ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ২৩৫টি আফটারশক

আপলোড সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ১১:১৮:১২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ১১:১৮:১২ পূর্বাহ্ন
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। এই মারাত্মক ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং ভবন ও ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে দেশটির ফ্লোরেস দ্বীপ এলাকায় এই তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। 

মাটির মাত্র ১৫ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হয়েছে। ভূমিধসের কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় উদ্ধারকারীরা এখনো ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের সবচেয়ে কাছের এলাকা নাগেকেওতে পৌঁছাতে পারেননি।

কর্তৃপক্ষ একটি সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল, যা পরে প্রত্যাহার করা হয়। তবে, ৬ দশমিক ১ মাত্রার একটিসহ অন্তত ২৩৫টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।  

ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যবেক্ষণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায় এমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি যা সুনামির ইঙ্গিত দিতে পারে।

শহরটির উদ্ধারকারী সংস্থার প্রধান ফাতুর রহমান জানান, বন্দর নগরী মাউমেরের আশেপাশে উদ্ধারকারীরা ২০ জনকে মৃত, ছয়জনকে গুরুতর আহত এবং দুজনকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া অবস্থায় উদ্ধার করেছে। নিহতদের মধ্যে আটজন ভূমিধসে মারা গেছেন। মাউমেরে হলো ইন্দোনেশিয়ার বিশাল দ্বীপপুঞ্জের পূর্বে অবস্থিত ফ্লোরেস দ্বীপের সিক্কা রিজেন্সির প্রধান শহর।

ফেসবুকে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়ছে এবং লোকজন চিৎকার করতে করতে রাস্তায় ছোটাছুটি করছে। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, পূর্ব মাঙ্গারাইয়ের নাগাডা গ্রামে ১ দশমিক ৬১ মিটার উঁচু সুনামির ঢেউ আঘাত হানার পর একটি উপকূলীয় গ্রাম কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে।

প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, ৩৪৬টি বাড়ি, ৮৭টি স্কুল এবং এক ডজনেরও বেশি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বেশ কয়েকটি ভবনে বাসিন্দারা আটকা পড়েছেন।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে ৬০ মাইলেরও বেশি দূরে বসবাসকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইউলিয়ান জুইতা একালিয়া বলেন, “আমি এত বড় ভূমিকম্প আগে কখনো অনুভব করিনি। মনে হচ্ছিল যেন আমরা ট্রাম্পোলিনের ওপর আছি, এটা সত্যিই ভীতিকর ছিল।”

মার্কিন ও ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলটি ফ্লোরেসের উত্তর উপকূলের কাছে, উপকূলীয় শহর এন্ডে থেকে প্রায় ৪২ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ছিল।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :