সাফারি পার্কে ফিরল ‘নিহার কলি’ ও ‘সম্রাট বাহাদুর’

আপলোড সময় : ২৫-০৮-২০২৬ ১২:৫৮:০৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৫-০৮-২০২৬ ০২:১১:২২ অপরাহ্ন
 জিম্মার শর্ত ভঙ্গ করে নির্যাতন ও ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের অভিযোগে ব্যক্তিগত জিম্মায় থাকা দুই হাতি 'নিহার কলি' ও 'সম্রাট বাহাদুর'কে উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশে সোমবার (২৪ আগস্ট) অভিযান চালিয়ে হাতি দুটিকে আবার বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেগুলো গাজীপুর সাফারি পার্কে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, "গত ১২ আগস্ট গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে হাতি দুটিকে বিশেষ শর্তে দুই ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। তবে হস্তান্তরের কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে।" 

"বিষয়টি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নজরে এলে তিনি হাতি দুটির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন," বলেন তিনি।

মন্ত্রী বর্তমানে মঙ্গোলিয়ায় কপ-১৭ সম্মেলনে থাকলেও সেখান থেকেই উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন বলে জানান এই কর্মকর্তা। মন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল, বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা ও কল্যাণে কোনো আপস করা হবে না এবং শর্ত ভঙ্গ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগেও হাতি দুটি ব্যক্তিমালিকানায় ছিল। প্রায় দুই বছর আগে সেগুলো ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পর উদ্ধার করে গাজীপুর সাফারি পার্কে রাখা হয়। পরে আগের মালিকেরা হাতি দিয়ে আর চাঁদাবাজি করবেন না—এমন শর্তসহ আরও কিছু শর্ত মেনে সেগুলো নিজেদের জিম্মায় নেন।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পুরুষ হাতি 'সম্রাট বাহাদুর'কে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার শিলুয়া চা-বাগানসংলগ্ন লাঠিটিলা সংরক্ষিত বন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় হাতিটিকে দিয়ে বনের ভেতর থেকে গাছ টানানোর মতো ভারী কাজ করানো হচ্ছিল।

জুড়ীর রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদ উদ্দিন আহমেদ জানান, "উদ্ধারের সময় হাতিটি অত্যন্ত ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত ছিল। ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার পথ হেঁটে আসায় সেটি কাহিল হয়ে পড়েছিল। এ ছাড়া সম্রাট বাহাদুরের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে।"

স্থানীয় বন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কাজ করানোর সময় কথা না শুনলে মাহুতরা লোহার ধারালো বস্তু দিয়ে হাতিটির শরীরে আঘাত করতেন। তবে হাতিটির দেখভালকারী মাহুত আবদুর রউফ দাবি করেন, জঙ্গলে চলাচলের সময় লেবুগাছের কাঁটা লেগে এসব ক্ষত হয়েছে। যদিও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তার এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে মাদি হাতি 'নিহার কলি'কে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান বলেন, "সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে পাঁচ সদস্যের একটি দল সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয়। উদ্ধার করা হাতি দুটির একটি মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে সাফারি পার্কে পৌঁছায়। অন্যটি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে পৌঁছায়।"

তিনি আরও জানান, দীর্ঘ যাত্রার পর হাতি দুটিকে বিশেষ শেডে রাখা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, সাফারি পার্কে পৌঁছানোর পর হাতি দুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ভেটেরিনারি কর্মকর্তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে তাদের চিকিৎসা ও খাবার নিশ্চিত করা হবে।

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী জানান, মন্ত্রীর নির্দেশে দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এক বিবৃতিতে বলেন, বন্যপ্রাণীর কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জিম্মায় নেওয়া প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করলে বা আইনি শর্ত লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

'নিহার কলি' ও 'সম্রাট বাহাদুর'কে উদ্ধারের ঘটনাকে দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও পরিবেশবাদীরা। তাদের আশা, এ পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত জিম্মায় থাকা হাতিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে।
   
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :