ইরানে বিয়েবাড়িতে মার্কিন হামলায় নিহত ৫, আহত ৬৩

আপলোড সময় : ০২-০৯-২০২৬ ১০:৫৩:৩০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-০৯-২০২৬ ১০:৫৩:৩০ পূর্বাহ্ন
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান লক্ষ্য করে মার্কিন যুদ্ধবিমান হামলা চলিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে তেহরান। এ হামলায় এক শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া নারী ও শিশুসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৬৩ জন। 

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই জানান, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে কুহেস্তাক শহরের একটি আবাসিক ভবনে এই ‘নৃশংস’ হামলা চালানো হয়। হামলায় ভবনটি গুঁড়িয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ ও টেলিফোন যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। 
 
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রকাশিত ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, হামলায় ভবনটির দেয়াল ও জানালা উড়ে গিয়ে ধ্বংসাবশেষ চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। উদ্ধারকারী সংস্থাটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত শিশুর ছবি প্রকাশ করেছে। 

সিরিক কাউন্টির গভর্নর রেজা শাহেদিয়ান দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে জানান, হামলায় আহত ৬৩ জনের মধ্যে ৫০ জনই নারী ও শিশু। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত পার্শ্ববর্তী মিনাব শহরের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা ‘ফার্স নিউজ’ বিস্ফোরণ থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া এক শিশুর সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। ওই শিশুটি জানায়, “আমরা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানো মাত্রই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। ইট, পাথর ও সিমেন্টের টুকরো এসে আমাদের ওপর পড়ে। সেখানে উপস্থিত সবাই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।”

মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ নতুন দফায় বিমান হামলা চালানোর কথা ঘোসণা করার পরই এই মৃত্যুর খবরগুলো সামনে এলো। তারা দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) হামলার চেষ্টার জবাবেই এই আক্রমণ করা হয়েছে।”

মার্কিন সামরিক বাহিনীর মতে, তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটি, রাডার ব্যবস্থা, নৌ সরঞ্জাম ও সুবিধা, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা কেন্দ্র এবং যোগাযোগ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

সপ্তাহের শুরুতে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির পর এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যেই নতুন করে এই বিমান হামলার ঘটনা ঘটলো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরালের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। 

ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা জর্ডান, বাহরাইন এবং ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। কুয়েতও বেশ কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। 

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ ও বিশ্বব্যাপী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

যুদ্ধের প্রথম দিনে মিনাব ও লামের্দ শহরে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আজকের এই বর্বরতাকে এর আগের নৃশংসতার ধারাবাহিকতা থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।” তিনি জানান, মিনাবে মার্কিন বাহিনী একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়ে ১৫০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছিল এবং লামের্দে একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়ে অন্তত ২১ জনকে হত্যা করে হয়েছিল।

বাঘাই হুুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইরান এই বর্বরোচিত অপরাধের কঠোর জবাব দেবে। তবুও, যেসব সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এই ধরণের বর্বরতার সামনে নীরব রয়েছে কিংবা এই কাজগুলেকে যুক্তিসিদ্ধ করার চেষ্টা করছে, তাদের বোঝা উচিত যে এই নীরবতা কোনো নিরপেক্ষতা নয়।”   

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ইরানের কুহেস্তাক ছাড়াও, উপকূলীয় শহর কোনারক, বন্দর আব্বাস, জাস্ক, আসালুয়েহ, আহভাজ এবং কেশম দ্বীপেও মার্কিন হামলার খবর দিয়েছে ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :