বাজারে মধ্যবিত্তের হাঁসফাঁস: মাছ, মাংস, ডিম, সবজির দাম বাড়তি

আপলোড সময় : ২১-০৮-২০২৬ ০২:১৯:২৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৮-২০২৬ ০২:২৪:০১ অপরাহ্ন
মাছ-মাংসের চড়া দামের পর রাজধানীর সবজির বাজারেও তৈরি হয়েছে চরম অস্বস্তি। হু-হু করে বাড়তে থাকা দামে বাজারে এসে কার্যত হাঁসফাঁস করছেন ক্রেতারা। বাজারভেদে দামে সামান্য তারতম্য থাকলেও বেশির ভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকায়। মাছ ও মাংসের বাড়তি দামের সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির এই চড়া মূল্যে নাভিশ্বাস উঠছে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের। তবে সরবরাহ বাড়ায় বাজারে কাঁচা মরিচের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির চড়া মূল্যের এই চিত্র দেখা গেছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢেঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সাধারণ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। তবে তুলনামূলক কিছুটা কম দামে শসা ৬০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমেই বাজারে আসা শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে। এ ছাড়া ফুলকপি ও বাঁধাকপি ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে একমাত্র স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। কয়েক সপ্তাহ আগে যে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ৪০০ টাকায় ঠেকেছিল, সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা এখন মানভেদে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার করতে আসা মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষ বাজারের এই পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তালতলা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মিশু আহমেদ বলেন, ব্যবসায়ীদের ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণের কারণে সাধারণ ক্রেতারা হিমশিম খাচ্ছেন। পরিবার নিয়ে টিকে থাকাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মোহাম্মদপুর কৃষি বাজারের ক্রেতা হাফিজ উদ্দিন জানান, আগে ১০০ টাকায় কয়েক পদের সবজি কেনা গেলেও এখন এক কেজি সবজি কিনতেই ৮০ থেকে ১০০ টাকা লেগে যায়। ফলে এক হাজার টাকার বাজারে সামান্য পণ্য নিয়েই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। অন্যদিকে বিক্রেতারা দাম বৃদ্ধির পেছনে বৃষ্টি ও আবহাওয়াজনিত কারণকে দায়ী করছেন। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী হামিদুর রহমান জানান, অতিবৃষ্টির কারণে উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটেছে এবং মোকাম পর্যায় থেকে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াও খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলেছে। তবে পাইকারি বাজারে সঠিক নজরদারি করা গেলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দ্রুতই সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সরেজমিনে জানা যায়, মাছের বাজারে ২৫০ টাকার নিচে কোনো মাছই এখন মিলছে না। বাজারে প্রতি কেজি পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মধ্যবিত্তের পছন্দের রুই-কাতলা কিনতে গুনতে হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা। অন্যদিকে মাঝারি সাইজের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা হলেও ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। অন্যদিকে গরুর মাংসের দাম দাঁড়িয়েছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে। সাধারণ ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বাজারে আড়াইশ টাকার কম দামের কোনো মাছ না থাকায় তাদের পক্ষে নিয়মিত কেনাকাটা করাই অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

বাজারের এমন আগুনে পরিস্থিতিতে রায়েরবাজারের ক্রেতা সাইদ মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, বাজারে এখন কোনো কিছুতেই হাত দেওয়ার জো নেই। আড়াইশ টাকার নিচে এক কেজি সাধারণ তেলাপিয়া মাছও মিলছে না। সীমিত আয়ের মানুষ নিয়ে আমরা কীভাবে বাঁচব?

মাছের পাশাপাশি মুরগি ও ডিমের বাজারেও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দর অপরিবর্তিত থাকলেও ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকার বাড়তি দামেই কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। দেশি মুরগির কেজি গিয়ে ঠেকেছে ৬৫০ টাকায়। আর ডিমের বাজার আরও চড়া; লাল ডিমের ডজন ১৫০ টাকা পর্যন্ত ঠেকলেও পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে তা বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। বিক্রেতারা অবশ্য দাবি করছেন, মুরগি ও মাছের দাম আগের সপ্তাহের মতো চড়েই আছে, নতুন করে বড় কোনো লাফ দেয়নি। 

বাজারে আসা ক্রেতারা জানান, আয় না বাড়লেও প্রতিদিন এভাবে মাছ, মুরগি ও ডিমের খরচ বাড়তে থাকায় সংসার চালানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অল্প কিছু কেনাকাটা করতেই আগের চেয়ে দ্বিগুণ টাকা চলে যাচ্ছে। অবিলম্বে বাজার তদারকি জোরদার না করা হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের দৈনন্দিন দিনযাপন আরও সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
   
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন


 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :