর্থাৎ একই জেলায় পাটের ফলন ভালো হলেও জাগ দেওয়ার পানির উৎসের ওপর নির্ভর করছে অনেকটা এর মান ও দাম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে জেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে। সেখানে চাষ হয়েছে ১৫ হাজার ৭৫০ হেক্টরে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১২ হাজার ৩০ হেক্টরের পাট কাটা হয়েছে। কয়েক বছর আগেও জেলায় প্রায় ৪০ হাজার হেক্টরে পাট চাষ হতো। বর্তমানে সেই আবাদ কমে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টরে নেমে এসেছে।

সদর উপজেলার আরাজী পলাশবাড়ী এলাকার কৃষক মমিন মিয়ার ভাষ্য, তার বাড়ির পাশে নিচু জমি থাকলেও এবার বৃষ্টির অভাবে সেখানে পানি জমেনি। তাই পাশের আরেকটি নিচু জমিতে পাট জাগ দিতে হয়েছে। সেখানে অনেক কৃষক একইভাবে পাট জাগ দেওয়ায় আঁশের রঙ ভালো হচ্ছে না। বদ্ধ পানিতে জাগ দেওয়া পাটের দাম পাইকাররা কম বলেন।

একই সমস্যায় পড়েছেন মজিদ আলী। তিনি এবার ১০ একর জমিতে পাট চাষ করেছেন। ফলন ভালো হলেও একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পাট জাগ দেওয়া নিয়ে তাকে পড়তে হয়েছে বিপাকে। ‘বৃষ্টি না থাকায় জমিতে পানি নেই। তাই অল্প জায়গায় পাট জাগ দিতে বাধ্য হয়েছি। ভালোভাবে জাগ দিতে না পারলে পাটের দাম কমে যায়’— বললেন এই কৃষক।

তবে নদীর কাছাকাছি থাকা কৃষকদের অভিজ্ঞতা কিছুটা আশাব্যঞ্জক। তাদের একজন বশির মিয়া। ভালো ফলনের পাশাপাশি পাটের মানও ভালো রাখতে তিনি বাড়তি খরচ করে নদীর তীরে পাট নিয়ে জাগ দিয়েছেন। পাটের ওপর কচুরিপানা দিয়ে সূর্যের আলো থেকে আঁশকে আড়াল করেছেন। এতে রঙ ভালো হয়েছে এবং বাজারে তিনি ভালো দাম পেয়েছেন।

কুড়িগ্রামের অন্যতম বড় পাটের হাট যাত্রাপুরে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করেন শরীফ আলম। তার ভাষায়, নদীপাড়ে হাট হওয়ায় এখানে
 চরাঞ্চল থেকে বেশি পাট আসে। গত বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম ভালো। তবে মানভেদে দামের পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে গড়ে এক মণ পাট ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। নদীর বাইরে বদ্ধ জলাশয়ে জাগ দেওয়া পাটের মান তুলনামূলক খারাপ।

বাজারের এই পার্থক্যের পেছনে জাগ দেওয়ার পদ্ধতিকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন কৃষি কর্মকর্তারাও। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. মেহেদী হাসান বললেন,‘আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবার সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়নি। এতে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কৃষকরা সমস্যায় পড়েছেন। কিছু এলাকায় আঁশের মানও খারাপ হয়েছে।’ তার মতে, প্রবহমান পানিতে পাট জাগ দেওয়া হলে আঁশের মান ভালো থাকে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :