​কলকাতায় হোটেল অভিযানে বিপাকে বাংলাদেশি রোগীরা

আপলোড সময় : ০৬-০৯-২০২৬ ০২:০৭:৩৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৯-২০২৬ ০২:০৭:৩৫ অপরাহ্ন
কলকাতায় হোটেলে আগুনের ঘটনার পর প্রশাসনের নিরাপত্তা অভিযানের কারণে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনরা সাশ্রয়ী মূল্যে থাকার জায়গা খুঁজে পেতে ভোগান্তিতে পড়েছেন।

গত ১৯ আগস্ট নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে লাগা আগুনে ৯ জনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে সাতজনই ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক।

ওই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোর লাইসেন্স ও অনুমোদনপত্র যাচাইয়ে অভিযান শুরু করে। শতাধিক হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বা বন্ধ হওয়ার মুখে রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কম খরচের হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোর বেশিরভাগই নিউ মার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিট এবং কলিন লেনে অবস্থিত। সাশ্রয়ী হওয়ায় এলাকাগুলো বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

চিকিৎসার জন্য বগুড়া থেকে যাওয়া শহিদুল হক নিরাপত্তা অভিযানকে সমর্থন করে বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে কিছুটা অসুবিধা মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু সবকিছু যদি একবারে বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে রোগীরাই সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েন।’

গাজীপুর থেকে যাওয়া নাজমুল হোসেন জানান, অভিযানের কারণে হোটেল ও গেস্টহাউসের রুম ভাড়া বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘যেসব রুমের ভাড়া আগে ৫০০ রুপির মতো ছিল, এখন কিছু জায়গায় তা কয়েক হাজার রুপি চাওয়া হচ্ছে।’

স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মুকুন্দপুরের ব্যবসায়ী রমেন মল্লিক প্রশ্ন তোলেন, যারা ১০ থেকে ১৫ দিনের চিকিৎসার জন্য এসেছেন, তারা যদি হঠাৎ থাকার জায়গা হারান, তবে এর দায় কে নেবে? তিনি বলেন, ‘হোটেলগুলো বন্ধ করার আগে বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত ছিল।’

তবে পরিবহন অপারেটর সোনা সাহার বিশ্বাস, এই অভিযানে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘অনিরাপদ ও অবৈধ হোটেলগুলো চিহ্নিত করার ফলে শেষ পর্যন্ত কলকাতায় বাংলাদেশি দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত হবে।’

এরই মধ্যে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন বাংলাদেশি দর্শনার্থীদের জন্য নির্দেশিকা জারি করে কলকাতায় আসার আগে হোটেল বুকিং নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :