দুই পাড়ের বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা নৌকা

আপলোড সময় : ২১-০৮-২০২৬ ০৩:৩৩:০৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৮-২০২৬ ০৩:৩৩:০৪ অপরাহ্ন
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও পাবনার চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার সীমান্ত দিয়ে বয়ে চলা গুমানী নদীতে নির্মিত হয়নি কোনো সেতু। ফলে দুই পাড়ের হাজার হাজার বাসিন্দার যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন কেবল নৌকা। শুষ্ক মৌসুমে সাময়িকভাবে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হলেও বছরের দীর্ঘ সময় চরম ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে হয় চাটমোহর উপজেলার নিমাইচড়া ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। প্রতিদিন ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষসহ হাজারো যাত্রী খরস্রোতা এই নদী পাড়ি দিচ্ছেন। এতে যেমন বাড়তি অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তেমনি অপচয় হচ্ছে মূল্যবান সময়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও কৃষকদের দুর্ভোগ এখন চরমে। নদীর ওপারে হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জরুরি সেবা নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। 

দেশজুড়ে অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হলেও এই দুই ইউনিয়নের সংযোগস্থলে এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। স্থানীয়দের দাবি, একটি সেতু নির্মিত হলে এলাকার জীবনযাত্রার মান আমূল বদলে যেত। শিক্ষার্থীরা নিরাপদে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে পারত এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য কম খরচে ও দ্রুত সময়ে বাজারজাত করতে সক্ষম হতো। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, আইনশৃঙ্খলা ও ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি সেবাগুলোও সহজলভ্য হতো।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গুমানী নদীটি গিয়ে মিশেছে যমুনায়। নদীর এক পাড়ে ভাঙ্গুড়ার অষ্টমনিষা বাজার এবং অন্য পাড়ে নিমাইচড়া ইউনিয়নের মির্জাপুর হাট। এই দুই পাড়ের মানুষের পারাপারের মাধ্যম কেবল খেয়া নৌকা। 

নদীর উত্তর পাড়ে নিমাইচড়া ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজ, মাদরাসা, উচ্চ বিদ্যালয় এবং ব্যাংকসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান অবস্থিত। সপ্তাহে রবি ও বৃহস্পতিবার দুই দিন এখানে বড় হাট বসে। কিন্তু যাতায়াত সংকটে ঐতিহ্যবাহী এই হাটটি এখন বিলুপ্তির পথে। অন্যদিকে, দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে অষ্টমনিষা ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, হাসিনা মোমিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, অষ্টমনিষা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পোস্ট অফিস ও বড় বাজার। উভয় পাড়ের মানুষকে দৈনন্দিন প্রয়োজনে প্রতিদিন নদী পার হতে হয়।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা সেতুর দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসেই আটকে আছে তাদের স্বপ্ন। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনে নৌকা থাকলেও রাতে পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রসূতি ও মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

মির্জাপুর এলাকার বাসিন্দা আকাশ জানান, এটি একটি বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও বারবার স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে সেতুর দাবি জানিয়েও আমরা শুধু সান্ত্বনা পেয়েছি। 

অষ্টমনিষা ইউনিয়নের সজীব জানান, কয়েক বছর আগে কাছেই হরিহরপুরে সেতুর কাজ শুরু হয়েও মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়, যার কারণ আমাদের অজানা। 

সিরাজুল ইসলাম, সেলিম হোসেন ও আমিন প্রামাণিকসহ একাধিক কৃষক ও ব্যবসায়ী জানান, এলাকাটি কৃষিপ্রধান হওয়ায় এখানে প্রচুর ধান উৎপাদিত হয় এবং অনেক চাতাল রয়েছে। বর্ষায় নৌকায় পণ্য পরিবহন করা গেলেও ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পানি কমে যাওয়ায় মালামাল আনা-নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে এলজিইডির চাটমোহর উপজেলা প্রকৌশলী মো. এজাজুল আলম বলেন, আমি নদীটি পার হয়ে হান্ডিয়াল গিয়েছি। নদীতে একটি ব্রিজ নির্মাণ দুই ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। পূর্বে অষ্টমনিষা-মির্জাপুর ঘাটে সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে কিনা দেখব। যদি প্রস্তাবনা না পাঠানো হয়ে থাকে, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই নদীতে একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। এটি ডিপিপির (উচ্চ) অন্তর্ভুক্ত হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে জানান তিনি।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :