র‌্যাবের পরিবর্তে এসআরবি গঠনের বিল সংসদে

আপলোড সময় : ০৩-০৯-২০২৬ ১১:১০:৫৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-০৯-২০২৬ ১১:১০:৫৫ অপরাহ্ন
র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর পরিবর্তে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে পুলিশের একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে।
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বৃহস্পতিবার সংসদে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন।
 
এই বিলের মাধ্যমে র‌্যাব গঠনের আইনি বিধানগুলো বাতিল করে পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে।
 
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিলটি উত্থাপনের বিষয়ে আপত্তি জানান।
 
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, র‌্যাব নামে কোনো সংস্থা থাকবে না-এটি ছিল সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিটের প্রয়োজনীয়তা বজায় রেখেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই বিলটি আনা হয়েছে।
 
তিনি বলেন, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার বিষয়টি পুরো পুলিশ বাহিনী বিলুপ্ত করার কারণ হতে পারে না।
 
মন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত এসআরবিতে র‌্যাবের তুলনায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী বিধান থাকবে। তিনি বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতাদের সংসদীয় কমিটিতে বিলটি যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার এবং সেখানে নিজেদের সুপারিশ তুলে ধরার আহ্বান জানান।
 
বিলে র‌্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, নগদ অর্থ ও ব্যাংক আমানত, দায়-দেনা, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং রেজিস্টার ও নথিপত্র এসআরবিতে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।
 
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, এসআরবি পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। 
 
সরকারি প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্য, অন্যান্য বাহিনীর সদস্য এবং নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদায়ন বা প্রেষণের মাধ্যমে এটি গঠন করা হবে।
 
এই ইউনিটের জন্য বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত পতাকা, প্রতীক ও নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম থাকবে। এর মহাপরিচালক হবেন একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা, যার পদমর্যাদা ‘অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক’-এর নিচে হবে না।
 
এসআরবির ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত এবং তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও মালামাল বা আলামত জব্দের ক্ষমতা থাকবে। 
 
এছাড়া তাদের নিজস্ব মালখানা বা মালামাল সংরক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।
 
নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এই বিলে একাধিক সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
 
উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধসহ অন্যান্য গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর সাড়া প্রদানের ক্ষেত্রে পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য এই নতুন ইউনিটের প্রয়োজন।
 
প্রস্তাবিত আইনে এই বিশেষায়িত ইউনিটের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনের শাসন, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা, কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
 
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করেন এবং এটি যাচাই-বাছাই করে ৪ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হয়।
 
এরই মধ্যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন; যার লক্ষ্য হলো বিদ্যমান অধ্যাদেশটি বাতিল করে এই বাহিনীর জন্য একটি নতুন আইনি কাঠামো প্রবর্তন করা।
 
প্রস্তাবিত আইনে পুলিশের অধীনে এপিবিএন ইউনিটগুলোর (যেমন—স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, হিল ব্যাটালিয়ন ও এয়ারপোর্ট ব্যাটালিয়ন এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য যেকোনো ব্যাটালিয়ন) বিধান রাখা হয়েছে।
 
এই বিলের মাধ্যমে এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হবে। এছাড়া ‘ফৌজদারি কার্যবিধি’ ও অন্যান্য বিদ্যমান আইনের সাপেক্ষে তাদের কোনো প্রাঙ্গণে প্রবেশ, তল্লাশি চালানো, সম্পত্তি জব্দ করা এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও থাকবে।
 
এতে এপিবিএন সদস্যদের জন্য শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণত কোনো সংগঠনের সদস্য হওয়া কিংবা কোনো সংগঠনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত হওয়া তাদের জন্য নিষিদ্ধ থাকবে; তবে পেশাগত উন্নয়ন বা এপিবিএন-এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে অনুমতি থাকবে।
 
এছাড়া উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা সংবাদপত্রে কোনো তথ্য বা নথিপত্র প্রকাশ করা কিংবা প্রকাশে সহায়তা করা থেকেও এপিবিএন সদস্যদের বিরত থাকতে হবে।
 
যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এই বিলটিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। সূত্র: বাসস
 
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :