প্রতিবছরই ভাঙে। তবে নদীভাঙন তীব্র হয় বর্ষা মৌসুমে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। গত এক সপ্তাহে অন্তত ৫০ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বসতভিটাসহ বহু স্থাপনা। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ভূতেরদিয়া ও ছানিকেদারপুর গ্রামে এই ভাঙন দেখা দিয়েছে সুগন্ধা নদীতে। এতে ভাঙন আতঙ্কে সময় পার করছে বহু পরিবার। এরইমধ্যে অনেকে বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
সরেজমিন দক্ষিণ ভূতেরদিয়া ও ছানিকেদারপুর গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, নদীর মাত্র ৫০ মিটার দূরত্বে রয়েছে ২২ নম্বর ছানিকেদারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মদিনাতুল কুরআন ফজলুল করিম মাদরাসা, খন্দকার বাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, জাবে নূর জামে মসজিদসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে এসব প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা যেকোনো সময় হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানায়, নদীভাঙনের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে গ্রামের অন্তত ৫০ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ভাঙনের প্রবণতা বেড়েছে বলে জানায় তারা।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভাঙন অব্যাহত থাকায় ওই এলাকার প্রায় ৩৮০ পরিবারের বসতবাড়ি ও আবাদি জমি হুমকিতে পড়েছে। ইতোমধ্যে অনেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে।
স্থানীয় সমাজসেবক খলিলুর রহমান বলেন, নদীভাঙন প্রতিরোধের দাবিতে দিনের পর দিন বিভিন্ন দপ্তর ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা মূলত আশ্বাসই পেয়েছেন। গ্রাম দুটি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম বলেন, একসময় দক্ষিণ ভূতেরদিয়া ও ছানিকেদারপুর গ্রাম ছিল প্রাণবন্ত, ছায়াঘেরা। গ্রামে চলতো নানা উৎসব-আয়োজন। ইউনিয়নের অন্যতম বড় গ্রাম ছিল এ দুটি। কিন্তু নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে এখানকার অনেক পরিবার। কেউ নদীতীরে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে, কেউ দূরে গিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
আবুল কালাম বলেন, ‘জীবনের শেষ সময়ে এসে নিজের গ্রামটিকে নদীর হাত থেকে রক্ষা করতে চাই। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারের কাছে দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’
এ ব্যাপারে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, গ্রামটি রক্ষায় এরইমধ্যে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। আশা করছি পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, ‘সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ- এই তিন নদীর ভয়াবহ ভাঙনের শিকার বাবুগঞ্জ উপজেলার মানুষ। ভাঙন রোধে সরকার ইতোমধ্যে একটি টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রায় ৯৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন হয়েছে।
ইউএনও বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাবুগঞ্জ উপজেলাকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। আশা করছি, প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং ভাঙনকবলিত মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
সরেজমিন দক্ষিণ ভূতেরদিয়া ও ছানিকেদারপুর গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, নদীর মাত্র ৫০ মিটার দূরত্বে রয়েছে ২২ নম্বর ছানিকেদারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মদিনাতুল কুরআন ফজলুল করিম মাদরাসা, খন্দকার বাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, জাবে নূর জামে মসজিদসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে এসব প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা যেকোনো সময় হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানায়, নদীভাঙনের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে গ্রামের অন্তত ৫০ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ভাঙনের প্রবণতা বেড়েছে বলে জানায় তারা।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভাঙন অব্যাহত থাকায় ওই এলাকার প্রায় ৩৮০ পরিবারের বসতবাড়ি ও আবাদি জমি হুমকিতে পড়েছে। ইতোমধ্যে অনেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে।
স্থানীয় সমাজসেবক খলিলুর রহমান বলেন, নদীভাঙন প্রতিরোধের দাবিতে দিনের পর দিন বিভিন্ন দপ্তর ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা মূলত আশ্বাসই পেয়েছেন। গ্রাম দুটি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম বলেন, একসময় দক্ষিণ ভূতেরদিয়া ও ছানিকেদারপুর গ্রাম ছিল প্রাণবন্ত, ছায়াঘেরা। গ্রামে চলতো নানা উৎসব-আয়োজন। ইউনিয়নের অন্যতম বড় গ্রাম ছিল এ দুটি। কিন্তু নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে এখানকার অনেক পরিবার। কেউ নদীতীরে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে, কেউ দূরে গিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
আবুল কালাম বলেন, ‘জীবনের শেষ সময়ে এসে নিজের গ্রামটিকে নদীর হাত থেকে রক্ষা করতে চাই। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারের কাছে দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’
এ ব্যাপারে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, গ্রামটি রক্ষায় এরইমধ্যে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। আশা করছি পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, ‘সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ- এই তিন নদীর ভয়াবহ ভাঙনের শিকার বাবুগঞ্জ উপজেলার মানুষ। ভাঙন রোধে সরকার ইতোমধ্যে একটি টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রায় ৯৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন হয়েছে।
ইউএনও বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাবুগঞ্জ উপজেলাকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। আশা করছি, প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং ভাঙনকবলিত মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন