নড়াইলের স্বপ্নের কালিয়া সেতু চালু হচ্ছে সেপ্টেম্বরে

আপলোড সময় : ৩১-০৮-২০২৬ ০৪:২১:৩৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩১-০৮-২০২৬ ০৪:২১:৩৭ অপরাহ্ন
দীর্ঘ আট বছরের নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সেপ্টেম্বরে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে কালিয়া সেতু । এ লক্ষ্যে বাকি কাজ এগিয়ে চলেছে। বহতা নবগঙ্গার স্রোতধারায় বিভক্ত কালিয়া উপজেলা সদরসহ এখানকার দুই শতাধিক গ্রাম ও নড়াইল জেলা সদরসহ দেশের নানাপ্রান্তের সঙ্গে সরাসরি সংযোগস্থাপনকারী সেতুর বাস্তব রূপায়ণে উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী কালিয়া সেতু। এ সেতু বাস্তবায়ন হলে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে ব্যাপক গতিসঞ্চার আশা করছেন নড়াইলবাসী । সরেজমিনে দেখা গেছে, পূর্ণাঙ্গ অবয়বে দৃশ্যমান কালিয়াবাসীর স্বপ্নের সেতু। সেতুর মাঝ বরাবর স্থাপন করা ধনুকাকৃতির আর্চ স্পান এ সেতুকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে। সেতুর বাকি কাজ যথাসময়ে শেষ করতে মহাকর্মচাঞ্চল্য শুরু হয়েছে। সেতুর অবশিষ্ট ৮৫ দশমিক ২১ মিটার ডেস্ক স্লাব ঢালাইয়ের জন্য রড বাঁধাই করা হচ্ছে। বেঁধে দেওয়া সময়ে ঢালাইয়ের সব প্রস্তুতি শেষ করতে শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

জানা গেছে, নবগঙ্গা নদীর পূর্বপাড়ের কালিয়া উপজেলার দুই লক্ষাধিক জনগোষ্ঠীর জেলা সদরসহ দেশের নানা প্রান্তে যাতায়াতে নদী পারাপারে ভোগান্তি লাঘবে নড়াইল সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে নবগঙ্গা নদীর ওপর কালিয়া আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণে প্রকল্প নেওয়া হয়। ১৫ স্পান বিশিষ্ট ৬৫১ দশমিক ৮৩ মিটার দৈর্ঘ্য সাত দশমিক তিন মিটার প্রস্থ এ সেতুর ব্যয় ধরা হয় ৭২ কোটি টাকা। প্রাক্কলিত বরাদ্দের বিপরীতে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামিল ইকবাল ও মঈনুদ্দিনবাসী যৌথভাবে ২০১৭ সালের ১ জুলাই কার্যাদেশ পেয়েছে । কিন্তু সরেজমিনে কাজ করতে গিয়ে সেতুর নকশায় ভুল পরিলক্ষিত হওয়ায়, কাজে বিঘ্ন দেখা দেয়। এতে সেতু কর্তৃপক্ষ নকশা সংশোধনসাপেক্ষে পূর্বের কার্যাদেশ পরিবর্তন করে একই প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ কার্যাদেশ দেয়। শর্ত ছিল ২০২০ এর ৩০ জুন ব্রিজ নির্মাণ সম্পন্নের । কিন্তু এ সময়ে ঠিকাদার কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি মহামারি করোনারা প্রভাবে প্রকল্পের মেয়াদ ১ বছর বৃদ্ধি করা হয়। এর মাঝে নদীতে চলাচলকারী বালুবাহী বলগেটের দফায় দফায় ধাক্কায় নির্মাণাধীন সেতুর ৯ নম্বর পিলার ভেঙে পড়ায়, ঝুলে যায় সেতুর নির্মাণকাজ। 

এ অবস্থায় পূর্ণ নকশা প্রণয়ন ও ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াও সেতু বাস্তবায়ন অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমন বাস্তবতায় সেতুর মাঝ বরাবর ১৭৩ দশমিক ৬৬ মিটার গ্যাপ রেখে নির্ধারিত ১৩টির মধ্যে ৯ নম্বর পিলার বাদে গ্যাপের দুই প্রান্ত ১২টি পিলার ও ১৫টির মধ্যে ১১টি স্প্যান স্থাপন শেষে ২০২৩ সালে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাদের পাওনা পরিশোধ করে কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে পূর্ণ নকশা প্রণয়ন, ব্যয় বৃদ্ধিসাপেক্ষে পূর্বের ১২টি পিলারের ওপরে সেতুর মাঝ বরাবর চারটির স্প্যানের স্থানে তিনটি আর্চ নেটওয়ার্ক স্টিল স্প্যান অবকাঠামো সংযোজনসহ সেতু নির্মাণ সম্পন্ন করতে ২০২৪ সালের ১২ মে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কনক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজিকে দ্বিতীয় ধাপে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘ সাত বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে সেতু নির্মাণকাজে গতি লাভ করে । সেতুর মোট নির্মাণ ব্যয় দাঁড়ায় ১২৪ কোটি টাকা। 

কনক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজির প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী আব্দুল ওয়াদুদ খান লিটন বলেন, সেতুর মোট ৯৮ ভাগ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সেতুর মাঝ বরাবর ১৭৩ দশমিক ৬৬ মিটার গ্যাপে তিনটি আর্চ নেটওয়ার্ক স্টিল স্প্যানের মধ্যে মাঝের ৮৫ দশমিক ২১ মিটার দৈর্ঘের স্প্যানটি সংযোজন করা হয়ে গেছে। এ অংশটুকুর ডেস্ক স্লাব ঢালাইয়ের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। সেতুর যে কাজ অবশিষ্ট আছে তার মধ্যে ঢালায়ের কাজই বড় পরিসরের। এর দুই পাশে ৪২ দশমিক ৪১৫ মিটার দৈর্ঘের দুটি স্টিল আর্চ স্প্যান সংযোজন শেষের দিকে । এ অংশের ডেস্ক স্লাব ঢালাই ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ৫০ মিটার সংযোগ সড়কের কাজও শেষ হয়ে যাবে দুই একদিনের মধ্যে। ঢালাইয়ের পরে প্যারাপেট ওয়াল নির্মাণ, পেইন্ট ও লাইটিংয়ের কাজ শেষ করে সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখের মধ্যে ব্রিজ হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। 

নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের দুর্নীতির কারণে কালিয়া সেতু নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতায় কালিয়াবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে অচিরেই সেতু উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। এই সেতু এ অঞ্চলের কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :