​কলাপাড়ায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, হটস্পট চরনিশানবাড়িয়া গ্রাম

আপলোড সময় : ২৬-০৮-২০২৬ ০৬:৪১:৩০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৬-০৮-২০২৬ ০৬:৪১:৩০ অপরাহ্ন
পটুয়াখালীর কলাপাড়া ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। খোদ এখানকার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তেন মং ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কলাপাড়া পৌরশহরসহ বিভিন্ন গ্রামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তবে ধানখালী ইউনিয়নের চরনিশানবাড়িয়া গ্রামটিতে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে ওই গ্রামে রিজিয়া বেগম (৮৫) নামের এক বৃদ্ধা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আরও অন্তত আক্রান্ত রয়েছেন ৩৫ জন। 

চরনিশানবাড়িয়ার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম এসব খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্লান্টের দেয়াল ঘেঁষে চরনিশানবাড়িয়া মধুপাড়া গ্রামটিতে এবড়ো-থেবড়োভাবে কংক্রিটের ব্লক দেয়ায় ওই ব্লকের ফাঁকে ফাঁকে সবসময় পানি জমে থাকে। জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। যার কারণে এডিস মসার উপদ্রব থেকে এমনভাবে ভয়াবহ ডেঙ্গুর সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, গ্রামটির মিরা বাড়িতেই ১৭ জন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। ভুইয়া বাড়িতে নয় জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে রিজিয়া বেগম অন্তত ২০দিন আগে মারা গেছেন। মাঝি বাড়িতেও একই দশা। মিরাবাড়িতে আক্রান্তরা হচ্ছে, আব্দুল হক মিরা (৬৫), সুরমা বেগম (২৭), জোসনা বেগম (২৮), নুসাইরা (৭), রস্মি (৬), রুকান (৮) ও তাওসিফ (৩)। এর মধ্যে তাওসিফ এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ছাড়াও ডেঙ্গু আক্রান্ত আর ও ৫ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এরা হচ্ছে নাজমিন (২২), তামিম (২০), মরিয়ম (৬), ফাতেমা (৮) ও দেড় বছরের শিশু আলিয়া। 

চর নিশানবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ডেঙ্গুর এমন ভয়াবহ প্রকোপ গ্রামটিতে শুরু হয়েছে। ওই মাসের ২৬-২৭ তারিখে অনেককে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনেককে বরিশালসহ বিভিন্নস্থানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এখনও বাড়ি ও হাসপাতালে কেউ কেউ চিকিৎসা নিচ্ছেন। 

পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের পুনর্বাসন পল্লীর বাসিন্দা অলিউর রহমান নিপুল জানান, তারা পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ব্লকের মাঝে জমানো জলাবদ্ধতা কিংবা পানি অপসারণের জন্য অনুরোধ করেছেন। কিন্তু তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি। বর্তমানে গ্রামটিতে চলছে ডেঙ্গুর আতঙ্ক। গ্রামের বাসিন্দা মো. মুসা জানান, তার সন্তান ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি আছে। তার দাবি, গ্রামের প্রত্যেক ঘরে দুই-একজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছিল। এখন কিছুটা কমেছে। 

তবে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন যে প্লান্টের বাউন্ডারির বাইরেসহ অধিকাংশ এরিয়ায় মশক নিধন স্প্রে করা হয়েছে। প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ার কারণে কখনো কখনো কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে পুনর্বাসন পল্লীর বাসিন্দারা তাঁদের সমস্যা জানালে নিয়মমাফিক সমাধানের চেষ্টা করা হয় বলেও প্লান্টের দায়িত্বশীল সূত্রটি নিশ্চিত করেন।

কলাপাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তেন মং জানান, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। তবে এতে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। বাড়িঘরের আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পানি জমে যেন এডিস মশার বিস্তার না বাড়তে পারে এজন্য সতর্ক থাকতে হবে। আর জ্বর হলেই হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান এই চিকিৎসক।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান জানান, ডেঙ্গুর সংক্রমণ থেকে রক্ষায় সকল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/প্রশাসককে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাড়িঘরের আশাপাশসহ ড্রেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া পৌরশহরে মশক নিধন স্প্রে করা হচ্ছে। প্রত্যেক ইউনিয়নে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচকে/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :