সেই বাঘিনীর খোঁজ মিলছে না, ৪০ ক্যামেরায়ও ধরা পড়েনি

আপলোড সময় : ১৯-০৮-২০২৬ ১১:৩২:৫৮ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-০৮-২০২৬ ১১:৩২:৫৮ পূর্বাহ্ন
সুন্দরবনে ৮ কিলোমিটারজুড়ে বসানো ৪০ ক্যামেরায় ধরা পড়ছে না সেই বাঘিনীটি। তার আবাসস্থলে অন্য বাঘিনীর বসবাস শুরু হয়েছে। শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে আহত হওয়ায় ৬ মাস চিকিৎসা শেষে সুন্দরবনেই অবমুক্ত করা হয়েছিল। অবমুক্তির এক মাস অতিবাহিত হলেও কোনও ক্যামেরায় সন্ধান মেলেনি। বাঘিনীটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ৮ কিলোমিটারজুড়ে বসানো হয় ৪০টি ক্যামেরা।

চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিকের গভীর বনে বসানো ক্যামেরায় ধরা পড়েছে অন্য তিনটি বাঘিনী। ফলে অবমুক্ত করা বাঘিনীটি বেঁচে আছে কি না এ নিয়ে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ বলছে, সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় গত ১২ জুলাই বাঘিনীটিকে তার আবাসস্থল সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক এলাকার গভীর অরণ্যে অবমুক্ত করা হয়। ওই এলাকায় অন্য তিনটি বাঘিনী বসবাস শুরু করায় সে হয়তো অন্য এলাকায় চলে গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে আগামী সপ্তাহে আবারও ৪০টি ক্যামেরা মনিটর করবে বন বিভাগ।

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারী টহল ফাঁড়ির আওতাধীন শরকির খালসংলগ্ন বনে হরিণ শিকারিদের পাতা ছিটকা ফাঁদে আটকা পড়ে বাঘিনীটি। ফাঁদে আটকে থাকায় তার সামনের বাঁ পায়ে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। ক্ষতস্থানে পচনও ধরেছিল। পরে ফাঁদ থেকে উদ্ধার করে খুলনার বয়রায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের ছয় মাসের চিকিৎসা ও পরিচর্যায় সুস্থ হয়ে ওঠে বাঘিনীটি। এরপর গত ১২ জুলাই উদ্ধারের স্থানসংলগ্ন আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের পাশের বনাঞ্চলে তাকে অবমুক্ত করা হয়।

অবমুক্তির পর পর্যবেক্ষণে প্রায় ১৫০ মিটার এলাকায় বাঘিনীটির পায়ের ছাপ দেখা যায় বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। অবমুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও যাচাই করে দেখা যায়, খাঁচা থেকে বের হয়ে বনে লাফিয়ে পড়ার সময় বাঘিনীটি ডানে-বাঁয়ে হেলে পড়ছিল। এমনকি শক্তভাবে দাঁড়াতেও কিছুটা কষ্ট হচ্ছিল তার। সে বারবার পেছনের দিকে ফিরে তাকাচ্ছিল।

অবমুক্তির এক মাস পরও কোনও ক্যামেরায় বাঘিনীটির ছবি না পাওয়ায় নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বাঘিনীটি অবমুক্তির পর বন বিভাগের পর্যবেক্ষণে প্রায় ১৫০ মিটার এলাকায় তার পায়ের ছাপ দেখা যায়। চেতনানাশক প্রয়োগ করে অচেতন করার পর অবমুক্তির সময় কিছুটা দুর্বল থাকলেও পরে স্পষ্ট পায়ের ছাপ দেখে তার অবস্থা স্বাভাবিক ছিল বলে ধারণা করা হয়।

তিনি জানান, বাঘিনীটি অবমুক্তির আগে আন্ধারমানিক এলাকার প্রায় ৮ কিলোমিটারজুড়ে ২০টি স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাপিং ক্যামেরা বসানো হয়। পরে শ্যালনদীর পূর্বপাড় ও জয়মনি এলাকায় আরও ২০টি ক্যামেরা বসানো হয়। বন বিভাগ নিয়মিতভাবে এসব ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করছে। এ সব ক্যামেরায় এখন পর্যন্ত তিনটি বাঘিনীর ছবি ধরা পড়েছে। ছবি পর্যালোচনা করে অবমুক্ত করা বাঘিনীটির কোনও ছবি পাওয়া যায়নি। তবে ক্যামেরায় তার ছবি না পাওয়ার অর্থ এই নয় যে সে মারা গেছে। ওই এলাকায় অন্য তিনটি বাঘিনী বসবাস শুরু করায় সে হয়তো অন্য এলাকায় চলে গেছে।

এ কর্মকর্তা আরও বলেন, একটি বাঘ সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার এলাকায় বিচরণ করে থাকে। বাঘিনীটিও হয়তো তার বিচরণ এলাকা পরিবর্তন করেছে। অন্য এলাকায় চলে যাওয়ায় সে বর্তমানে ক্যামেরার আওতার বাইরে থাকতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে আগামী সপ্তাহে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ আবারও ৪০টি ট্র্যাপিং ক্যামেরা মনিটর করবে। আন্ধারমানিক এলাকাজুড়ে বন বিভাগের নিবিড় নজরদারি রয়েছে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :