বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে বিভ্রান্তি ও হঠকারিতার রাজনীতি ছেড়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘বিভ্রান্তির রাজনীতি স্বৈরাচার করে গেছে, মিথ্যের রাজনীতি স্বৈরাচার করে গেছে, ভাঙচুরের রাজনীতি স্বৈরাচার করে গেছে, আপনারা জনগণের সামনে প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, জনগণের জন্য কাজ করবেন। আপনারা জনগণের সামনে প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, আপনারা দেশ গঠনের জন্য কাজ করবেন। কাজেই সেইসব বিভ্রান্তির রাজনীতি বাদ দেন, সেইসব হঠকারিতার রাজনীতি বাদ দেন। আসেন জনগণের জন্য কী করতে পারবেন কী পরামর্শ আপনাদের থলের মধ্যে আছে সেটি জনগণের সামনে তুলে ধরেন। কী পরিকল্পনা আপনাদের মাথার মধ্যে আছে যা জনগণের উপকার করবে, যা দেশের মানুষের উপকার করবে, সেটি জনগণের সামনে উপস্থাপন করেন। রাস্তায় বসে ভাঙচুর করা রাস্তায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করার দিন শেষ, সেই রাজনীতি শেষ, জনগণ এখন সেই রাজনীতি আর সমর্থন করে না।’
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মাঝে চেক বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই নেতাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই, যারা মঞ্চে বসে পিছনে ফ্যানের বাতাস খেয়েছে, সামনে হারিকেন রেখেছে। সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই, বিএনপি জনগণের জন্য কাজ করছে। বিএনপির পরিকল্পনা রয়েছে, জনগণের জন্য কীভাবে আমরা এই জ্বালানি সমস্যার সমাধান করব, ইনশাআল্লাহ আগামী ২৭ তারিখে শুরু হবে সংসদ অধিবেশন। সেই সংসদেই আমরা বাংলাদেশের জনগণের সামনে উপস্থাপন করব, আগামী ১০ বছর আমরা কীভাবে এই দেশের মানুষের জন্য জ্বালানি সমস্যার সমাধান করব, সেই পরিকল্পনা দেব।’
তিনি বলেন, ‘আজকে এই সকল রাজনৈতিক দলকে পরিষ্কারভাবে আমি বলতে চাই, আপনারা যদি মনে করেন- অতই জনগণের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব আছে, তাহলে আপনাদের পরিকল্পনা নিয়ে আসুন জনগণের সামনে, আপনাদের পরিকল্পনা যদি আগামী তিন মাসের মধ্যে সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে, তাহলে আমি আপনাদের পরিকল্পনাই গ্রহণ করব। তাদের প্রতি আমি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম। যেই বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে, যেই গ্যাসের সমস্যা রয়েছে, সেইটি সমাধানের জন্য তারা যদি সরকার থেকে ভালো কোনো পরিকল্পনা নিয়ে আসতে পারে যে পরিকল্পনা আগামী তিন মাসের মধ্যে, বাদ দেন তিন মাস আরও তিন মাস আমি তাদেরকে দিলাম, যদি ছয় মাসের মধ্যেও তারা সমস্যার সমাধান করতে পারে তাহলে তাদের প্রত্যেকটি পরিকল্পনা আমরা বাস্তবায়ন করব। আর যদি তারা শুধুমাত্র জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য দেশকে বিভ্রান্ত করার জন্য এইসব কথা বলে থাকে তাহলে অবশ্যই তাদেরকে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমালোচনা করা খুবই সহজ কাজ। মানুষের জন্য কাজ করুন দেশের জন্য কাজ করুন। সঠিক কথা বলুন, এমন কোনো কথা বলবেন না, যেই কথা বললে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, এমন কোনো কাজ করবেন না, যে কথা বললে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় রাজপথে, কারণ স্বৈরাচার বসে আছে। স্বৈরাচারের সাথে বিগত ১৭ বছর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রত্যেকটি নেতাকর্মী যুদ্ধ করে টিকে ছিল, এই রাজপথেই তারা টিকে ছিল। আর কোনো রাজনৈতিক অন্য যারা ছিল তারা আমাদের সাথে ছিল। যারা আজকে গলা উঁচু করে কথা বলছে, যারা আজকে বিশৃঙ্খল কথা বলছে, বিভ্রান্তিকর কথা বলছে- ১৭ বছর মানুষ আপনাদেরকে রাজপথে দেখতে পায় নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এইসব বিভ্রান্তির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসুন, এইসব মিথ্যার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসুন, এইসব উসকানি দেওয়ার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসুন। সত্যিকারভাবে জনগণের কাজ হতে পারে, সত্যিকারভাবে দেশ এগিয়ে যেতে পারে এরকম যদি কোনো পরিকল্পনা আপনাদের কাছে থাকে, এরকম যদি কোনো চিন্তাভাবনা আপনাদের কাছে থাকে, সংসদে উপস্থাপন করুন, জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। সেই পরিকল্পনা যদি ভালো হয়, সেই পরিকল্পনা যদি বাস্তবসম্মত হয়, সেই পরিকল্পনা যদি দেশ এবং দেশের মানুষের উপকার করে অবশ্যই আমরা সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।’
উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মহাপ্রকল্প প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলার প্রত্যেকটি হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় রূপান্তর করা হবে। এতে করে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মা ও শিশুরা নিজ এলাকায় উন্নত চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।’
তিনি বলেন, ‘অতীতে স্বাস্থ্যসেবা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হতো যাতে মানুষ বিদেশে যেতে বাধ্য হয়, কিন্তু বর্তমান সরকার দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের যে ৪০ কোটি হাত আছে, সেগুলোকে শ্রমিকের নয় বরং দক্ষ কর্মীর হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। আমি নিজে কী পেলাম সেটি বড় কথা নয়, আমি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কী করতে পারলাম—সেটিই বড় সার্থকতা।’
বক্তব্যের শেষে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং বেগম খালেদা জিয়ার দেশপ্রেমের পথ ধরে বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার শপথ ব্যক্ত করেন।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে