ওল চাষে ভাগ্য পাল্টেছে বোয়ালখালীর রূপকের

আপলোড সময় : ২৩-০৮-২০২৬ ০৩:৫৬:০৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৮-২০২৬ ০৩:৫৬:০৫ অপরাহ্ন
কর্ণফুলী নদীর তীরে খরণদ্বীপ বিল। সেই বিলের মাত্র ২০ শতক জমিতে ওলের আবাদ করেছিলেন কৃষক রূপক দে। তাতেই আর্থিক অবস্থা পাল্টে গেছে তার।   রূপক দে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার সাফল্য দেখে স্থানীয় অনেক কৃষক এ সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

রূপক দে জানান, ২০২২ সালে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনা পেয়ে প্রথমবার ১৪ শতক জমিতে ওল কচুর চাষ শুরু করেন। প্রথম দিকে এ সবজি চাষ সম্পর্কে তার তেমন ধারণা ছিল না। তবে ফলন ও বাজারদর ভালো পাওয়ায় পরে তিনি বুঝতে পারেন, ওল কচু চাষে লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

রূপক আরো জানান, রাঙামাটির ঘাগড়া বাজার থেকে ওল কচুর বীজ সংগ্রহ করেন তিনি। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর লোকজন সেখানে ঝুড়িতে ভরে বীজ বিক্রি করতে আসেন।

প্রতি ঝুড়ি বীজের দাম এক হাজার ৪০০ টাকা। চলতি মৌসুমে ১০ ঝাঁকি বীজ কিনে জমিতে রোপণ করেছেন তিনি।
একটি বীজের ওজন সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ গ্রাম। প্রতিটি মাদায় একটি করে বীজ রোপণ করতে হয়। বীজ রোপণ ও পরিচর্যায় প্রতিটির পেছনে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা খরচ হয়।

পরে জমি থেকেই প্রতিটি ওল ১২০ থেকে ১৫০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি করা যায়।

রূপকের ভাষ্য, ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বীজ থেকে প্রায় দুই  কেজি, ৩০০ গ্রাম বীজ থেকে প্রায় পাঁচ কেজি এবং এক কেজি ওজনের বীজ থেকে প্রায় আট কেজি পর্যন্ত ওল পাওয়া যায়। চৈত্র মাসে বীজ রোপণ করা হয়। প্রায় ছয় মাস পর ভাদ্র মাসে তা বিক্রির উপযোগী হয়। তবে পরিপক্ব হওয়ার প্রায় এক মাস আগেই বিক্রি শুরু করা যায়।

চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত প্রায় অর্থ লাখ টাকার ওল কচু বিক্রি করেছেন রূপক দে। সব ওল বিক্রি শেষে প্রায় এক লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।

স্থানীয় বাজারে বর্তমানে ওল কচু পাইকারি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পরে ব্যবসায়ীরা তা খুচরা বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।

চাষের বিষয়ে রূপক জানান, শুরুতে কিছুটা বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়। চৈত্র মাসে তাপমাত্রা বেশি থাকায় জমিতে নিয়মিত পানি দিতে হয়। এতে বীজ ও মাটি স্যাঁতসেঁতে থাকে। মাসে তিন থেকে চারবার পানি দিতে হয়। প্রতিবার পানি দিতে খরচ হয় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।

রূপকের সাফল্য দেখে স্থানীয় তিন-চারজন কৃষক এবার ওল কচুর চাষ শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানুর ইসলাম বলেন, চলতি বছর বোয়ালখালী উপজেলায় প্রায় দুই হেক্টর জমিতে ওল কচুর চাষ হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে উপজেলায় কন্দাল ফসলের আবাদ শুরু হয়। ওই সময় প্রায় আট হেক্টর জমিতে কন্দাল ফসলের আবাদ হলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় দুই হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এক হেক্টর জমিতে ওল কচু চাষ করলে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যেতে পারে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, এক হেক্টর জমি থেকে কৃষকের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে। বিশেষ করে ছায়াযুক্ত ও স্যাঁতসেঁতে জমি এবং পাহাড়ের ঢালে ওল কচুর ফলন ভালো হয়। এসব এলাকায় কৃষকদের ওল কচু চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :