চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেলে তীব্র নদীভাঙনে মাটির নিচ থেকে উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের দুটি সাবমেরিন ক্যাবল। ভাটার সময় ক্যাবল দুটির প্রায় ৫০ ফুট অংশ দৃশ্যমান হচ্ছে। গত তিন মাস ধরে এ অবস্থা চললেও ঝুঁকি নিরূপণে কোনো সমীক্ষা করেনি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। ক্যাবল দুটি বিকল হলে দীর্ঘ সময়ের জন্য আবারও অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে পারে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ বাসিন্দার দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙনকবলিত স্থানটি বাউরিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে। চলতি বছরের জুনে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জিও ব্যাগ ফেললেও তা টেকেনি। বরং প্রবল জোয়ারে ক্যাবলের আরও অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে।
২০১৮ সাল থেকে এ ক্যাবলের মাধ্যমে সন্দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। ৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতা ও ৫০ বছর স্থায়িত্বকালের এই ক্যাবল দিয়ে বর্তমানে প্রাথমিকভাবে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে ক্যাবল উন্মুক্ত হওয়ার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও পিডিবি এখনো ঝুঁকি নিরূপণ করতে পারেনি। তারা প্রকল্পের চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চিয়াংসু ঝোংথিয়েন টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের (জেডটিটি) বিশেষজ্ঞদের পরিদর্শনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে পরিদর্শনে আসার আগে আর্থিক, আবাসন ও যাতায়াতসংক্রান্ত বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দিয়েছে বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি। এসব শর্ত পূরণে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে পিডিবি।
পিডিবি চট্টগ্রামের (বিতরণ দক্ষিণ) প্রধান প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় তিনটি পক্ষের সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে। পাউবো ও বিদেশি ঠিকাদারকে জানানো হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরেজমিনে পরিদর্শন করবে বললেও এখনো আসেনি।
প্রকৌশলগতভাবে নদীর তলদেশের মাটি সরে গিয়ে ক্যাবল পানিতে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকলে তাকে ‘ফ্রি স্প্যান’ বা মুক্ত-ঝুলন্ত অংশ বলা হয়। স্রোত ও ঢেউয়ের অনবরত কম্পনে ক্যাবলের ভেতরের অপটিক্যাল ফাইবার দুর্বল হয়ে যায়। ‘ওশান ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও ‘জার্নাল অব মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এমন ঝুলন্ত ক্যাবলকে ‘টাইম-বোমা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণাপত্রগুলোতে বলা হয়েছে, স্রোতের কারণে সৃষ্ট ‘লক-ইন ভাইব্রেশন’ বা সূক্ষ্ম কম্পন উন্মুক্ত ক্যাবলে ধাতব ক্লান্তি তৈরি করে। ফলে বাহ্যিক কোনো বড় আঘাত ছাড়াই ক্যাবলটি হঠাৎ মাঝখান থেকে সম্পূর্ণ ছিঁড়ে যেতে পারে।
পিডিবি সূত্রে জানা যায়, ক্যাবল ছিঁড়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কথা। তবে ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ার মুহূর্তে পানিতে উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার বা শর্ট সার্কিটের ক্ষণিক ঝুঁকি থাকে। ৩৩ কেভি ক্ষমতার এই ক্যাবল থেকে সামান্য সময়ের জন্যও বিদ্যুৎ পানিতে ছড়িয়ে পড়লে তা আশপাশের জলজ প্রাণী এবং নৌযানে থাকা বা পানিতে অবস্থানরত মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ক্যাবল স্থাপনের আগে সমীক্ষা ও তদারকির দায়িত্বে ছিল ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম)। সে সময় জলপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে ক্যাবলটি সর্বোচ্চ ৬ মিটার গভীরে স্থাপন করা হয়েছিল। অথচ ক্যাবল উন্মুক্ত হওয়ার পর ঝুঁকি নিরূপণে পিডিবি তাদের কোনো পরামর্শ নেয়নি।
আইডব্লিউএমের নির্বাহী পরিচালক আমীরুল ইসলাম বলেন, ‘সাবমেরিন ক্যাবলের অবস্থা মূল্যায়নে পিডিবি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। নয় বছর আগের সমীক্ষার পর এখন পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে। ভূমিরূপ ও পানিপ্রবাহের পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ক্যাবলের পুরো অংশ নিয়মিত মনিটরিং করা প্রয়োজন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙনকবলিত স্থানটি বাউরিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে। চলতি বছরের জুনে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জিও ব্যাগ ফেললেও তা টেকেনি। বরং প্রবল জোয়ারে ক্যাবলের আরও অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে।
২০১৮ সাল থেকে এ ক্যাবলের মাধ্যমে সন্দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। ৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতা ও ৫০ বছর স্থায়িত্বকালের এই ক্যাবল দিয়ে বর্তমানে প্রাথমিকভাবে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে ক্যাবল উন্মুক্ত হওয়ার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও পিডিবি এখনো ঝুঁকি নিরূপণ করতে পারেনি। তারা প্রকল্পের চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চিয়াংসু ঝোংথিয়েন টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের (জেডটিটি) বিশেষজ্ঞদের পরিদর্শনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে পরিদর্শনে আসার আগে আর্থিক, আবাসন ও যাতায়াতসংক্রান্ত বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দিয়েছে বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি। এসব শর্ত পূরণে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে পিডিবি।
পিডিবি চট্টগ্রামের (বিতরণ দক্ষিণ) প্রধান প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় তিনটি পক্ষের সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে। পাউবো ও বিদেশি ঠিকাদারকে জানানো হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরেজমিনে পরিদর্শন করবে বললেও এখনো আসেনি।
প্রকৌশলগতভাবে নদীর তলদেশের মাটি সরে গিয়ে ক্যাবল পানিতে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকলে তাকে ‘ফ্রি স্প্যান’ বা মুক্ত-ঝুলন্ত অংশ বলা হয়। স্রোত ও ঢেউয়ের অনবরত কম্পনে ক্যাবলের ভেতরের অপটিক্যাল ফাইবার দুর্বল হয়ে যায়। ‘ওশান ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও ‘জার্নাল অব মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এমন ঝুলন্ত ক্যাবলকে ‘টাইম-বোমা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণাপত্রগুলোতে বলা হয়েছে, স্রোতের কারণে সৃষ্ট ‘লক-ইন ভাইব্রেশন’ বা সূক্ষ্ম কম্পন উন্মুক্ত ক্যাবলে ধাতব ক্লান্তি তৈরি করে। ফলে বাহ্যিক কোনো বড় আঘাত ছাড়াই ক্যাবলটি হঠাৎ মাঝখান থেকে সম্পূর্ণ ছিঁড়ে যেতে পারে।
পিডিবি সূত্রে জানা যায়, ক্যাবল ছিঁড়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কথা। তবে ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ার মুহূর্তে পানিতে উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার বা শর্ট সার্কিটের ক্ষণিক ঝুঁকি থাকে। ৩৩ কেভি ক্ষমতার এই ক্যাবল থেকে সামান্য সময়ের জন্যও বিদ্যুৎ পানিতে ছড়িয়ে পড়লে তা আশপাশের জলজ প্রাণী এবং নৌযানে থাকা বা পানিতে অবস্থানরত মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ক্যাবল স্থাপনের আগে সমীক্ষা ও তদারকির দায়িত্বে ছিল ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম)। সে সময় জলপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে ক্যাবলটি সর্বোচ্চ ৬ মিটার গভীরে স্থাপন করা হয়েছিল। অথচ ক্যাবল উন্মুক্ত হওয়ার পর ঝুঁকি নিরূপণে পিডিবি তাদের কোনো পরামর্শ নেয়নি।
আইডব্লিউএমের নির্বাহী পরিচালক আমীরুল ইসলাম বলেন, ‘সাবমেরিন ক্যাবলের অবস্থা মূল্যায়নে পিডিবি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। নয় বছর আগের সমীক্ষার পর এখন পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে। ভূমিরূপ ও পানিপ্রবাহের পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ক্যাবলের পুরো অংশ নিয়মিত মনিটরিং করা প্রয়োজন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন