দেশে গ্যাসের সংকট কৃত্রিমভাবে দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি এবং নতুন ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণে জনসমর্থন আদায়ে সরকার ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো কাজ করছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়বে এবং অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে।
অভ্যন্তরীণভাবে গ্যাস উত্তোলনের ব্যয় এলএনজি আমদানির তুলনায় অনেক কম। ফলে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলন এবং সরবরাহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়ার সুযোগ থাকলেও সেই ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বাপেক্সকে শক্তিশালী করার কথা বলা হলেও বাস্তবে পাইপলাইন নির্মাণে অগ্রগতি নেই। একইভাবে নতুন কূপ খনন ও গ্যাস উত্তোলনেও গতি নেই।
অন্যদিকে এলএনজি আমদানির অবকাঠামো সম্প্রসারণে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। দেশে থাকা দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের বয়স এক দশকও পেরোয়নি। এর মধ্যেই টার্মিনাল দুটিতে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব ত্রুটি সময়মতো মেরামত না করে কোম্পানি দুটি গড়িমসি করে। এর মধ্যে দুর্ঘটনার কারণে একটি টার্মিনালের সার্ভিস প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।
সামিটের টার্মিনালটি ঠিক থাকলেও সেখান থেকে কার্গো খালাস না করে পরিচালনাকারী কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি নানা যুক্তি দেখাচ্ছে। এর ফলে খেসারত হিসেবে সরকারকে বিপুল অঙ্কের জরিমানা গুনতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, এটি জনগণের সরকার। মানে, এটি আপনাদের সরকার। এই কাজ করতে গিয়ে আমরা কোনো জায়গায় দেশের স্বার্থের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করব না, ইনশাআল্লাহ।
তবে বিদ্যমান টার্মিনালগুলোর নানা সমস্যা ও এলএনজি আমদানির ব্যয়ের মধ্যেই আরও চারটি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এতে ব্যয়বহুল এলএনজি নির্ভরতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তিও হয়েছে। বাড়তি দামে আমদানি করা এলএনজির ব্যয় সামাল দিতে পেট্রোবাংলার পরামর্শে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবনা তৈরি করছে বিতরণ কোম্পানিগুলো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোশাহিদা সুলতানা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ক্ষেত্রে এলএনজির ওপর নির্ভরতা কতটা যৌক্তিক, তা ধীরস্থিরভাবে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন। কারণ এলএনজি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এর দাম দিন দিন বাড়ছে।
এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম ও চুক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রটোকল থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তার মতে, কোন সময় এসব কাজ শেষ হবে, তা নির্দিষ্টভাবে জানা থাকা উচিত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সংশ্লিষ্টদের আর্থিক পেনাল্টির আওতায় আনার বিধি-ব্যবস্থাও থাকা দরকার।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এলএনজি টার্মিনাল পরিচালনার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রটোকল থাকা দরকার। কোন কাজ কত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানার আওতায় আনারও বিধিব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। অথচ বর্তমানে উল্টো বাংলাদেশ সরকারকে এলএনজি খালাস করতে না পারার জন্য জরিমানা বহন করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকারের উচিত হবে না নতুন করে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এভাবে উল্টোরথে চললে শেষ পর্যন্ত মুখ থুবড়ে পড়তে পারে অর্থনীতির চাকা। সূত্র: চ্যানেল ২৪
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
অভ্যন্তরীণভাবে গ্যাস উত্তোলনের ব্যয় এলএনজি আমদানির তুলনায় অনেক কম। ফলে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলন এবং সরবরাহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়ার সুযোগ থাকলেও সেই ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বাপেক্সকে শক্তিশালী করার কথা বলা হলেও বাস্তবে পাইপলাইন নির্মাণে অগ্রগতি নেই। একইভাবে নতুন কূপ খনন ও গ্যাস উত্তোলনেও গতি নেই।
অন্যদিকে এলএনজি আমদানির অবকাঠামো সম্প্রসারণে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। দেশে থাকা দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের বয়স এক দশকও পেরোয়নি। এর মধ্যেই টার্মিনাল দুটিতে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব ত্রুটি সময়মতো মেরামত না করে কোম্পানি দুটি গড়িমসি করে। এর মধ্যে দুর্ঘটনার কারণে একটি টার্মিনালের সার্ভিস প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।
সামিটের টার্মিনালটি ঠিক থাকলেও সেখান থেকে কার্গো খালাস না করে পরিচালনাকারী কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি নানা যুক্তি দেখাচ্ছে। এর ফলে খেসারত হিসেবে সরকারকে বিপুল অঙ্কের জরিমানা গুনতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, এটি জনগণের সরকার। মানে, এটি আপনাদের সরকার। এই কাজ করতে গিয়ে আমরা কোনো জায়গায় দেশের স্বার্থের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করব না, ইনশাআল্লাহ।
তবে বিদ্যমান টার্মিনালগুলোর নানা সমস্যা ও এলএনজি আমদানির ব্যয়ের মধ্যেই আরও চারটি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এতে ব্যয়বহুল এলএনজি নির্ভরতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তিও হয়েছে। বাড়তি দামে আমদানি করা এলএনজির ব্যয় সামাল দিতে পেট্রোবাংলার পরামর্শে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবনা তৈরি করছে বিতরণ কোম্পানিগুলো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোশাহিদা সুলতানা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ক্ষেত্রে এলএনজির ওপর নির্ভরতা কতটা যৌক্তিক, তা ধীরস্থিরভাবে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন। কারণ এলএনজি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এর দাম দিন দিন বাড়ছে।
এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম ও চুক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রটোকল থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তার মতে, কোন সময় এসব কাজ শেষ হবে, তা নির্দিষ্টভাবে জানা থাকা উচিত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সংশ্লিষ্টদের আর্থিক পেনাল্টির আওতায় আনার বিধি-ব্যবস্থাও থাকা দরকার।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এলএনজি টার্মিনাল পরিচালনার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রটোকল থাকা দরকার। কোন কাজ কত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানার আওতায় আনারও বিধিব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। অথচ বর্তমানে উল্টো বাংলাদেশ সরকারকে এলএনজি খালাস করতে না পারার জন্য জরিমানা বহন করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকারের উচিত হবে না নতুন করে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এভাবে উল্টোরথে চললে শেষ পর্যন্ত মুখ থুবড়ে পড়তে পারে অর্থনীতির চাকা। সূত্র: চ্যানেল ২৪
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন