শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ব্যক্তিগত তথ্য যথাযথভাবে সুরক্ষিত না রাখার অভিযোগে টিকটকের মূল প্রতিষ্ঠান ‘বাইটড্যান্সকে’ প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে ব্রাজিলের তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ। সামাজিক মাধ্যমগুলোর ওপর ব্রাজিলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই জরিমানা করা হয়েছে।
ব্রাজিলের তথ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা এক সিদ্ধান্তে জানায়, টিকটক লগইন করা অ্যাকাউন্ট এবং অতিথি হিসেবে ব্রাউজিং—উভয় ক্ষেত্রেই তথ্য সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে। বৈধ আইনি ভিত্তি কিংবা পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই শিশু ও কিশোর ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করার অভিযোগ রয়েছে প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার হিসাবে, টিকটক অন্তত ৮০ লাখ শিশু-কিশোরের তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে থাকতে পারে। এ ঘটনায় প্ল্যাটফর্মটির বয়স যাচাই ব্যবস্থায় কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে বাইটড্যান্সের। নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে কোম্পানিটি ১০ দিন সময় পাবে।
রায়ে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা সব তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষায় আরও কার্যকর ও সমন্বিত একটি কাঠামো তৈরি করতে টিকটককে নির্দেশ দিয়েছে ব্রাজিলের কর্তৃপক্ষ।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিশেষভাবে টিকটকের ‘লগড-আউট ফিড’ সুবিধা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই ফিচারের মাধ্যমে কোনো অ্যাকাউন্ট তৈরি বা লগইন না করেই ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ভিডিও ও কনটেন্ট দেখতে পারেন। কর্তৃপক্ষের মতে, এর ফলে অপ্রাপ্তবয়স্করা বয়স যাচাইয়ের প্রক্রিয়া এড়িয়ে সহজেই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারছেন।
ব্রাজিলে এই সুবিধা চালু থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে তা নেই বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ওই অঞ্চলগুলোতে টিকটকের কনটেন্ট দেখতে নিবন্ধিত ব্যবহারকারী হওয়া প্রয়োজন।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ডিসকর্ডকে ব্রাজিলজুড়ে তাদের লাইভস্ট্রিমিং সুবিধা স্থগিতের নির্দেশ দেয় দেশটির কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, একটি লাইভস্ট্রিমে ১৩ বছর বয়সি এক কিশোরীকে আত্মহানি করতে উৎসাহিত করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর কিশোরীটি আত্মহত্যা করে বলে জানানো হয়।
গেমারদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় ভয়েস ও টেক্সট চ্যাটভিত্তিক অ্যাপ ডিসকর্ড ২০১৫ সালে চালু হয়।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সরকার এবং দেশটির সুপ্রিম কোর্ট অপ্রাপ্তবয়স্কদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব উদ্যোগের ফল মিশ্র।
এদিকে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও ইন্দোনেশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশও শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে
ব্রাজিলের তথ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা এক সিদ্ধান্তে জানায়, টিকটক লগইন করা অ্যাকাউন্ট এবং অতিথি হিসেবে ব্রাউজিং—উভয় ক্ষেত্রেই তথ্য সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে। বৈধ আইনি ভিত্তি কিংবা পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই শিশু ও কিশোর ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করার অভিযোগ রয়েছে প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার হিসাবে, টিকটক অন্তত ৮০ লাখ শিশু-কিশোরের তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে থাকতে পারে। এ ঘটনায় প্ল্যাটফর্মটির বয়স যাচাই ব্যবস্থায় কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে বাইটড্যান্সের। নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে কোম্পানিটি ১০ দিন সময় পাবে।
রায়ে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা সব তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষায় আরও কার্যকর ও সমন্বিত একটি কাঠামো তৈরি করতে টিকটককে নির্দেশ দিয়েছে ব্রাজিলের কর্তৃপক্ষ।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিশেষভাবে টিকটকের ‘লগড-আউট ফিড’ সুবিধা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই ফিচারের মাধ্যমে কোনো অ্যাকাউন্ট তৈরি বা লগইন না করেই ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ভিডিও ও কনটেন্ট দেখতে পারেন। কর্তৃপক্ষের মতে, এর ফলে অপ্রাপ্তবয়স্করা বয়স যাচাইয়ের প্রক্রিয়া এড়িয়ে সহজেই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারছেন।
ব্রাজিলে এই সুবিধা চালু থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে তা নেই বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ওই অঞ্চলগুলোতে টিকটকের কনটেন্ট দেখতে নিবন্ধিত ব্যবহারকারী হওয়া প্রয়োজন।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ডিসকর্ডকে ব্রাজিলজুড়ে তাদের লাইভস্ট্রিমিং সুবিধা স্থগিতের নির্দেশ দেয় দেশটির কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, একটি লাইভস্ট্রিমে ১৩ বছর বয়সি এক কিশোরীকে আত্মহানি করতে উৎসাহিত করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর কিশোরীটি আত্মহত্যা করে বলে জানানো হয়।
গেমারদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় ভয়েস ও টেক্সট চ্যাটভিত্তিক অ্যাপ ডিসকর্ড ২০১৫ সালে চালু হয়।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সরকার এবং দেশটির সুপ্রিম কোর্ট অপ্রাপ্তবয়স্কদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব উদ্যোগের ফল মিশ্র।
এদিকে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও ইন্দোনেশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশও শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে