বলিউডের প্রবীণ নির্মাতা কুকু কোহলিকে শেষ বিদায় জানালেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মী ও স্বজনরা। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৭ বছর বয়সে মারা যান তিনি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) তাঁর শেষকৃত্যে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানান বলিউডের বহু পরিচিত মুখ।
কুকু কোহলির শেষযাত্রা বুধবার সকাল ১০টায় মুম্বাইয়ের লোখান্ডওয়ালা কমপ্লেক্সের গ্রিন অ্যাকরসের বাসভবন থেকে শুরু হয়ে ওশিওয়ারা শ্মশানে পৌঁছায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা গজেন্দ্র চৌহান, ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজের সভাপতি বিএন তিওয়ারি, সহসভাপতি অশোক দুবেসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকে।
স্বামীর শেষকৃত্যে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অভিনেত্রী অরুণা ইরানি। তার পাশে ছিলেন বলিউড তারকা ভিকি কৌশল, ক্যাটরিনা কাইফ, পরিচালক রোহিত শেঠি, রাজপাল যাদব ও গীতিকার জাভেদ আখতারসহ আরও অনেকে।
কুকু কোহলিকে স্মরণ করে অভিনেতা রাজা মুরাদ জানান, তারা বান্দ্রার সেন্ট থেরেসা হাইস্কুলের সহপাঠী ছিলেন। কুকু তার চেয়ে দুই বছরের সিনিয়র ছিলেন। অভিনয় জগতে আসার আগে কুকু কোহলি আর কে স্টুডিওতে রাজ কাপুরের সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। পরে পরিচালক রাহুল রাওয়েলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
কুকু কোহলির সঙ্গে নিজের দীর্ঘ সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে রাজা মুরাদ জানান, তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘ফুল অউর কাঁটে’র সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। ১৯৯১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি অজয় দেবগনের নায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটায় এবং বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায়।
কুকু কোহলি ব্যক্তিগতভাবে ছিলেন অত্যন্ত প্রচারবিমুখ ও স্বল্পভাষী- এমনটাই জানিয়েছেন রাজা মুরাদ। তবে তার মৃত্যুতে বিশেষভাবে অরুণা ইরানির কথা ভেবে কষ্ট পাচ্ছেন এই অভিনেতা। তার মতে, জীবনের শেষ পর্যায়ে একজন সঙ্গীকে হারানোর শূন্যতা অত্যন্ত কঠিন।
রাজা মুরাদ বলেন, “অরুণাজির জন্য আমার খুব খারাপ লাগছে। এই বয়সে একজন সঙ্গীর প্রয়োজন অনেক বেশি। সেই সঙ্গীকে হারালে একাকিত্ব খুব কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে।” তিনি আরও বলেন, মানুষ শেষ বয়সে পরস্পরের জন্যই বেঁচে থাকে, তাই অরুণা ইরানির এই শোক সামলানো কঠিন হবে।
মুরাদ আরও জানান, কিছুদিন আগেও অরুণা ইরানির সঙ্গে একটি স্মরণসভায় কুকু কোহলিকে দেখেছিলেন। তখন তাকে সম্পূর্ণ সুস্থই মনে হয়েছিল। জীবনের অনিশ্চয়তা বোঝাতে তিনি বলেন, জীবন যেন একটি ট্রেন- কখন কোথায় কার যাত্রা শেষ হবে, কেউ জানে না। সবকিছুই সৃষ্টিকর্তার হাতে।
চলচ্চিত্রে কুকু কোহলির পরিচিতি সবচেয়ে বেশি ‘ফুল অউর কাঁটে’কে ঘিরে। ১৯৯১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে অভিষেক হয় তার এবং অজয় দেবগনের ক্যারিয়ারেরও বড় সূচনা ঘটে। ছবিতে অজয়ের সঙ্গে অভিনয় করেন মধু, অমরিশ পুরী, অরুণা ইরানি ও জগদীপ।
এরপর ১৯৯৪ সালে অজয় দেবগন, অক্ষয় কুমার, করিশমা কাপুর ও নাগমা অভিনীত ‘সুহাগ’ নির্মাণ করেন তিনি। তার অন্যান্য পরিচালিত সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘হকিকত’, ‘জুলমি’, ‘আনারি নম্বর ওয়ান’ ও ‘ইয়ে দিল আশিকানা’। তার সর্বশেষ পরিচালিত সিনেমা ‘ওহ তেরা নাম থা’ মুক্তি পায় ২০০৪ সালে।
কুকু কোহলির আসল নাম ছিল অবতার কোহলি। তিনি ১৯৯০ সালে অভিনেত্রী অরুণা ইরানিকে বিয়ে করেন। এর আগে রিটা কোহলির সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। সেই সংসারে তার দুই মেয়ে পূজা কোহলি ও নির্মাতা করিশমা কোহলি। এনডিটিভি
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে
বুধবার (২৬ আগস্ট) তাঁর শেষকৃত্যে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানান বলিউডের বহু পরিচিত মুখ।
কুকু কোহলির শেষযাত্রা বুধবার সকাল ১০টায় মুম্বাইয়ের লোখান্ডওয়ালা কমপ্লেক্সের গ্রিন অ্যাকরসের বাসভবন থেকে শুরু হয়ে ওশিওয়ারা শ্মশানে পৌঁছায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা গজেন্দ্র চৌহান, ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজের সভাপতি বিএন তিওয়ারি, সহসভাপতি অশোক দুবেসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকে।
স্বামীর শেষকৃত্যে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অভিনেত্রী অরুণা ইরানি। তার পাশে ছিলেন বলিউড তারকা ভিকি কৌশল, ক্যাটরিনা কাইফ, পরিচালক রোহিত শেঠি, রাজপাল যাদব ও গীতিকার জাভেদ আখতারসহ আরও অনেকে।
কুকু কোহলিকে স্মরণ করে অভিনেতা রাজা মুরাদ জানান, তারা বান্দ্রার সেন্ট থেরেসা হাইস্কুলের সহপাঠী ছিলেন। কুকু তার চেয়ে দুই বছরের সিনিয়র ছিলেন। অভিনয় জগতে আসার আগে কুকু কোহলি আর কে স্টুডিওতে রাজ কাপুরের সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। পরে পরিচালক রাহুল রাওয়েলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
কুকু কোহলির সঙ্গে নিজের দীর্ঘ সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে রাজা মুরাদ জানান, তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘ফুল অউর কাঁটে’র সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। ১৯৯১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি অজয় দেবগনের নায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটায় এবং বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায়।
কুকু কোহলি ব্যক্তিগতভাবে ছিলেন অত্যন্ত প্রচারবিমুখ ও স্বল্পভাষী- এমনটাই জানিয়েছেন রাজা মুরাদ। তবে তার মৃত্যুতে বিশেষভাবে অরুণা ইরানির কথা ভেবে কষ্ট পাচ্ছেন এই অভিনেতা। তার মতে, জীবনের শেষ পর্যায়ে একজন সঙ্গীকে হারানোর শূন্যতা অত্যন্ত কঠিন।
রাজা মুরাদ বলেন, “অরুণাজির জন্য আমার খুব খারাপ লাগছে। এই বয়সে একজন সঙ্গীর প্রয়োজন অনেক বেশি। সেই সঙ্গীকে হারালে একাকিত্ব খুব কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে।” তিনি আরও বলেন, মানুষ শেষ বয়সে পরস্পরের জন্যই বেঁচে থাকে, তাই অরুণা ইরানির এই শোক সামলানো কঠিন হবে।
মুরাদ আরও জানান, কিছুদিন আগেও অরুণা ইরানির সঙ্গে একটি স্মরণসভায় কুকু কোহলিকে দেখেছিলেন। তখন তাকে সম্পূর্ণ সুস্থই মনে হয়েছিল। জীবনের অনিশ্চয়তা বোঝাতে তিনি বলেন, জীবন যেন একটি ট্রেন- কখন কোথায় কার যাত্রা শেষ হবে, কেউ জানে না। সবকিছুই সৃষ্টিকর্তার হাতে।
চলচ্চিত্রে কুকু কোহলির পরিচিতি সবচেয়ে বেশি ‘ফুল অউর কাঁটে’কে ঘিরে। ১৯৯১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে অভিষেক হয় তার এবং অজয় দেবগনের ক্যারিয়ারেরও বড় সূচনা ঘটে। ছবিতে অজয়ের সঙ্গে অভিনয় করেন মধু, অমরিশ পুরী, অরুণা ইরানি ও জগদীপ।
এরপর ১৯৯৪ সালে অজয় দেবগন, অক্ষয় কুমার, করিশমা কাপুর ও নাগমা অভিনীত ‘সুহাগ’ নির্মাণ করেন তিনি। তার অন্যান্য পরিচালিত সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘হকিকত’, ‘জুলমি’, ‘আনারি নম্বর ওয়ান’ ও ‘ইয়ে দিল আশিকানা’। তার সর্বশেষ পরিচালিত সিনেমা ‘ওহ তেরা নাম থা’ মুক্তি পায় ২০০৪ সালে।
কুকু কোহলির আসল নাম ছিল অবতার কোহলি। তিনি ১৯৯০ সালে অভিনেত্রী অরুণা ইরানিকে বিয়ে করেন। এর আগে রিটা কোহলির সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। সেই সংসারে তার দুই মেয়ে পূজা কোহলি ও নির্মাতা করিশমা কোহলি। এনডিটিভি
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে