চট্টগ্রাম নগরীর ওয়াসা, নলকূপ ও বাণিজ্যিক জারের পানির মান নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে এক গবেষণায়। গবেষণায় এসব পানিতে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বিপুল পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। বাসাবাড়িতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট ফুটানো কিংবা ফিল্টারে শোধনের পরও পানিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া থেকে যাচ্ছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের খসড়া মহাপরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘হেলিওন’-এ প্রকাশিত গবেষণাটির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
গবেষণায় চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি, হালিশহর, বায়েজিদ, চান্দগাঁও, বন্দর ও সরাইপাড়া এলাকা থেকে ওয়াসা, নলকূপ ও জারের পানির ৩৬টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি ১৪৯ জন বাসিন্দার কাছ থেকেও পানির মান নিয়ে মতামত নেওয়া হয়।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ওয়াসার অপরিশোধিত পানিতে প্রতি মিলিলিটারে ৯ হাজার ২৫০ থেকে ১৪ হাজার ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। বাসাবাড়িতে শোধনের পরও প্রতি মিলিলিটারে ৩ হাজার ৪০০ থেকে ১০ হাজার ৩০০ ব্যাকটেরিয়া ছিল।
নলকূপের অপরিশোধিত পানিতে প্রতি মিলিলিটারে ৬৮০ থেকে ১৩ হাজার ৫০০ এবং শোধনের পর ৬৮০ থেকে ১০ হাজার ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। জারের পানিতে অপরিশোধিত অবস্থায় প্রতি মিলিলিটারে ১৫০ থেকে ১ হাজার এবং শোধনের পর ১০০ থেকে ৬৫০ ব্যাকটেরিয়া মিলেছে।
চান্দগাঁও এলাকার ওয়াসার অপরিশোধিত পানিতে প্রতি মিলিলিটারে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। এক মিলিলিটার পানিতে প্রায় ২০ ফোঁটা ধরলে প্রতি ফোঁটায় প্রায় ৭০০ ব্যাকটেরিয়া থাকার হিসাব পাওয়া যায়।
বন্দর এলাকার নলকূপের পানিতেও ব্যাপক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সেখানে প্রতি ফোঁটা পানিতে প্রায় ৬৭৫টি ব্যাকটেরিয়া ছিল। শোধনের পরও প্রতি ফোঁটায় প্রায় ৫০০ ব্যাকটেরিয়া থেকে গেছে।
শুধু ব্যাকটেরিয়া নয়, পানিতে থাকা ভাসমান ক্ষুদ্র কণার পরিমাণও উদ্বেগজনক বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী, খাবার পানিতে এ ধরনের কণার গ্রহণযোগ্য সীমা প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ১০ মিলিগ্রাম। অথচ ওয়াসা ও নলকূপের পানিতে এর পরিমাণ ৪০ থেকে ১ হাজার ৮৮৮ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
গবেষণায় দেখা যায়, কোতোয়ালি এলাকার ওয়াসার পানি ছাড়া প্রায় সব ক্ষেত্রেই শোধনের পর ভাসমান কণার পরিমাণ আরও বেড়েছে। গবেষকদের ধারণা, বাসাবাড়ির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার না করা কিংবা ফিল্টারে ত্রুটি থাকার কারণে শোধনের পরও পানিতে দূষণ থেকে যেতে পারে।
জরিপে অংশ নেওয়া ওয়াসার পানি ব্যবহারকারীদের ৭৬ শতাংশ পানি পানের অনুপযোগী বলে মত দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ পানিতে দুর্গন্ধ এবং ১৭ শতাংশ ভাসমান কণা থাকার অভিযোগ করেছেন।
অন্যদিকে নলকূপ ব্যবহারকারীদের ৫৮ শতাংশ পানিতে অস্বাভাবিক বাদামি রঙের কথা জানিয়েছেন। শোধন করে পান করার পরও ওয়াসার পানি ব্যবহারকারীদের ১১ শতাংশ এবং নলকূপের পানি ব্যবহারকারীদের ৯ শতাংশ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন। উভয় উৎসের পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ মানুষ জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন। আক্রান্তদের ৭০ শতাংশের বেশি শিশু।
গবেষকদের মতে, কর্ণফুলী ও হালদা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে শোধনের পর নগরবাসীর কাছে সরবরাহ করে ওয়াসা। তবে পাইপলাইনে ফুটো, ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি ও অন্যান্য সমস্যার কারণে গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর আগেই পানি দূষিত হতে পারে।
এ ছাড়া অনিবন্ধিত কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জারের পানি প্রক্রিয়াজাত করার কারণেও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণা দলের সদস্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শ্যামল কর্মকার বলেন, গবেষণায় পাওয়া ব্যাকটেরিয়া ও রাসায়নিকের উপস্থিতি দেশে পরীক্ষা করা সম্ভব। তবে এর বাইরেও অনেক অজানা অজৈব দূষক রয়েছে, যেগুলো হয়তো এখনো শনাক্ত করা যাচ্ছে না। দূষণের উৎস নির্মূল করে ভূগর্ভস্থ ও ভূপৃষ্ঠের পানির উৎসগুলো দূষণমুক্ত করাকেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখছেন তিনি।
তবে পানির দূষণের দায় নিতে নারাজ চট্টগ্রাম ওয়াসা। সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, ওয়াসার পানিতে কোনো ব্যাকটেরিয়া নেই। প্রতি মাসে ২৪০টি স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়।
তার দাবি, মূলত গ্রাহকপর্যায়ে গিয়ে পানি দূষিত হচ্ছে। বাসাবাড়ির অপরিষ্কার রিজার্ভার ও পানির ট্যাংক এবং বিভিন্ন উন্নয়নকাজের সময় পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ময়লা পানি ঢুকে দূষিত হতে পারে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের খসড়া মহাপরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘হেলিওন’-এ প্রকাশিত গবেষণাটির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
গবেষণায় চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি, হালিশহর, বায়েজিদ, চান্দগাঁও, বন্দর ও সরাইপাড়া এলাকা থেকে ওয়াসা, নলকূপ ও জারের পানির ৩৬টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি ১৪৯ জন বাসিন্দার কাছ থেকেও পানির মান নিয়ে মতামত নেওয়া হয়।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ওয়াসার অপরিশোধিত পানিতে প্রতি মিলিলিটারে ৯ হাজার ২৫০ থেকে ১৪ হাজার ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। বাসাবাড়িতে শোধনের পরও প্রতি মিলিলিটারে ৩ হাজার ৪০০ থেকে ১০ হাজার ৩০০ ব্যাকটেরিয়া ছিল।
নলকূপের অপরিশোধিত পানিতে প্রতি মিলিলিটারে ৬৮০ থেকে ১৩ হাজার ৫০০ এবং শোধনের পর ৬৮০ থেকে ১০ হাজার ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। জারের পানিতে অপরিশোধিত অবস্থায় প্রতি মিলিলিটারে ১৫০ থেকে ১ হাজার এবং শোধনের পর ১০০ থেকে ৬৫০ ব্যাকটেরিয়া মিলেছে।
চান্দগাঁও এলাকার ওয়াসার অপরিশোধিত পানিতে প্রতি মিলিলিটারে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। এক মিলিলিটার পানিতে প্রায় ২০ ফোঁটা ধরলে প্রতি ফোঁটায় প্রায় ৭০০ ব্যাকটেরিয়া থাকার হিসাব পাওয়া যায়।
বন্দর এলাকার নলকূপের পানিতেও ব্যাপক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সেখানে প্রতি ফোঁটা পানিতে প্রায় ৬৭৫টি ব্যাকটেরিয়া ছিল। শোধনের পরও প্রতি ফোঁটায় প্রায় ৫০০ ব্যাকটেরিয়া থেকে গেছে।
শুধু ব্যাকটেরিয়া নয়, পানিতে থাকা ভাসমান ক্ষুদ্র কণার পরিমাণও উদ্বেগজনক বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী, খাবার পানিতে এ ধরনের কণার গ্রহণযোগ্য সীমা প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ১০ মিলিগ্রাম। অথচ ওয়াসা ও নলকূপের পানিতে এর পরিমাণ ৪০ থেকে ১ হাজার ৮৮৮ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
গবেষণায় দেখা যায়, কোতোয়ালি এলাকার ওয়াসার পানি ছাড়া প্রায় সব ক্ষেত্রেই শোধনের পর ভাসমান কণার পরিমাণ আরও বেড়েছে। গবেষকদের ধারণা, বাসাবাড়ির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার না করা কিংবা ফিল্টারে ত্রুটি থাকার কারণে শোধনের পরও পানিতে দূষণ থেকে যেতে পারে।
জরিপে অংশ নেওয়া ওয়াসার পানি ব্যবহারকারীদের ৭৬ শতাংশ পানি পানের অনুপযোগী বলে মত দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ পানিতে দুর্গন্ধ এবং ১৭ শতাংশ ভাসমান কণা থাকার অভিযোগ করেছেন।
অন্যদিকে নলকূপ ব্যবহারকারীদের ৫৮ শতাংশ পানিতে অস্বাভাবিক বাদামি রঙের কথা জানিয়েছেন। শোধন করে পান করার পরও ওয়াসার পানি ব্যবহারকারীদের ১১ শতাংশ এবং নলকূপের পানি ব্যবহারকারীদের ৯ শতাংশ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন। উভয় উৎসের পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ মানুষ জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন। আক্রান্তদের ৭০ শতাংশের বেশি শিশু।
গবেষকদের মতে, কর্ণফুলী ও হালদা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে শোধনের পর নগরবাসীর কাছে সরবরাহ করে ওয়াসা। তবে পাইপলাইনে ফুটো, ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি ও অন্যান্য সমস্যার কারণে গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর আগেই পানি দূষিত হতে পারে।
এ ছাড়া অনিবন্ধিত কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জারের পানি প্রক্রিয়াজাত করার কারণেও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণা দলের সদস্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শ্যামল কর্মকার বলেন, গবেষণায় পাওয়া ব্যাকটেরিয়া ও রাসায়নিকের উপস্থিতি দেশে পরীক্ষা করা সম্ভব। তবে এর বাইরেও অনেক অজানা অজৈব দূষক রয়েছে, যেগুলো হয়তো এখনো শনাক্ত করা যাচ্ছে না। দূষণের উৎস নির্মূল করে ভূগর্ভস্থ ও ভূপৃষ্ঠের পানির উৎসগুলো দূষণমুক্ত করাকেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখছেন তিনি।
তবে পানির দূষণের দায় নিতে নারাজ চট্টগ্রাম ওয়াসা। সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, ওয়াসার পানিতে কোনো ব্যাকটেরিয়া নেই। প্রতি মাসে ২৪০টি স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়।
তার দাবি, মূলত গ্রাহকপর্যায়ে গিয়ে পানি দূষিত হচ্ছে। বাসাবাড়ির অপরিষ্কার রিজার্ভার ও পানির ট্যাংক এবং বিভিন্ন উন্নয়নকাজের সময় পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ময়লা পানি ঢুকে দূষিত হতে পারে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে